সোমবার, ১৯ জানুয়ারি ২০২৬

সর্বশেষ

ভিডিওতে প্রমাণ থাকার পরও এক বছরে ধরা পড়েনি চট্টগ্রামের ২৭ অস্ত্রধারী

নিজস্ব প্রতিবেদক

গত বছরের জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের সময় চট্টগ্রামে ছাত্র-জনতার ওপর প্রকাশ্যে গুলি চালানো শনাক্ত হওয়া ৪৬ জন অস্ত্রধারীর মধ্যে ২৭ জনই এক বছর পরও অধরা রয়ে গেছে। যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের এসব নেতা-কর্মীর ব্যবহৃত অস্ত্রের মধ্যে মাত্র দুটি উদ্ধার করতে পেরেছে পুলিশ, যা নিয়ে নাগরিক সমাজে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

গত বছরের ১৬ জুলাই নগরের মুরাদপুর এলাকায় সংঘর্ষের সময় পিস্তল হাতে যুবলীগ নেতা হেলাল আকবর চৌধুরী বাবর, কাটাবন্দুক হাতে সন্ত্রাসী মো. ফিরোজ এবং শটগান হাতে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা মো. দেলোয়ারকে দেখা যায়। এদের মধ্যে শুধু ফিরোজ গ্রেপ্তার হলেও বাবরসহ অন্যরা পলাতক, এবং কেউ কেউ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও সক্রিয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

একইভাবে ১৮ জুলাই বহদ্দারহাট এলাকায় স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা মহিউদ্দিন ফরহাদ, যুবলীগ কর্মী মো. তৌহিদসহ বেশ কয়েকজনকে আগ্নেয়াস্ত্র হাতে দেখা যায়। পুলিশের ভাষ্যমতে, শুধু তৌহিদুল একাই সেদিন ২৮টি গুলি চালিয়েছিলেন। এই ঘটনায় জড়িত কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হলেও তাদের অস্ত্র উদ্ধার হয়নি।

এরপর ৪ আগস্ট নগরের নিউমার্কেট ও সিআরবি এলাকায় যুবলীগ ক্যাডার মো. শামীম, মোস্তফা কামাল, ইকবাল হোসেন এবং ছাত্রলীগের সাবেক নেতা ফরহাদুল ইসলাম চৌধুরী রিন্টুকে প্রকাশ্যে গুলি চালাতে দেখা যায়। সেদিন সিআরবি এলাকায় গুলিতে সাইফুল ইসলাম ও মো. হাসান নামে দুজন আন্দোলনকারী নিহত হন। এসব অস্ত্রধারীর কেউই এখনো গ্রেপ্তার হয়নি।

সব মিলিয়ে চট্টগ্রামে গণ-অভ্যুত্থানের ঘটনায় হওয়া ৬৯টি মামলার (১৫টি হত্যা মামলা) ২১ হাজারের বেশি আসামির মধ্যে এক বছরে মাত্র ১,২০১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যা মোট আসামির ৫ শতাংশ। এখন পর্যন্ত কেবল একটি মামলার অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে।

নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার মাহমুদা বেগম বলেন, “অস্ত্রগুলো হাতবদল হওয়ায় উদ্ধারে সময় লাগছে। অস্ত্রধারীদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত আছে।”

প্রকাশ্যে গুলি চালানো অস্ত্রধারীদের এক বছরেও গ্রেপ্তার করতে না পারায় উদ্বেগ জানিয়ে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) চট্টগ্রামের সাধারণ সম্পাদক আখতার কবির চৌধুরী বলেন, “অস্ত্রধারীরা ধরা না পড়লে মানুষের আতঙ্ক কাটবে না।”

পাঠকপ্রিয়