সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সর্বশেষ

নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত: ৮ বছরে মাইন বিস্ফোরণে হতাহত ৫৭, বাড়ছে আতঙ্ক

👤
নিজস্ব প্রতিবেদক
0 Shares
f

বান্দরবানের মিয়ানমার সীমান্তে পেতে রাখা স্থলমাইন বিস্ফোরণের ঘটনা বেড়েই চলেছে, যা স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য এক নীরব মানবিক সংকট তৈরি করেছে। পুলিশ ও স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, গত সাড়ে আট বছরে নাইক্ষ্যংছড়ি ও রুমা উপজেলায় মাইন বিস্ফোরণে অন্তত ৫৭ জন হতাহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ৪৪ জনই তাদের পা হারিয়েছেন।

এই ভুক্তভোগীদের একজন নাইক্ষ্যংছড়ির চেরারমাঠ এলাকার বদি আলম। ২০১৮ সালে মিয়ানমার সীমান্তে ঝাড়ুফুল সংগ্রহ করতে গিয়ে স্থলমাইন বিস্ফোরণে তিনি তার দুটি পা-ই হারান। এরপর থেকে কর্মহীন বদি আলম তার পাঁচ ছেলেমেয়ে নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

একইভাবে, চাকঢালা এলাকার ফরিদুল আলম ২০১৭ সালে মাত্র ১৬ বছর বয়সে মাইন বিস্ফোরণে একটি পা হারান। তিনি এখন কৃত্রিম পায়ের সাহায্যে চললেও কোনো ভারী কাজ করতে পারেন না। অসহায় জীবন কাটানো এসব ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবার একদিকে চিকিৎসার ব্যয় মেটাতে গিয়ে নিঃস্ব হচ্ছেন, অন্যদিকে কর্মহীন হয়ে পরিবারের বোঝায় পরিণত হয়েছেন।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা জানান, ২০১৭ সালে রোহিঙ্গা ঢলের পর থেকেই সীমান্তে মাইন বিস্ফোরণের ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যায়। সম্প্রতি মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর বদলে দেশটির সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মি (এএ) নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়েছে।

জেলা পুলিশের বিশেষ শাখার তথ্য অনুযায়ী, শুধু চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ছয় মাসেই নাইক্ষ্যংছড়িতে ১৩ জন পা হারিয়েছেন। এর আগে ২০২৩ সালে ১০ জন এবং ২০২২ সালে ৪ জন পা হারান। ২০১৭ সাল থেকে এ পর্যন্ত মাইন বিস্ফোরণে মোট ৫ জন নিহত হয়েছেন, যাদের তিনজনই রোহিঙ্গা।

এ বিষয়ে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) রামু সেক্টরের অধিনায়ক কর্নেল মোহাম্মদ মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, “মাইন বিস্ফোরণগুলো সীমান্তের শূন্যরেখার ওপারে মিয়ানমারের ভূখণ্ডে হচ্ছে। বিজিবির টহল ফাঁকি দিয়ে অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম করার কারণেই লোকজন হতাহত হচ্ছেন। আমরা সীমান্ত এলাকার মানুষকে সবসময় সতর্ক করছি।”

তিনি আরও বলেন, “আগে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটলে মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর কাছে প্রতিবাদ জানানো যেত। কিন্তু এখন সীমান্তের পরিস্থিতি বদলে যাওয়ায় এবং মিয়ানমার ‘মাইন নিষিদ্ধকরণ চুক্তি’তে স্বাক্ষর না করায় আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদের সুযোগও সীমিত। তাই নিজেদেরই সতর্ক থাকতে হবে।”

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

পাঠকপ্রিয়

যোগাযোগ: সুপ্রিম মার্কেট, ৩য় তলা , ৩২, এন এ চৌধুরী রোড,  আন্দরকিল্লা , চট্টগ্রাম।
ইমেইল : news@banglarpatrika.com
মোবাইল: ০১৭১১-৮৩০৮৭৩

নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত: ৮ বছরে মাইন বিস্ফোরণে হতাহত ৫৭, বাড়ছে আতঙ্ক

নিজস্ব প্রতিবেদক
১ জুলাই ২০২৫, ১৬:৪৪

বান্দরবানের মিয়ানমার সীমান্তে পেতে রাখা স্থলমাইন বিস্ফোরণের ঘটনা বেড়েই চলেছে, যা স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য এক নীরব মানবিক সংকট তৈরি করেছে। পুলিশ ও স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, গত সাড়ে আট বছরে নাইক্ষ্যংছড়ি ও রুমা উপজেলায় মাইন বিস্ফোরণে অন্তত ৫৭ জন হতাহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ৪৪ জনই তাদের পা হারিয়েছেন।

এই ভুক্তভোগীদের একজন নাইক্ষ্যংছড়ির চেরারমাঠ এলাকার বদি আলম। ২০১৮ সালে মিয়ানমার সীমান্তে ঝাড়ুফুল সংগ্রহ করতে গিয়ে স্থলমাইন বিস্ফোরণে তিনি তার দুটি পা-ই হারান। এরপর থেকে কর্মহীন বদি আলম তার পাঁচ ছেলেমেয়ে নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

একইভাবে, চাকঢালা এলাকার ফরিদুল আলম ২০১৭ সালে মাত্র ১৬ বছর বয়সে মাইন বিস্ফোরণে একটি পা হারান। তিনি এখন কৃত্রিম পায়ের সাহায্যে চললেও কোনো ভারী কাজ করতে পারেন না। অসহায় জীবন কাটানো এসব ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবার একদিকে চিকিৎসার ব্যয় মেটাতে গিয়ে নিঃস্ব হচ্ছেন, অন্যদিকে কর্মহীন হয়ে পরিবারের বোঝায় পরিণত হয়েছেন।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা জানান, ২০১৭ সালে রোহিঙ্গা ঢলের পর থেকেই সীমান্তে মাইন বিস্ফোরণের ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যায়। সম্প্রতি মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর বদলে দেশটির সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মি (এএ) নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়েছে।

জেলা পুলিশের বিশেষ শাখার তথ্য অনুযায়ী, শুধু চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ছয় মাসেই নাইক্ষ্যংছড়িতে ১৩ জন পা হারিয়েছেন। এর আগে ২০২৩ সালে ১০ জন এবং ২০২২ সালে ৪ জন পা হারান। ২০১৭ সাল থেকে এ পর্যন্ত মাইন বিস্ফোরণে মোট ৫ জন নিহত হয়েছেন, যাদের তিনজনই রোহিঙ্গা।

এ বিষয়ে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) রামু সেক্টরের অধিনায়ক কর্নেল মোহাম্মদ মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, “মাইন বিস্ফোরণগুলো সীমান্তের শূন্যরেখার ওপারে মিয়ানমারের ভূখণ্ডে হচ্ছে। বিজিবির টহল ফাঁকি দিয়ে অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম করার কারণেই লোকজন হতাহত হচ্ছেন। আমরা সীমান্ত এলাকার মানুষকে সবসময় সতর্ক করছি।”

তিনি আরও বলেন, “আগে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটলে মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর কাছে প্রতিবাদ জানানো যেত। কিন্তু এখন সীমান্তের পরিস্থিতি বদলে যাওয়ায় এবং মিয়ানমার ‘মাইন নিষিদ্ধকরণ চুক্তি’তে স্বাক্ষর না করায় আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদের সুযোগও সীমিত। তাই নিজেদেরই সতর্ক থাকতে হবে।”