সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সর্বশেষ

ডেঙ্গুর পাশাপাশি ‘ল্যাংড়া জ্বরের’ দাপট, সমান তালে সংক্রমণ

👤
নিজস্ব প্রতিবেদক
0 Shares
f

ডেঙ্গুর পাশাপাশি এডিস মশাবাহিত রোগ চিকুনগুনিয়ার সংক্রমণও আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ বছর ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ দেশের কোনো কোনো জায়গায় ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় সমান।

এডিস মশার মাধ্যমে ছড়ানো এই ভাইরাসজনিত রোগের প্রধান উপসর্গ হলো উচ্চমাত্রার জ্বর এবং তীব্র গিঁটে ব্যথা, যা অনেককে দীর্ঘদিনের জন্য ভোগাতে পারে। যদিও চিকুনগুনিয়ায় মৃত্যুহার প্রায় শূন্য, তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) এর দ্রুত সংক্রমণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে একটি জরুরি সতর্কতা জারি করেছে।

সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রামে জুন-জুলাই মাসে ৬৬৯ জন চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন। জুনের প্রথম তিন সপ্তাহে ঢাকায় পাঠানো ১৭১টি নমুনার মধ্যে ১৪০টিই পজিটিভ আসে, যার হার প্রায় ৮২ শতাংশ।

মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ইমেরিটাস অধ্যাপক ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহ বলেন, “এ বছর ডেঙ্গুর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চিকুনগুনিয়া বাড়ছে। এর মূল লক্ষণ হলো রোগীর তীব্র জ্বর এবং গিরায় গিরায় ভয়ংকর ব্যথা, যা রোগীকে একরকম পঙ্গু করে ফেলে। এ কারণে অনেকে একে ‘ল্যাংড়া জ্বর’ বলেন।”

তিনি জানান, চিকুনগুনিয়ায় ডেঙ্গুর মতো প্লাটিলেট কমার বা রক্তক্ষরণের ঝুঁকি থাকে না। তবে বয়স্ক, গর্ভবতী নারী এবং হৃদরোগ, কিডনি বা ক্যান্সারের রোগীদের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন। তার পরামর্শ, জ্বর হলে প্যারাসিটামল ছাড়া অন্য কোনো ব্যথানাশক ওষুধ চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া খাওয়া যাবে না এবং প্রচুর তরল পান করতে হবে।

আইইডিসিআর-এর পরামর্শক ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, “জ্বর তিন দিনের মধ্যে না কমলে অবশ্যই চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে, কারণ সেটি ডেঙ্গু বা চিকুনগুনিয়া হতে পারে। চিকুনগুনিয়ার ব্যথা নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারলে রোগী ধীরে ধীরে সুস্থ বোধ করতে থাকে।”

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চিকুনগুনিয়ার কোনো নির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই। এর থেকে বাঁচতে মশার কামড় এড়ানো এবং এডিস মশার বংশবিস্তার রোধ করাই প্রধান উপায়। বাড়ির আশেপাশে পানি জমতে না দেওয়া এবং মশারি ব্যবহার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তারা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

পাঠকপ্রিয়

যোগাযোগ: সুপ্রিম মার্কেট, ৩য় তলা , ৩২, এন এ চৌধুরী রোড,  আন্দরকিল্লা , চট্টগ্রাম।
ইমেইল : news@banglarpatrika.com
মোবাইল: ০১৭১১-৮৩০৮৭৩

ডেঙ্গুর পাশাপাশি ‘ল্যাংড়া জ্বরের’ দাপট, সমান তালে সংক্রমণ

নিজস্ব প্রতিবেদক
২৫ আগস্ট ২০২৫, ২১:০৮

ডেঙ্গুর পাশাপাশি এডিস মশাবাহিত রোগ চিকুনগুনিয়ার সংক্রমণও আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ বছর ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ দেশের কোনো কোনো জায়গায় ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় সমান।

এডিস মশার মাধ্যমে ছড়ানো এই ভাইরাসজনিত রোগের প্রধান উপসর্গ হলো উচ্চমাত্রার জ্বর এবং তীব্র গিঁটে ব্যথা, যা অনেককে দীর্ঘদিনের জন্য ভোগাতে পারে। যদিও চিকুনগুনিয়ায় মৃত্যুহার প্রায় শূন্য, তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) এর দ্রুত সংক্রমণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে একটি জরুরি সতর্কতা জারি করেছে।

সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রামে জুন-জুলাই মাসে ৬৬৯ জন চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন। জুনের প্রথম তিন সপ্তাহে ঢাকায় পাঠানো ১৭১টি নমুনার মধ্যে ১৪০টিই পজিটিভ আসে, যার হার প্রায় ৮২ শতাংশ।

মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ইমেরিটাস অধ্যাপক ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহ বলেন, “এ বছর ডেঙ্গুর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চিকুনগুনিয়া বাড়ছে। এর মূল লক্ষণ হলো রোগীর তীব্র জ্বর এবং গিরায় গিরায় ভয়ংকর ব্যথা, যা রোগীকে একরকম পঙ্গু করে ফেলে। এ কারণে অনেকে একে ‘ল্যাংড়া জ্বর’ বলেন।”

তিনি জানান, চিকুনগুনিয়ায় ডেঙ্গুর মতো প্লাটিলেট কমার বা রক্তক্ষরণের ঝুঁকি থাকে না। তবে বয়স্ক, গর্ভবতী নারী এবং হৃদরোগ, কিডনি বা ক্যান্সারের রোগীদের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন। তার পরামর্শ, জ্বর হলে প্যারাসিটামল ছাড়া অন্য কোনো ব্যথানাশক ওষুধ চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া খাওয়া যাবে না এবং প্রচুর তরল পান করতে হবে।

আইইডিসিআর-এর পরামর্শক ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, “জ্বর তিন দিনের মধ্যে না কমলে অবশ্যই চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে, কারণ সেটি ডেঙ্গু বা চিকুনগুনিয়া হতে পারে। চিকুনগুনিয়ার ব্যথা নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারলে রোগী ধীরে ধীরে সুস্থ বোধ করতে থাকে।”

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চিকুনগুনিয়ার কোনো নির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই। এর থেকে বাঁচতে মশার কামড় এড়ানো এবং এডিস মশার বংশবিস্তার রোধ করাই প্রধান উপায়। বাড়ির আশেপাশে পানি জমতে না দেওয়া এবং মশারি ব্যবহার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তারা।