নিজস্ব ভবন না থাকাসহ নানা ত্রুটির কারণ দেখিয়ে মঞ্জুরি কমিটির সব সদস্যের আপত্তি উপেক্ষা করে চট্টগ্রামের একটি বেসরকারি কলেজে ইংরেজি ভার্সন চালুর অনুমোদন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে।
কমিটির আপত্তির পরও চট্টগ্রাম বিজ্ঞান কলেজ নামের ওই প্রতিষ্ঠানটিকে এই অনুমোদন দেওয়া হয় এবং কলেজটি ইতোমধ্যে শিক্ষার্থী ভর্তির বিজ্ঞাপনও শুরু করেছে। এ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কমিটির সদস্য ও শিক্ষাবিদরা।
চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড সূত্র জানায়, গত ২৮ জুলাই চট্টগ্রাম বিজ্ঞান কলেজের ইংরেজি ভার্সন অনুমোদনের জন্য বোর্ডের মঞ্জুরি কমিটির সভা বসে। সভায় উপস্থিত আট সদস্যের সবাই, এমনকি বোর্ডের চেয়ারম্যান নিজেও, নিজস্ব ভবন না থাকায় প্রতিষ্ঠানটিকে অনুমোদন দেওয়ার বিষয়ে আপত্তি জানান। কিন্তু বৈঠকের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে বোর্ড চেয়ারম্যান ইলিয়াছ উদ্দিন আহাম্মদ পরে এককভাবে এই অনুমোদন দেন।
কমিটির সদস্য ও চট্টগ্রাম সরকারি কমার্স কলেজের অধ্যক্ষ মো. শাহ আলমগীর বলেন, “কলেজটির নিজস্ব ভবন নেই। তাদের বাংলা ভার্সনের অনুমোদন নিয়েই কথা আছে। সভায় চেয়ারম্যান-সচিব সবাই আপত্তি জানিয়েছিলেন। কিন্তু সভার সিদ্ধান্তকে তোয়াক্কা না করে কেন অনুমোদন দেওয়া হলো, তা বোধগম্য নয়।”
তবে অভিযোগের বিষয়ে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান ইলিয়াছ উদ্দিন আহাম্মদ বলেন, ইংরেজি ভার্সনের জন্য প্রয়োজনীয় শিক্ষক নিয়োগের শর্তে প্রতিষ্ঠানটিকে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। শর্ত পূরণ করতে না পারলে অনুমোদন বাতিল হয়ে যাবে।
এরই মধ্যে কলেজটি ইংরেজি ভার্সনে শিক্ষার্থী ভর্তির বিজ্ঞাপন দিচ্ছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একাদশ শ্রেণির ভর্তির ওয়েবসাইটেও কলেজটির বাংলা ভার্সনে ২০০টি এবং ইংরেজি ভার্সনে ৮০টি আসন দেখানো হচ্ছে।
শিক্ষা বোর্ডের এমন সিদ্ধান্তকে ‘উদ্বেগজনক’ হিসেবে দেখছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক মুহাম্মদ আমির উদ্দিন। তিনি বলেন, “যে কলেজের বাংলা ভার্সন নিয়েই প্রশ্ন রয়েছে, সেখানে ইংরেজি ভার্সনের অনুমোদন দেওয়া আরও উদ্বেগজনক। এটি শিক্ষার ক্ষেত্রে মারাত্মক প্রভাব ফেলবে।”