সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সর্বশেষ

শিক্ষার্থী পাচ্ছে না কারিগরি স্কুল-কলেজ, হাজার কোটি টাকার প্রকল্প নিয়ে প্রশ্ন

👤
নিজস্ব প্রতিবেদক
0 Shares
f

দেশের টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজগুলোর (টিএসসি) প্রায় ৬২ শতাংশ আসন প্রতি বছর শূন্য থাকলেও সরকার হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে নতুন প্রতিষ্ঠান নির্মাণ অব্যাহত রেখেছে। শিক্ষক সংকট, পুরোনো পাঠ্যক্রম এবং কর্মসংস্থানের অভাবের মতো মৌলিক সমস্যা সমাধান না করে অবকাঠামো নির্মাণের এই নীতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিশেষজ্ঞরা।

কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের প্রতিবেদন অনুযায়ী, চালু থাকা ১৪৯টি টিএসসির নিম্ন মাধ্যমিক থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যন্ত প্রতিটি স্তরেই ৬০ শতাংশের বেশি আসন ফাঁকা ছিল। সব মিলিয়ে এই প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রায় দেড় লাখ আসনের বিপরীতে ৯৭ হাজারের বেশি আসনই ছিল শূন্য।

এই বিপুল শিক্ষার্থী সংকটের মধ্যেই ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে শুরু হওয়া ২৩ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ৪২৯টি নতুন টিএসসি নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে, যা চালু হলে আরও প্রায় দুই লাখ ৮৪ হাজার নতুন আসন যুক্ত হবে।

শিক্ষার মানোন্নয়নের পরিবর্তে অবকাঠামো নির্মাণের দিকেই আগের সরকারের মনোযোগ ছিল বেশি। ২০১৪ সালে ৯২৪ কোটি টাকা ব্যয়ে ১০০টি টিএসসি নির্মাণের যে প্রকল্পটি ২০১৬ সালে শেষ হওয়ার কথা ছিল, তা ২০২৫ সালেও অসম্পূর্ণ রয়ে গেছে এবং এর ব্যয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৫২৫ কোটি টাকায়।

সম্প্রতি প্রকল্পটির মেয়াদ ২০২৭ সাল পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। এই প্রকল্পের কাজ শেষ না করেই ২০২০ সালে ২০ হাজার ৫২৬ কোটি টাকা ব্যয়ে আরও ৩২৯টি টিএসসি নির্মাণের আরেকটি বিশাল প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একাধিক কারণে শিক্ষার্থীরা কারিগরি শিক্ষায় আগ্রহ হারাচ্ছে। ‘এডুকেশন ওয়াচ-২০২২’ এর তথ্য অনুযায়ী, ৭০ শতাংশের বেশি শিক্ষক মনে করেন কারিগরি পাঠ্যক্রম বাজারের চাহিদার তুলনায় সেকেলে। নতুন চালু হওয়া ৯১টি টিএসসিতেই প্রায় ৫০ শতাংশ শিক্ষকের পদ শূন্য। এর ফলে শিক্ষার মান যেমন ব্যাহত হচ্ছে, তেমনি ডিগ্রি শেষেও মিলছে না কাঙ্ক্ষিত চাকরি।

জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থাপনা একাডেমির (নায়েম) ২০২১ সালের এক গবেষণা বলছে, ডিপ্লোমা ডিগ্রিধারীদের ৩৮ শতাংশই বেকার।

বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো অধ্যাপক ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “শ্রমবাজারের চাহিদার সঙ্গে মিল রেখে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে না। নতুন প্রকল্প নেওয়ার ক্ষেত্রে কারিকুলাম, আধুনিক যন্ত্রপাতি এবং বৃত্তিমূলক শিক্ষার পাশাপাশি আদর্শ শিক্ষা নিশ্চিত করা হচ্ছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা দরকার।”

কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. রুহুল আমিন সংকটের কথা স্বীকার করে বলেন, “শিক্ষক সংকট, প্রচারণার ঘাটতি এবং কারিগরি শিক্ষা নিয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের নেতিবাচক ধারণা এক্ষেত্রে বড় বাধা। অবকাঠামো নির্মাণের পাশাপাশি সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্তও প্রয়োজন।”

