দাতা দেশগুলোর, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের অনুদান আশঙ্কাজনক হারে কমে যাওয়ায় বাংলাদেশের রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরের শিশুশিক্ষা ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে বলে জানিয়েছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)।
বৃহস্পতিবার (২৬ জুন) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে সংস্থাটি বলেছে, তহবিল সংকটের কারণে এরই মধ্যে অসংখ্য শিক্ষাকেন্দ্র বন্ধ হয়ে গেছে, যার ফলে শিশুরা সশস্ত্র গোষ্ঠী ও অপরাধ চক্রের সহজ লক্ষ্যে পরিণত হচ্ছে।
এইচআরডব্লিউ জানায়, চলতি মাসের তিন তারিখে ইউনিসেফ রোহিঙ্গা শিবিরে এনজিও পরিচালিত বহু ‘লার্নিং সেন্টার’ বন্ধ করে দিয়েছে। এর ফলে ৩ লাখের বেশি শিক্ষার্থীর পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যায়। এখন শিবিরের প্রায় ৪ লাখ ৩৭ হাজার শিশুর শিক্ষার জন্য মূলত রোহিঙ্গাদের নিজেদের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত স্কুলগুলোই চালু রয়েছে, যেগুলোর কোনো সরকারি স্বীকৃতি নেই।
প্রতিবেদনে বলা হয়, তহবিল সংকটের মূল কারণ যুক্তরাষ্ট্রের অনুদান হ্রাস। যেখানে ২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্র ৩০ কোটি ডলার অনুদান দিয়েছিল, সেখানে চলতি বছরের জুন মাস পর্যন্ত তা মাত্র ১ কোটি ২০ লাখ ডলারে নেমে এসেছে।
শিক্ষা-সংকটের পাশাপাশি শিশুদের ওপর নিরাপত্তা ঝুঁকিও বেড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। অপহরণ, মানবপাচার এবং সশস্ত্র গোষ্ঠীর দ্বারা জোরপূর্বক দলে টেনে নেওয়ার মতো ঘটনা বাড়ছে। শুধু ২০২৫ সালের প্রথম তিন মাসেই ৫১টি শিশু অপহরণের তথ্য রেকর্ড করা হয়েছে।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচের শিশু অধিকারবিষয়ক পরিচালক বিল ভ্যান এসভেলড বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র এবং অনুদান দিয়ে আসা অন্যান্য দেশ রোহিঙ্গা শিশুদের পড়াশোনার বিষয়টি যেন ভুলে যাচ্ছে। পুরো এক প্রজন্ম শিশুর ঝরে পড়া ঠেকাতে রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের পাশে বৈশ্বিক দাতাদের থাকা উচিত।”
তিনি বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতিও সবার শিক্ষার অধিকার রক্ষায় সচেষ্ট হওয়ার আহ্বান জানান।
প্রতিবেদনে পরামর্শ দেওয়া হয়, শরণার্থী শিবিরের বাইরের স্কুলগুলোতেও রোহিঙ্গা শিশুদের পড়াশোনার সুযোগ দেওয়ার জন্য বাংলাদেশ সরকারের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।