সোমবার, ১৯ জানুয়ারি ২০২৬

সর্বশেষ

বিশেষজ্ঞের সংকটে ফিজিওথেরাপি, চিকিৎসার নামে ‘প্রতারণা’

নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশে দীর্ঘমেয়াদী ব্যথা, পক্ষাঘাত ও বার্ধক্যজনিত নানা সমস্যায় ফিজিওথেরাপির চাহিদা বাড়লেও বিশেষজ্ঞের তীব্র সংকটের কারণে এই সেবাখাত এক বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চট্টগ্রামে অভিজ্ঞ ফিজিওথেরাপিস্টের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি ‘ভুয়া’ ফিজিওথেরাপিস্ট বা টেকনোলজিস্ট গজিয়ে উঠেছে, যারা চিকিৎসার নামে রোগীদের সঙ্গে প্রতারণা করছেন।

সোমবার বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও ‘বিশ্ব ফিজিওথেরাপি দিবস’ পালিত হচ্ছে। এমন এক সময়ে বিশেষজ্ঞরা এই খাতের নিয়ন্ত্রকহীন অবস্থা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শরীরের দীর্ঘমেয়াদী ব্যথা, স্ট্রোক, পঙ্গুত্ব পুনর্বাসন এবং সেরিব্রাল পালসির মতো রোগের চিকিৎসায় ফিজিওথেরাপি একটি স্বীকৃত পদ্ধতি। দেশে জনসংখ্যার প্রায় ১০ শতাংশ প্রতিবন্ধিতার শিকার এবং ২০ শতাংশের বয়স ৬০-এর ঊর্ধ্বে, যাদের বড় একটি অংশেরই ফিজিওথেরাপি প্রয়োজন।

কিন্তু স্বাধীনতার ৫৪ বছর পরও দেশে ফিজিওথেরাপি শিক্ষার জন্য একটি জাতীয় প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠেনি এবং স্নাতক ডিগ্রি অর্জনের পরও ফিজিওথেরাপিস্টদের জন্য কোনো পেশাগত সনদ বা লাইসেন্স দেওয়ার ব্যবস্থা নেই। ‘বাংলাদেশ রিহ্যাবিলিটেশন কাউন্সিল আইন ২০১৮’ থাকলেও তা প্রায় অকার্যকর হয়ে আছে বলে তারা জানান।

এই সুযোগে বিশেষজ্ঞের অধীনে অল্প কিছুদিন কাজ করার অভিজ্ঞতা নিয়েই অনেকে ফিজিওথেরাপি সেন্টার খুলে বসছেন। এসব সেন্টারে রোগী ভর্তির বিধান না থাকলেও অনেককে ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

মো. রিফাত নামে একজন ফিজিওথেরাপিস্ট বলেন, “ফিজিওথেরাপি নিয়ে অনেকের মধ্যে অজ্ঞতা রয়েছে। অনেকে সাইনবোর্ড দেখেই ভুয়া ও নামসর্বস্ব ফিজিওথেরাপিস্টের কাছে যান। এদের মধ্যে অনেকে আবার নামের আগে ‘ডাক্তার’ উপাধিও ব্যবহার করেন, যা সম্পূর্ণ বেআইনি। এভাবে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে।”

এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, ‘স্বাস্থ্যকর বার্ধক্য: ফিজিওথেরাপি ও শারীরিক ক্রিয়াকলাপের মাধ্যমে দুর্বলতা ও পড়ে যাওয়ার ঝুঁকি প্রতিরোধ’। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই প্রতিপাদ্যের সঙ্গে দেশের বাস্তবতার মিল রেখে ফিজিওথেরাপি শিক্ষা ও সেবার মান নিয়ন্ত্রণে সরকারের এখনই জরুরিভাবে নজর দেওয়া উচিত।

পাঠকপ্রিয়