সোমবার, ১৯ জানুয়ারি ২০২৬

সর্বশেষ

বিসিবি নির্বাচনে ‘পাতানো খেলার’ অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক

“আগে নির্বাচনের ফিক্সিং বন্ধ করেন, পরে ক্রিকেটের ফিক্সিং বন্ধ করার চিন্তা কইরেন”—ক্ষোভ, হতাশা আর তীব্র অভিযোগে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) নির্বাচনকে ‘কালো দাগ’ হিসেবে অভিহিত করে সরে দাঁড়িয়েছে বিএনপি সমর্থিত তামিম ইকবাল প্যানেল।

সরকারের নগ্ন হস্তক্ষেপ ও সাজানো স্ক্রিপ্টে একটি পাতানো নির্বাচন হচ্ছে—এমন অভিযোগ তুলে বুধবার (১ অক্টোবর) তাদের প্রার্থিতা প্রত্যাহারের পর ‘সরকার সমর্থিত’ আমিনুল ইসলাম বুলবুল প্যানেলের প্রার্থীদের বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার পথ প্রশস্ত হলো।

ক্রীড়া সংগঠকদের আশা ছিল, রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর এবার হয়তো ক্রিকেটে একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন হবে। কিন্তু কাউন্সিলরশিপ বিতর্ক, আদালতের হস্তক্ষেপ এবং রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের অভিযোগে এবারের বিসিবি নির্বাচন জন্ম দিয়েছে চরম বিতর্কের।

যেভাবে দানা বাঁধে সংঘাত

নির্বাচনী লড়াইয়ের শুরুটা হয় জেলা ও বিভাগীয় কাউন্সিলর মনোনয়ন নিয়ে। বিএনপি সমর্থিত প্যানেল জেলা প্রশাসকদের মাধ্যমে ৫৪টি কাউন্সিলর ফরম জমা দিলে প্রতিপক্ষ আমিনুল ইসলাম বুলবুল শিবির এটিকে ঝুঁকি হিসেবে দেখে। এরপরই ১৮ সেপ্টেম্বর বিসিবি সভাপতি বুলবুল জেলা ও বিভাগীয় অ্যাডহক কমিটি থেকে কাউন্সিলর মনোনয়নের নির্দেশ দিয়ে চিঠি পাঠান, যা সরকার সমর্থিত ব্যক্তিদের নিয়ে গঠিত।

এই চিঠির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে তামিম প্যানেল উচ্চ আদালতে গেলেও শেষ পর্যন্ত আদালতের রায় তাদের বিপক্ষে যায়। এটি ছিল তাদের জন্য প্রথম বড় ধাক্কা।

ক্লাব কাউন্সিলরশিপ ও শেষ আঘাত

দ্বিতীয় দফার নাটকীয়তা তৈরি হয় ১৫টি ক্লাবের কাউন্সিলরশিপ নিয়ে। নির্বাচন কমিশন প্রথমে দুদক পর্যবেক্ষণের কারণে কাউন্সিলরশিপ স্থগিত করলেও পরে শুনানি শেষে তা বহাল করে, যা তামিম প্যানেলকে স্বস্তি দিয়েছিল।

কিন্তু ক্লাব সূত্র জানায়, এরপরই প্রতিপক্ষ শিবির থেকে ক্লাব ক্যাটাগরিতে তিনটি পরিচালক পদ ছেড়ে দেওয়ার জন্য চাপ আসে, যা মানতে রাজি হয়নি তামিমরা। এর পরপরই বিসিবির সাবেক সভাপতি ফারুক আহমেদের করা এক রিটের পরিপ্রেক্ষিতে উচ্চ আদালত ১৫টি ক্লাবের কাউন্সিলরশিপ স্থগিত করে দেন।

এই ঘটনাকেই ‘শেষ পেরেক’ হিসেবে দেখে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয় তামিম ইকবালের নেতৃত্বাধীন পানেল।

মনোনয়ন প্রত্যাহারের পর তামিম ইকবাল বলেন, “আপনারা জিততেও পারেন, হারতেও পারেন। তবে আজকে ক্রিকেট শতভাগ হেরে গেছে। এই নির্বাচন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের জন্য একটা কালো দাগ হয়ে গেল।”

বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত যারা

তামিম প্যানেলের সরে দাঁড়ানোয় খুলনা, চট্টগ্রাম, সিলেট ও বরিশাল বিভাগ থেকে ছয়জন পরিচালক বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হতে যাচ্ছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন জাতীয় দলের সাবেক ক্রিকেটার আবদুর রাজ্জাক (খুলনা) এবং সাবেক ক্রিকেটার ও সংগীতশিল্পী আসিফ আকবর (চট্টগ্রাম)।

বিএনপি সমর্থিত সংগঠক ইসরাফিল খসরু এই প্রক্রিয়াকে ‘সরকারের নগ্ন হস্তক্ষেপ’ বলে অভিহিত করে বলেন, “পুরো প্রক্রিয়াটাতে স্বচ্ছতা ছিল না। জেলা, বিভাগ এবং ক্লাব—সব পর্যায়ে নির্বাচনকে প্রভাবিত করার চেষ্টা হয়েছে।”

তবে তামিম ইকবালের প্যানেল ঘিরেও সমালোচনা ছিল। বিএনপির শীর্ষস্থানীয় নেতা আমির খসরু, মির্জা আব্বাস, বরকত উল্লাহ বুলু ও সালাহউদ্দিন আহমেদের ছেলেদের মতো অক্রীড়া সংগঠকদের পরিচালক পদে প্রার্থী করা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল।

পাঠকপ্রিয়