সোমবার, ১৯ জানুয়ারি ২০২৬

সর্বশেষ

সীতাকুণ্ডের বক্ষব্যাধি হাসপাতাল: এক সময়ের আশ্রয়, এখন ধ্বংসস্তূপ

নিজস্ব প্রতিবেদক

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের কুমিরা রেলস্টেশনের পূর্ব পাশে পাহাড়ের টিলায় অবস্থিত রেলওয়ের পরিত্যক্ত বক্ষব্যাধি হাসপাতালটি এখন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। ব্রিটিশ আমলে নির্মিত এই হাসপাতালটি একসময় যক্ষ্মা রোগীদের জন্য আশার আলো ছিল। বর্তমানে কর্তৃপক্ষের অবহেলায় এটি জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে।

যক্ষ্মা রোগীদের চিকিৎসার জন্য ব্রিটিশ আমলে নির্মিত এই হাসপাতালটি কুমিরা রেলস্টেশনের পূর্ব পাশে পাহাড়ের টিলায় স্থাপন করা হয়। লোকালয় থেকে দূরে, স্বাস্থ্যকর পরিবেশে হাসপাতালটি নির্মাণের উদ্দেশ্য ছিল রোগীদের দ্রুত আরোগ্য লাভ। ১৯৯২ সালে হাসপাতালটি চট্টগ্রাম শহরের সিআরবি এলাকায় রেলওয়ে হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। এরপর থেকেই কুমিরার এই ভবনটি পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, হাসপাতাল ভবনটির দরজা-জানালা কিছুই অবশিষ্ট নেই। দেয়ালের ইট, এমনকি খুঁটির রডও খুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে নিরাপত্তা প্রহরী না থাকায়, দুষ্কৃতকারীরা অবাধে এই ধ্বংসযজ্ঞ চালাচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের উদাসীনতার কারণেই হাসপাতালটির এই বেহাল দশা।

একসময় এই হাসপাতালটি এলাকার যক্ষ্মা রোগীদের একমাত্র ভরসা ছিল। কিন্তু এখন এটি অরক্ষিত অবস্থায় থাকায় দুষ্কৃতকারীরা মূল্যবান সম্পদ লুট করে নিয়ে যাচ্ছে। রেলওয়ের ভূ-সম্পত্তি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, হাসপাতালটির জমির পরিমাণ প্রায় ১০ একর। মৌজা দর অনুযায়ী এর দাম ২ কোটি ৮০ লাখ টাকা। তবে স্থানীয়দের মতে, বাজারদর অনুযায়ী এই জমির মূল্য প্রায় ৯ কোটি টাকা। হাসপাতালসহ সংলগ্ন এলাকার মোট জমির পরিমাণ ৪০ একর, যার বাজারমূল্য ১১ কোটি ২০ লাখ টাকার বেশি।

রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের বিভাগীয় প্রকৌশলী আবদুল হানিফ জানান, ভবনটি পাহারার জন্য আনসার সদস্য নিয়োগ করলে মাসে এক লাখ টাকা খরচ হবে, কিন্তু এতে রেলওয়ের কোনো আয় হবে না। তাই জায়গাটি ইজারা দেওয়াই একমাত্র সমাধান। কয়েকবার ইজারা দেওয়ার চেষ্টা করা হলেও, নানা কারণে তা সম্ভব হয়নি। তিনি আরও জানান, এই মূল্যবান জায়গাটি নিয়ে আপাতত রেলওয়ের কোনো সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নেই।

গত বছরের মে মাসে একটি বেসরকারি হাসপাতালের সঙ্গে জায়গাটি ইজারা দেওয়ার ব্যাপারে আলোচনা হয়েছিল। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জায়গাটি পরিদর্শনও করেছিলেন। কিন্তু এরপর আর কোনো অগ্রগতি হয়নি বলে জানিয়েছেন রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের প্রধান চিকিৎসা কর্মকর্তা ইবনে সফি আবদুল আহাদ।

সীতাকুণ্ডের এই পরিত্যক্ত হাসপাতালটি কেবল একটি ভবন নয়, এটি ইতিহাসের একটি অংশ। কর্তৃপক্ষের অবহেলা ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে এই ঐতিহ্যবাহী স্থাপনাটি আজ ধ্বংসের মুখে। মূল্যবান এই সম্পদ রক্ষা করতে এবং জনস্বার্থে এর ব্যবহার নিশ্চিত করতে রেলওয়ের দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

পাঠকপ্রিয়