চট্টগ্রামে ক্রমবর্ধমান হারে বাড়ছে স্ট্রোক রোগীর সংখ্যা। চিকিৎসার জন্য নগরীতে বিশেষায়িত হাসপাতালের অভাবে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের নিউরোলজি বিভাগই একমাত্র ভরসা। বর্তমানে বিভাগটিতে ২৪ ঘণ্টা রোগী ভর্তি করা হচ্ছে, ফলে রোগীর চাপ বেড়েই চলেছে।
চমেক হাসপাতাল নিউরোলজি বিভাগের অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান ডা. মো. হাসানুজ্জামান জানান, “চট্টগ্রামে স্ট্রোক রোগের প্রকোপ বাড়ার পাশাপাশি চট্টগ্রাম মেডিকেলের নিউরোলজি ওয়ার্ডে সেবার মানও বেড়েছে। রোগীরা অনেক নতুন নতুন সেবা পাচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, “বৃহত্তর চট্টগ্রামের নোয়াখালী, চাঁদপুর, লক্ষ্মীপুর, ফেনী, কুমিল্লা, কক্সবাজার এবং তিন পার্বত্য জেলার স্ট্রোক আক্রান্ত রোগীদের জন্য একমাত্র ভরসা এই চট্টগ্রাম মেডিকেল।”
বিভাগীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩ সালে ওয়ার্ডে স্ট্রোকে আক্রান্ত ভর্তি রোগী ছিলেন ৬ হাজার ৭৭৬ জন। চলতি ২০২৪ সালের অক্টোবর পর্যন্ত স্ট্রোকে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯ হাজার ৫০০ জন। এর মধ্যে স্ট্রোক আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৬ হাজার ৮৬৯ জন।
নিউরোলজি বিভাগের চিকিৎসকরা জানান, ওয়ার্ডে অনুমোদিত শয্যা রয়েছে মাত্র ৩৩টি। রোগীর চাপ বৃদ্ধির কারণে বর্তমানে ৮৫টি শয্যা স্থাপন করা হয়েছে। ওয়ার্ডের ভেতরে ও বাইরে মিলে গড়ে শতাধিক রোগী ভর্তি থাকছে।
এ বিষয়ে একজন চিকিৎসক বলেন, “ওয়ার্ডে বেড থাকুক আর না থাকুক, আমাদের সপ্তাহে এখন ছয়দিন ২৪ ঘণ্টা ভর্তি নিতে হচ্ছে। ওয়ার্ডের ভেতরের বেড ও মেঝে ছাড়িয়ে এখন গেটের বাইরে সিঁড়ির পাশের করিডোরেও রোগীদের চিকিৎসা দিতে হচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, “রাতের বেলায় নারী চিকিৎসকদের সেখানে রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া কিছুটা ঝুঁকিপূর্ণ। কারণ গেটে দায়িত্বরত আনসার থাকে, ওয়ার্ডের ভেতরে নিরাপত্তার জন্য।”
এছাড়াও মেঝেতে রোগী থাকায় নিয়মিত চিকিৎসা রাউন্ডে রোগীদের ফলোআপ করতে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। গেটের বাইরে রোগীদের জরুরি প্রয়োজনের অক্সিজেন সরবরাহ করাও সম্ভব হচ্ছে না।
এ অবস্থায়, চট্টগ্রামে স্ট্রোকের চিকিৎসায় একটি মানসম্মত বিশেষায়িত হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।