পা দিলেই দুলে ওঠে, কোথাও হেলে পড়েছে, কোথাও বা ভেঙে গেছে কাঠ-বাঁশের কাঠামো। এমন একটি জীর্ণ সাঁকোই রাঙামাটি শহরের চারটি গ্রামের প্রায় দেড় হাজার মানুষের যাতায়াতের একমাত্র ভরসা। সম্প্রতি পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টিতে কাপ্তাই হ্রদের পানি বাড়ায় সাঁকোটি পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় ভোগান্তি পৌঁছেছে চরমে।
রাঙামাটির ভেদভেদী আনসার ক্যাম্প থেকে উলুছড়া গ্রামে যাওয়ার এই সাঁকোটি দিয়ে উলুছড়া, আলুটিলা, নতুনপাড়া ও কাটাছড়ি নিচপাড়া গ্রামের বাসিন্দারা চলাচল করেন। প্রায় ১০ বছর আগে স্থানীয়দের উদ্যোগে ও পৌরসভার কিছু অনুদানে এটি নির্মিত হলেও দুই বছরের মধ্যেই ভেঙে পড়ে। এরপর থেকে প্রতিবছর গ্রামবাসীরাই চাঁদা তুলে সাঁকোটি সংস্কার করে আসছেন।
বর্ষা মৌসুমে কাপ্তাই হ্রদের পানি বাড়লে প্রতিবছরই পারাপারে বিপত্তি দেখা দেয়। এ বছর সাঁকোটির বিভিন্ন অংশ প্রায় তিন-চার ফুট পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় ঝুঁকি আরও বেড়েছে। ঝুঁকি নিয়েই এর ওপর দিয়ে চলাচল করতে গিয়ে প্রায়ই পা ফসকে হ্রদের পানিতে পড়ছেন অনেকে।
উলুছড়া গ্রামের বাসিন্দা বিমল চাকমা জানান, তাদের গ্রামে যাতায়াতের এটিই একমাত্র পথ। এখন সাঁকোটি পানির নিচে থাকায় স্কুলপড়ুয়া শিক্ষার্থী, বয়স্ক ব্যক্তি ও রোগীদের ঝুঁকি নিয়ে পার হতে হচ্ছে।
গ্রামটির কার্বারি (গ্রামপ্রধান) রবিধন চাকমা বলেন, “আমাদের কেনাকাটা, চিকিৎসা, স্কুলে যাওয়া—সবকিছুই এই পথে গিয়ে করতে হয়। এখন সাঁকোটি তলিয়ে যাওয়ায় চরম ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কোথায় গেলে এর সমাধান পাব, তা জানা নেই। আমরা সেতু নির্মাণে সরকারের সহযোগিতা চাই।”
এ বিষয়ে জানতে চাইলে রাঙামাটি পৌরসভার প্রশাসক ও জেলা প্রশাসনের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক মো. মোবারক হোসেন বলেন, তিনি সাঁকোটির বিষয়ে আগে কারও কাছ থেকে শোনেননি। বিষয়টি সম্পর্কে খোঁজখবর নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।