সোমবার, ১৯ জানুয়ারি ২০২৬

সর্বশেষ

চমেক হাসপাতালের বার্ন ইউনিট নির্মাণে জটিলতা কাটছে, শীঘ্রই শুরু হচ্ছে মূল কাজ

নিজস্ব প্রতিবেদক

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের বিশেষায়িত বার্ন ইউনিট প্রকল্পের কাজ অবশেষে শুরু হতে যাচ্ছে। পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র পাওয়ার পর প্রকল্পের কাজ পুনরায় শুরু হয়েছে। গত মাসে পাহাড় কাটার অভিযোগ উঠায় নির্মাণ কাজ সাময়িক বন্ধ ছিল।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এনভায়রনমেন্টাল ইমপ্যাক্ট অ্যাসেসমেন্টের (ইআইএ) অনুমোদন পাওয়ার পর কাজ আবার শুরু হয়েছে। এর আগে টার্মস অব রেফারেন্স (টিওআর) এর অনুমোদনও নেওয়া হয়েছিল।

প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, নগরীর গোঁয়াছি বাগান এলাকার পাহাড়ের পাদদেশে বার্ন ইউনিটটি নির্মিত হচ্ছে। পাহাড় ধসের ঝুঁকি এড়াতে চীনা প্রযুক্তি ব্যবহার করে পাহাড় কেটে ঢালু করা হচ্ছে এবং কলাম বসানো হচ্ছে। পাইলিংয়ের জায়গায় উন্নতমানের ঘাস লাগানো হবে, যাতে বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা যায়। এছাড়াও, পাহাড় রক্ষার জন্য রিটেনিং দেয়াল নির্মাণ করা হবে, যা চীনা প্রকৌশলীদের ডিজাইন অনুযায়ী তৈরি হবে।

গত মাসে বার্ন ইউনিট নির্মাণের জন্য পাহাড় কাটা হচ্ছে, এমন অভিযোগ গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছিল। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অংশীজনদের সাথে মতবিনিময় করে বিষয়টি পরিষ্কার করে।

চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দীন জানান, গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদটি ভুল বোঝাবুঝির কারণে হয়েছিল। তিনি বলেন, “পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমোদনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। পাহাড় কাটা হচ্ছে না, বরং ‘সয়েল নেইলিং’ পদ্ধতিতে পাহাড়কে সুরক্ষিত করা হচ্ছে। এই পদ্ধতিতে পাহাড়ের মধ্যে পাইল ও কলাম বিম দিয়ে ঘিরে রাখা হবে, ফলে পাহাড় অক্ষত থাকবে। চট্টগ্রামে এই প্রযুক্তি আগে কখনো ব্যবহার করা হয়নি।”

তিনি আরও জানান, চীনা প্রকৌশলীদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে এবং আগামী এক মাসের মধ্যে ভবনের মূল ভিত্তির কাজ শুরু হবে।

উল্লেখ্য, ১৫০ শয্যার ‘বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ বার্ন ইউনিট চট্টগ্রাম’ প্রকল্পের চূড়ান্ত নকশা অনুমোদন চুক্তি গত ১২ জুন স্বাক্ষরিত হয়। এর আগে ৯ মে একনেক সভায় প্রকল্পটি অনুমোদন পায়। প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ২৮৪ কোটি ৭৬ লাখ ৫১ হাজার ৫৫৫ টাকা। এর মধ্যে চীন দেবে ১৭৯ কোটি ৮৩ লাখ ১৯ হাজার ৬০০ টাকা এবং সরকার দেবে ১০৪ কোটি ৯৩ লাখ ৩১ হাজার ৯৫৫ টাকা। প্রকল্পে ছয় তলা ভবন, জরুরি বিভাগ, বহির্বিভাগ, ল্যাবরেটরি, অপারেশন থিয়েটার, আইসিইউ, এইচডিইউ বেডসহ বিভিন্ন সুবিধা থাকবে।

পাঠকপ্রিয়