সোমবার, ১৯ জানুয়ারি ২০২৬

সর্বশেষ

এক-দুটি ছবি দিয়ে ইন্ডাস্ট্রি চলে না’: কক্সবাজারে এসে বললেন রোজিনা

ট্রেনে চড়ে ৩৪ বছর পর কক্সবাজারে রোজিনা, স্মৃতি ও বিস্ময়ে মোড়ানো অভিজ্ঞতা

নিজস্ব প্রতিবেদক

দীর্ঘ ৩৪ বছর পর অবকাশ যাপন ও ফটোশুটের জন্য কক্সবাজারে পা রাখলেন চিত্রনায়িকা রোজিনা। সবশেষ ১৯৯১ সালে একটি সিনেমার শুটিংয়ের জন্য সাগরপাড়ের এই শহরে এসেছিলেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (২৪ এপ্রিল) সকালে তিনি ঢাকা থেকে ট্রেনে চড়ে কক্সবাজারে পৌঁছান। আকাশপথে না গিয়ে ট্রেনে ভ্রমণ করার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।

৩৪ বছর পর ফিরে এসে ব্যাপক পরিবর্তনে একদিকে যেমন উচ্ছ্বসিত, তেমনই পরিচিত জায়গাগুলোর পরিবর্তিত রূপ দেখে কিছুটা স্মৃতিকাতরও হয়েছেন এই অভিনেত্রী।

বৃহস্পতিবার বিকালে রোজিনা বলেন, “কোনো জায়গা তো ঠিকমতো চিনছি না। এত হোটেল-রিসোর্ট, অবকাঠামো! পরিবর্তন হবে ধারণা ছিল, তাই বলে এতটা হবে, চিন্তায় ছিল না। তবে একটু কষ্টও পাচ্ছি, প্রিয় জায়গাগুলোতে এত স্মৃতি, কিছুই যেন নেই।”

ট্রেন ভ্রমণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “বাসার (উত্তরা) পাশে স্টেশন, তেমন আসা হয়নি। এবার চিন্তা করলাম ট্রেনে যাব। এসি কামরা বেশ আরামদায়ক ছিল। আমাদের দেশে এত নদী-হাওর-খাল-বিল, জার্নিতে ট্রেনের জানালা দিয়ে মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে থেকেছি। অনেকে ছবি তুলেছেন, স্মৃতিচারণা করেছেন। বিকেলে কক্সবাজার স্টেশনে নেমে ভ্রমণক্লান্তি একদম কেটে গেল। স্টেশনটা বেশ সুন্দর করে সাজানো হয়েছে।”

নব্বইয়ের দশকে শুটিংয়ের প্রয়োজনে প্রায় প্রতি বছরই, বিশেষ করে সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাসে, কক্সবাজারে যেতে হতো রোজিনাকে। অনেক ব্যবসাসফল চলচ্চিত্রের শুটিংও হয়েছে সেখানে। তিনি বলেন, “তখন কত দিন–রাত কেটেছে শুটিংয়ে। কত আড্ডা-গল্প! চলচ্চিত্রের সোনালি দিনগুলো মনে পড়ছে।”

কক্সবাজারের সঙ্গে জড়িয়ে আছে তার কষ্টের স্মৃতিও। ১৯৯১ সালে সর্বশেষ যে সিনেমার শুটিং করেছিলেন, তাতে তার সহশিল্পী ছিলেন চিত্রনায়ক জাফর ইকবাল। কক্সবাজারে শুটিং শেষে ঢাকায় ফেরার সপ্তাহ দুয়েক পর মারা যান তিনি।

রোজিনা বলেন, “সুস্থ মানুষটা ঢাকায় এসে মারা গেল! একসঙ্গে শুটিং করলাম… শেষ কাজের কত স্মৃতি।”

কাজের চাপে ক্লান্ত হয়ে ১৯৯৬ সালে চলচ্চিত্র ছেড়ে লন্ডনে পাড়ি জমান রোজিনা। ১০ বছর পর ২০০৬ সালে ফেরদৌসের বিপরীতে ‘রাক্ষুসী’ সিনেমার মাধ্যমে ফেরেন। এরপর দীর্ঘ বিরতি দিয়ে ২০২৩ সালে ‘ফিরে দেখা’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে পরিচালক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন।

চলচ্চিত্র নির্মাণ ও প্রযোজনায় নিয়মিত হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করে তিনি বলেন, “আমি তো চলচ্চিত্রের মানুষ। এখানেই থাকতে চাই। নির্মাণ ও প্রযোজনা নিয়ে অনেক পরিকল্পনা আছে। সবকিছু ঠিক থাকলে শিগগিরই সবাইকে জানাব।”

সাম্প্রতিক ঈদে মুক্তি পাওয়া কয়েকটি চলচ্চিত্রের সাফল্যে তিনি আনন্দিত। তবে তার মতে, ইন্ডাস্ট্রির ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য এটি যথেষ্ট নয়। রোজিনা বলেন, “বছরে পাঁচ থেকে সাতটি ব্যবসাসফল সিনেমা প্রয়োজন। এক–দুটি দিয়ে ইন্ডাস্ট্রি চলতে পারে না।”

কয়েক দিন কক্সবাজারে অবকাশ যাপন এবং কয়েকটি ফটোশুট শেষে ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে এই অভিনেত্রীর।

পাঠকপ্রিয়