দেশের সবচেয়ে আকর্ষণীয় ও ব্যয়বহুল কক্সবাজার আইকনিক রেলস্টেশনটি উদ্বোধনের দেড় বছরের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও দুটি বড় সংকটে জর্জরিত হয়ে পড়েছে: এটি একদিকে ইয়াবা পাচারের একটি সুবিধাজনক রুটে পরিণত হয়েছে এবং অন্যদিকে ১৮ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হলেও এখানে ন্যূনতম যাত্রী সেবা চালু হয়নি।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর প্রায়ই এই স্টেশন দিয়ে ইয়াবা পাচারের তথ্য পাচ্ছে এবং গত ছয় মাসে ২০টির বেশি অভিযানে ২০ হাজারের বেশি ইয়াবা উদ্ধার করেছে বলে জানিয়েছে।
অধিদপ্তরের কক্সবাজার কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. সিরাজুল মোস্তফা বলেন, স্টেশনে স্ক্যানিং যন্ত্র না থাকায় অনেক চালান ধরা সম্ভব হচ্ছে না, যদিও একটি স্ক্যানার স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তবে জেলা পুলিশের মুখপাত্র মো. জসিম উদ্দিন চৌধুরী দাবি করেছেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি বাড়ায় রেলপথে মাদক পাচার অনেকটাই কমে এসেছে।
অপরদিকে, যাত্রীসেবার ক্ষেত্রে স্টেশনটির অবস্থা হতাশাজনক। ২০১৮ সালে শুরু হওয়া এই মেগা প্রকল্পের স্টেশন ভবনে শপিং মল, তারকা মানের হোটেল, রেস্তোরাঁ, শিশু যত্ন কেন্দ্র এবং লাগেজ স্ক্যানারসহ বিশ্বমানের সব সুবিধা অন্তর্ভুক্ত থাকলেও এর কোনোটিই এখন পর্যন্ত চালু হয়নি।
স্টেশনের ব্যবস্থাপক গোলাম রব্বানী জানিয়েছেন, নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান এখনো ভবনটি রেল কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তরই করেনি। ফলে যাত্রীদের জন্য পর্যাপ্ত বসার জায়গা, নামাজ বা টয়লেটের সুব্যবস্থা নেই।
টিকিট কালেক্টর শরীফুল ইসলাম জানান, স্ক্যানার না থাকায় লাগেজ তল্লাশি নিয়ে যাত্রীদের সঙ্গে প্রায়ই বচসা হয়।
নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান ম্যাক্স ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেডের প্রকৌশলী রাসেল মিয়া জানিয়েছেন, তারা কাজ শেষ করেছেন এবং আগামী সেপ্টেম্বরে ভবনটি রেলওয়ের কাছে হস্তান্তর করা হবে, যার পর পরিষেবাগুলো চালু হবে বলে আশা করা যায়।