আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI) ব্যবহার করে অপতথ্য, গুজব ও বিদ্বেষ ছড়ানোর বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, বাংলাদেশে ডিজিটাল মিডিয়া শিক্ষার অভাব এবং এই প্রযুক্তি মোকাবিলায় সুনির্দিষ্ট আইনি কাঠামোর দুর্বলতার কারণে এই ঝুঁকি আরও প্রকট।
এই উদ্বেগ এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন নির্বাচন কমিশনের (ইসি) প্রকাশিত ‘সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা ২০২৫’-এর খসড়ায় এআই ব্যবহারের বিষয়ে কোনো স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়নি।
এই পরিস্থিতিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিনও আগামী নির্বাচনে এআইয়ের অপব্যবহারকে একটি বড় হুমকি হিসেবে দেখছেন। মঙ্গলবার (৮ জুলাই) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে কানাডার হাইকমিশনার অজিত সিংয়ের সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি এই উদ্বেগের কথা জানিয়ে কানাডার কাছে সহায়তা চেয়েছেন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আগামী নির্বাচনে এআই ব্যবহার করে ডিপফেক ভিডিওর মাধ্যমে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে হেয় করা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বট অ্যাকাউন্ট দিয়ে গুজব ছড়ানো এবং সংবাদের ভুয়া ওয়েবসাইট তৈরি করে সাধারণ ভোটারদের বিভ্রান্ত করার আশঙ্কা রয়েছে।
ফ্রান্সভিত্তিক সংবাদ সংস্থা এএফপির বাংলাদেশবিষয়ক ফ্যাক্ট চেক সম্পাদক ইয়ামিন সাজিদ বলেন, “আগামী জাতীয় নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষে-বিপক্ষে প্রচার-অপপ্রচারের প্রধান হাতিয়ার হবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। এআই দিয়ে তৈরি অডিও, ভিডিও এবং ছবি সাধারণ জনগণের পক্ষে শনাক্ত করা প্রায় অসম্ভব।”
বেসরকারি ফ্যাক্টচেকিং প্রতিষ্ঠান ডিসমিসল্যাবের এক সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, শুধু গত ১৮ থেকে ২৮ জুন পর্যন্ত ১০ দিনেই ফেসবুক থেকে সংগ্রহ করা ৭০টি ভিডিও বিশ্লেষণ করে তারা নিশ্চিত হয়েছেন যে, এগুলো এআই দিয়ে তৈরি।
তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ সুমন আহমেদ সাবির বলেন, “এআইয়ের অপব্যবহার রোধে সাধারণ মানুষের সচেতনতা বাড়ানো এবং নির্বাচন কমিশন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর যথাযথ মনিটরিং থাকা দরকার।”
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্যপ্রযুক্তি ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক বিএম মইনুল হোসেন বলেন, “নির্বাচনী আচরণ বিধিমালায় এআই-বিষয়ক নির্দেশনা থাকার পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনের একটি মনিটরিং সেল থাকা দরকার। এআই-সংক্রান্ত সমন্বিত পরিকল্পনা না থাকায় বাংলাদেশ অনেক পিছিয়ে আছে।”
এদিকে, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব জানিয়েছেন, সরকার এআই সংক্রান্ত পলিসি তৈরির জন্য কাজ করছে।