সোমবার, ১৯ জানুয়ারি ২০২৬

সর্বশেষ

হাজার কোটি টাকার দাবি মেটাতে পারছে না কোম্পানি

দুর্বল বীমা কোম্পানির মালিকানা নেবে সরকার, আসছে নতুন অধ্যাদেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক

বীমা গ্রাহকদের স্বার্থ রক্ষা ও সময়মতো দাবি নিষ্পত্তি নিশ্চিত করতে দুর্বল বীমা কোম্পানির মালিকানা নেওয়া, পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দেওয়া এবং প্রয়োজনে তা বিক্রি করে দেওয়ার ক্ষমতা পাচ্ছে সরকার।

এ লক্ষ্যে ‘বীমাকারীর রেজল্যুশন অধ্যাদেশ-২০২৫’-এর খসড়া তৈরি করেছে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)। বিভিন্ন পক্ষের মতামতের জন্য অধ্যাদেশের খসড়াটি আগামী সপ্তাহে প্রকাশ করা হবে।

আইডিআরএ জানিয়েছে, বর্তমানে ৩২টি জীবন বীমা কোম্পানিতে ১১ লাখের বেশি গ্রাহকের প্রায় সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকার দাবি আটকে আছে। অনেক কোম্পানি আইন অনুযায়ী পলিসির মেয়াদ পূর্তির ৯০ দিনের মধ্যে দাবি নিষ্পত্তি করছে না। এই সংকট নিরসনে এবং বীমা খাতে আস্থা ফেরাতে নতুন আইনটি করা হচ্ছে।

খসড়া অধ্যাদেশ অনুযায়ী, কোনো বীমা কোম্পানি সংকটে পড়লে সরকার বা আইডিআরএ তার সাময়িক মালিকানা নিতে পারবে, প্রশাসক নিয়োগ করতে পারবে এবং বিদ্যমান চেয়ারম্যান বা পরিচালকদের অপসারণ করতে পারবে। পরবর্তীতে ওই প্রতিষ্ঠানের শেয়ার তৃতীয় পক্ষের কাছে বিক্রি বা অন্য কোনো কোম্পানির সঙ্গে একীভূতও করা যাবে।

এ বিষয়ে আইডিআরএ’র সদস্য মো. আপেল মাহমুদ বলেন, “বীমা রেজল্যুশন অধ্যাদেশের খসড়ার প্রাথমিক উদ্দেশ্য পলিসিধারীর স্বার্থ রক্ষা করা। বীমা খাতে আইনি পদক্ষেপের বিষয়ে এতদিন সুনির্দিষ্ট কোনো গাইডলাইন ছিল না। এ অধ্যাদেশের ফলে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া যাবে এবং বীমা খাতে আস্থা ফিরে আসবে।”

আইডিআরএ সূত্র জানিয়েছে, এই অধ্যাদেশের আলোকে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য এরই মধ্যে সমস্যাগ্রস্ত ১৫টি জীবন বীমা কোম্পানিতে বিশেষ নিরীক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। নিরীক্ষা প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে এসব প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

বিশেষ নিরীক্ষার আওতায় থাকা ১৫টি জীবন বীমা কোম্পানি হলো- সানফ্লাওয়ার লাইফ, ফারইস্ট ইসলামী লাইফ, সানলাইফ, পদ্মা ইসলামী লাইফ, প্রগ্রেসিভ লাইফ, প্রটেক্টিভ ইসলামী লাইফ, বেস্ট লাইফ, হোমল্যান্ড লাইফ, প্রাইম ইসলামী লাইফ, যমুনা লাইফ, ডায়মন্ড লাইফ, স্বদেশ লাইফ, গোল্ডেন লাইফ, বায়রা লাইফ ও এনআরবি ইসলামিক লাইফ ইন্স্যুরেন্স।

পাঠকপ্রিয়