মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে আরাকান আর্মি ও সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে নতুন করে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ায় আবারও বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশ শুরু হয়েছে। গত কয়েকদিনে শতাধিক রোহিঙ্গা কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফে আশ্রয় নিয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে।
এ পরিস্থিতি এমন এক সময়ে তৈরি হয়েছে, যখন প্রত্যাবাসন নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের আসন্ন কক্সবাজার সফরকে ঘিরে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে।
বিভিন্ন সীমান্ত পথ দিয়ে দালালের মাধ্যমে ধাপে ধাপে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে ঢুকছে। কলাগাছের ভেলায় চড়ে নাফ নদ পাড়ি দিয়েও আসছে অনেকে। সীমান্তে দুই হাজারের বেশি রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের জন্য জড়ো হয়েছে বলে জানা গেছে। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সীমান্তে নজরদারি কঠোর করায় অনুপ্রবেশের হার কিছুটা কমলেও তা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি।
প্রায় আট বছরে একজন রোহিঙ্গাকেও মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো সম্ভব হয়নি। এ অবস্থায় নতুন অনুপ্রবেশ সংকটকে আরও ঘনীভূত করছে। রোহিঙ্গা কমিউনিটির সংগঠন ‘কমিটি ফর পিস অ্যান্ড রিপ্যাট্রিয়েশন’ (আরসিপিআর) এর সভাপতি দীল মোহাম্মদ বলেন, “আমাদের একটি কথাই চূড়ান্ত—তা হচ্ছে আরাকানে ফিরে যাওয়া। শরণার্থীজীবনের ইতি টেনে নিজ দেশে যাওয়া ছাড়া গত্যন্তর নেই।”
তিনি দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ইস্যুতে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান ড. মুহাম্মদ ইউনূসের প্রতি আস্থা রাখার কথা জানান। দীল মোহাম্মদ বলেন, মিয়ানমারের নোবেলজয়ী নেত্রী অং সান সু চির শাসনামলে রোহিঙ্গারা ব্যাপক নির্যাতনের শিকার হয়েছিল। এখন বাংলাদেশের নোবেলজয়ীর মাধ্যমে জাতিসংঘ তাদের ন্যায্য অধিকার ও প্রত্যাবাসনের ব্যবস্থা করতে পারবে বলে রোহিঙ্গারা আশাবাদী।
এদিকে, রোহিঙ্গা সংকট সমাধানের উপায় খুঁজতে আগামী ২৫ আগস্ট প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস কক্সবাজার সফরে যাবেন বলে জানা গেছে। কক্সবাজারের ইনানীতে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে তার। কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ইমরান হোসাইন সজীব বৈঠকের তথ্য নিশ্চিত করে জানান, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের কার্যালয় বৈঠকটি নিয়ে কাজ করছে।
আগামী সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠেয় রোহিঙ্গাবিষয়ক একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনের প্রস্তুতি হিসেবে এই বৈঠককে দেখা হচ্ছে, যা নিয়ে রোহিঙ্গা শিবিরগুলোতে ব্যাপক আলোচনা চলছে।
রাখাইনের মংডু এলাকার একজন রোহিঙ্গা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, আরাকান আর্মির অত্যাচারে সেখানকার বাসিন্দারা অতিষ্ঠ। আরাকান আর্মি রোহিঙ্গাদের কাছ থেকে ‘ট্যাক্স’ এর নামে চাঁদা আদায় করছে, তাদের গরু-ছাগল কেড়ে নিচ্ছে এবং বাড়িঘরের গাছ কেটে বিক্রি করে দিচ্ছে। তাদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়েই অনেকে বাংলাদেশে পালিয়ে আসছে।