জনপ্রিয় চিত্রনায়ক মান্নার বর্ণাঢ্য জীবন নিয়ে সিনেমা নির্মাণের পরিকল্পনা করছেন তাঁর স্ত্রী শেলী মান্না। সিনেমার মতোই উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে যাওয়া মান্নার জীবনকাহিনি উঠে আসবে এই সিনেমায়।
ক্যারিয়ারের শুরুতে অনেক সংগ্রাম করতে হয়েছে মান্নাকে। এফডিসির অফিসপাড়ায় নিয়মিত যাতায়াত, পরিচালকদের কাছে ধরনা দেওয়া, অ্যান্টিহিরো ও পার্শ্বচরিত্রে অভিনয়- সবই করতে হয়েছে তাঁকে। তবে, নিষ্ঠা ও পরিশ্রমের ফলস্বরূপ একসময় তিনি গণমানুষের নায়কে পরিণত হন।
১৯৮৪ সালে ‘নতুন মুখের সন্ধানে’ কার্যক্রমের মাধ্যমে মান্নার রুপালি জগতে যাত্রা শুরু হয়। ১৯৮৬ সালে সিনেমায় অভিনয় শুরু করলেও, একক নায়ক হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেতে তাঁকে ১৯৯১ সাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়। মোস্তফা আনোয়ার পরিচালিত ‘কাসেম মালার প্রেম’ সিনেমায় একক নায়ক হিসেবে অভিনয় করার পর আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি তাঁকে।
জনপ্রিয়তার শীর্ষে থাকা অবস্থায় ২০০৮ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি মাত্র ৪৪ বছর বয়সে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন মান্না। তাঁর এই অকালমৃত্যু মেনে নিতে পারেনি পরিবার ও ভক্তরা। মান্নার মৃত্যুতে চিকিৎসকের অবহেলার অভিযোগ এনে ২০০৮ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর ইউনাইটেড হাসপাতালের ছয় চিকিৎসকের বিরুদ্ধে মামলা করে তাঁর পরিবার।
মান্নার মৃত্যুর ১৬ বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো নিষ্পত্তি হয়নি সেই মামলার। শেলী মান্না জানিয়েছেন, মান্নার জীবনের শেষ রহস্যটুকু উন্মোচনের জন্য তাঁরা আদালতের রায়ের অপেক্ষায় আছেন। মামলার কার্যক্রম শেষ হলেই সিনেমার কাজ পুরোদমে শুরু করতে চান তিনি।
শেলী মান্না বলেন, “মান্নার জীবন নিয়ে সিনেমা বানানোর পরিকল্পনা অনেক দিনের। একটি প্রাথমিক চিত্রনাট্যও তৈরি করা হয়েছে। কিন্তু আদালতের রায়ের জন্য অপেক্ষা করছি। তাঁর মৃত্যুর ঘটনায় যেহেতু মামলা হয়েছে, তাই শেষটা জানা প্রয়োজন। সেটি জানতে পারলেই চিত্রনাট্য সম্পূর্ণ হবে এবং একটি পরিপূর্ণ সিনেমা তৈরি করা যাবে।”
মান্নার মৃত্যুর এত বছর পরও তিনি সিনেমাপ্রেমীদের হৃদয়ে অমর হয়ে আছেন। প্রতিবছরের মতো এবারও তাঁর পরিবার ও ভক্তরা দোয়া ও মিলাদের মাধ্যমে তাঁকে স্মরণ করবেন। শেলী মান্না বলেন, “মৃত্যুবার্ষিকী বেদনার, এখানে উৎসবের কিছু নেই। প্রতিবছরের মতো পারিবারিকভাবে দোয়া করা হবে। এছাড়া, দেশজুড়ে তাঁর ভক্তরাও মিলাদ ও দোয়ার আয়োজন করবেন।”
মান্না তাঁর জীবদ্দশায় কৃতাঞ্জলি কথাচিত্র নামে একটি প্রযোজনা সংস্থা গড়ে তুলেছিলেন। সেই প্রতিষ্ঠানটিকেও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন শেলী মান্না। এরই মধ্যে ‘জ্যাম’ নামে একটি সিনেমার কাজ শুরু হলেও তা এখনো শেষ হয়নি। চলতি বছরে কাজ শেষ করে আগামী বছর সিনেমাটি মুক্তি দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
এছাড়াও, ‘জাত’ নামে আরেকটি সিনেমার জন্য সরকারি অনুদান পেয়েছেন শেলী মান্না। হরিজন সম্প্রদায়ের জীবন নিয়ে নির্মিতব্য এই সিনেমাটি পরিচালনা করবেন নারগিস আক্তার। চিত্রনাট্যের কাজ শেষ হয়েছে এবং বর্তমানে শিল্পী নির্বাচনের কাজ চলছে। আগামী এপ্রিলে মান্নার জন্মদিনে সিনেমাটির মহরত করার পরিকল্পনা রয়েছে। সিনেমা নির্মাণের পাশাপাশি কৃতাঞ্জলি থেকে একটি ওটিটি প্ল্যাটফর্ম তৈরির কথাও ভাবছেন শেলী মান্না।