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

পাঠকপ্রিয়

যোগাযোগ: সুপ্রিম মার্কেট, ৩য় তলা , ৩২, এন এ চৌধুরী রোড,  আন্দরকিল্লা , চট্টগ্রাম।
ইমেইল : news@banglarpatrika.com
মোবাইল: ০১৭১১-৮৩০৮৭৩

শিক্ষার্থী পাচ্ছে না কারিগরি স্কুল-কলেজ, হাজার কোটি টাকার প্রকল্প নিয়ে প্রশ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক
৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৮:৪৪

দেশের টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজগুলোর (টিএসসি) প্রায় ৬২ শতাংশ আসন প্রতি বছর শূন্য থাকলেও সরকার হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে নতুন প্রতিষ্ঠান নির্মাণ অব্যাহত রেখেছে। শিক্ষক সংকট, পুরোনো পাঠ্যক্রম এবং কর্মসংস্থানের অভাবের মতো মৌলিক সমস্যা সমাধান না করে অবকাঠামো নির্মাণের এই নীতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিশেষজ্ঞরা।

কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের প্রতিবেদন অনুযায়ী, চালু থাকা ১৪৯টি টিএসসির নিম্ন মাধ্যমিক থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যন্ত প্রতিটি স্তরেই ৬০ শতাংশের বেশি আসন ফাঁকা ছিল। সব মিলিয়ে এই প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রায় দেড় লাখ আসনের বিপরীতে ৯৭ হাজারের বেশি আসনই ছিল শূন্য।

এই বিপুল শিক্ষার্থী সংকটের মধ্যেই ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে শুরু হওয়া ২৩ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ৪২৯টি নতুন টিএসসি নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে, যা চালু হলে আরও প্রায় দুই লাখ ৮৪ হাজার নতুন আসন যুক্ত হবে।

শিক্ষার মানোন্নয়নের পরিবর্তে অবকাঠামো নির্মাণের দিকেই আগের সরকারের মনোযোগ ছিল বেশি। ২০১৪ সালে ৯২৪ কোটি টাকা ব্যয়ে ১০০টি টিএসসি নির্মাণের যে প্রকল্পটি ২০১৬ সালে শেষ হওয়ার কথা ছিল, তা ২০২৫ সালেও অসম্পূর্ণ রয়ে গেছে এবং এর ব্যয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৫২৫ কোটি টাকায়।

সম্প্রতি প্রকল্পটির মেয়াদ ২০২৭ সাল পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। এই প্রকল্পের কাজ শেষ না করেই ২০২০ সালে ২০ হাজার ৫২৬ কোটি টাকা ব্যয়ে আরও ৩২৯টি টিএসসি নির্মাণের আরেকটি বিশাল প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একাধিক কারণে শিক্ষার্থীরা কারিগরি শিক্ষায় আগ্রহ হারাচ্ছে। ‘এডুকেশন ওয়াচ-২০২২’ এর তথ্য অনুযায়ী, ৭০ শতাংশের বেশি শিক্ষক মনে করেন কারিগরি পাঠ্যক্রম বাজারের চাহিদার তুলনায় সেকেলে। নতুন চালু হওয়া ৯১টি টিএসসিতেই প্রায় ৫০ শতাংশ শিক্ষকের পদ শূন্য। এর ফলে শিক্ষার মান যেমন ব্যাহত হচ্ছে, তেমনি ডিগ্রি শেষেও মিলছে না কাঙ্ক্ষিত চাকরি।

জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থাপনা একাডেমির (নায়েম) ২০২১ সালের এক গবেষণা বলছে, ডিপ্লোমা ডিগ্রিধারীদের ৩৮ শতাংশই বেকার।

বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো অধ্যাপক ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “শ্রমবাজারের চাহিদার সঙ্গে মিল রেখে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে না। নতুন প্রকল্প নেওয়ার ক্ষেত্রে কারিকুলাম, আধুনিক যন্ত্রপাতি এবং বৃত্তিমূলক শিক্ষার পাশাপাশি আদর্শ শিক্ষা নিশ্চিত করা হচ্ছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা দরকার।”

কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. রুহুল আমিন সংকটের কথা স্বীকার করে বলেন, “শিক্ষক সংকট, প্রচারণার ঘাটতি এবং কারিগরি শিক্ষা নিয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের নেতিবাচক ধারণা এক্ষেত্রে বড় বাধা। অবকাঠামো নির্মাণের পাশাপাশি সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্তও প্রয়োজন।”