সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সর্বশেষ

দরপত্র বাতিল, বছরের শুরুতে বই পাওয়া নিয়ে ফের শঙ্কা

👤
নিজস্ব প্রতিবেদক
0 Shares
f

সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা কমিটির আপত্তিতে মাধ্যমিক স্তরের ষষ্ঠ, সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণির বই ছাপানোর দরপত্র বাতিল হওয়ায় আগামী শিক্ষাবর্ষের শুরুতে সব শিক্ষার্থীর হাতে নতুন বই তুলে দেওয়া নিয়ে আবারও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

এই তিন শ্রেণির প্রায় ১২ কোটি বই ছাপানোর জন্য নতুন করে দরপত্র প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে, যা সম্পন্ন করতে অন্তত পাঁচ মাস সময় লাগতে পারে। অথচ নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরু হতে বাকি আছে মাত্র তিন মাসেরও কম সময়।

যদিও জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) কর্তৃপক্ষ এবং অন্তর্বর্তী সরকারের অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ জানুয়ারির শুরুতেই বই বিতরণের বিষয়ে আশাবাদী, তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সময়মতো বই ছাপানো প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়তে পারে।

দরপত্র বাতিল ও নতুন সংকট

এনসিটিবি সূত্রে জানা গেছে, ষষ্ঠ, সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণির বই ছাপানোর জন্য মোট ২৮০টি লটের দরপত্র বাতিল করা হয়েছে। তবে কী কারণে দরপত্র বাতিল করা হলো, তা আনুষ্ঠানিকভাবে এনসিটিবিকে জানানো হয়নি।

আগামী শিক্ষাবর্ষের জন্য মোট প্রায় ৩০ কোটি বই ছাপানোর কথা, যার মধ্যে ২১ কোটির বেশি মাধ্যমিক স্তরের। দরপত্র প্রক্রিয়া বিলম্বিত হওয়ায় জানুয়ারির শুরুতে সব বই সরবরাহ করা কঠিন হবে বলে মনে করছেন এনসিটিবির কর্মকর্তারা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন কর্মকর্তা বলেন, “কাজের গতি অনুযায়ী মনে হচ্ছে, সব শিক্ষার্থীর হাতে বই তুলে দিতে অন্তত ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত লেগে যেতে পারে।”

এর আগে চলতি বছরও বই বিতরণে প্রায় তিন মাস দেরি হওয়ায় ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছিল সরকার।

মানের সঙ্গে আপসের আশঙ্কা

দরপত্র প্রক্রিয়ায় বিলম্বের পাশাপাশি বইয়ের মান নিয়েও শঙ্কা দেখা দিয়েছে। মুদ্রণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো বলছে, সময় কমে আসায় শেষ মুহূর্তে কাজ পেতে কিছু অসাধু প্রতিষ্ঠান প্রাক্কলিত দরের চেয়ে ১৫ থেকে ২০ শতাংশ কম দামে কাজ নেওয়ার পাঁয়তারা করছে, যা বইয়ের কাগজের মানে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

ইতোমধ্যে প্রাথমিক স্তরের বই ছাপানোর ক্ষেত্রেও সম্ভাব্য ব্যয়ের চেয়ে কম দরে কাজ পেয়েছে মুদ্রণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো।

এসব বিষয়ে এনসিটিবির চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত) অধ্যাপক রবিউল কবীর চৌধুরী বলেন, “আশা করছি, যথাসময়েই শিক্ষার্থীদের হাতে সব বই তুলে দিতে পারব। আর মানের বিষয়ে এবারও এনসিটিবি কোনো আপস করবে না।”

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

পাঠকপ্রিয়

যোগাযোগ: সুপ্রিম মার্কেট, ৩য় তলা , ৩২, এন এ চৌধুরী রোড,  আন্দরকিল্লা , চট্টগ্রাম।
ইমেইল : news@banglarpatrika.com
মোবাইল: ০১৭১১-৮৩০৮৭৩

দরপত্র বাতিল, বছরের শুরুতে বই পাওয়া নিয়ে ফের শঙ্কা

নিজস্ব প্রতিবেদক
১১ অক্টোবর ২০২৫, ০৯:৪৪

সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা কমিটির আপত্তিতে মাধ্যমিক স্তরের ষষ্ঠ, সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণির বই ছাপানোর দরপত্র বাতিল হওয়ায় আগামী শিক্ষাবর্ষের শুরুতে সব শিক্ষার্থীর হাতে নতুন বই তুলে দেওয়া নিয়ে আবারও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

এই তিন শ্রেণির প্রায় ১২ কোটি বই ছাপানোর জন্য নতুন করে দরপত্র প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে, যা সম্পন্ন করতে অন্তত পাঁচ মাস সময় লাগতে পারে। অথচ নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরু হতে বাকি আছে মাত্র তিন মাসেরও কম সময়।

যদিও জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) কর্তৃপক্ষ এবং অন্তর্বর্তী সরকারের অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ জানুয়ারির শুরুতেই বই বিতরণের বিষয়ে আশাবাদী, তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সময়মতো বই ছাপানো প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়তে পারে।

দরপত্র বাতিল ও নতুন সংকট

এনসিটিবি সূত্রে জানা গেছে, ষষ্ঠ, সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণির বই ছাপানোর জন্য মোট ২৮০টি লটের দরপত্র বাতিল করা হয়েছে। তবে কী কারণে দরপত্র বাতিল করা হলো, তা আনুষ্ঠানিকভাবে এনসিটিবিকে জানানো হয়নি।

আগামী শিক্ষাবর্ষের জন্য মোট প্রায় ৩০ কোটি বই ছাপানোর কথা, যার মধ্যে ২১ কোটির বেশি মাধ্যমিক স্তরের। দরপত্র প্রক্রিয়া বিলম্বিত হওয়ায় জানুয়ারির শুরুতে সব বই সরবরাহ করা কঠিন হবে বলে মনে করছেন এনসিটিবির কর্মকর্তারা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন কর্মকর্তা বলেন, “কাজের গতি অনুযায়ী মনে হচ্ছে, সব শিক্ষার্থীর হাতে বই তুলে দিতে অন্তত ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত লেগে যেতে পারে।”

এর আগে চলতি বছরও বই বিতরণে প্রায় তিন মাস দেরি হওয়ায় ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছিল সরকার।

মানের সঙ্গে আপসের আশঙ্কা

দরপত্র প্রক্রিয়ায় বিলম্বের পাশাপাশি বইয়ের মান নিয়েও শঙ্কা দেখা দিয়েছে। মুদ্রণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো বলছে, সময় কমে আসায় শেষ মুহূর্তে কাজ পেতে কিছু অসাধু প্রতিষ্ঠান প্রাক্কলিত দরের চেয়ে ১৫ থেকে ২০ শতাংশ কম দামে কাজ নেওয়ার পাঁয়তারা করছে, যা বইয়ের কাগজের মানে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

ইতোমধ্যে প্রাথমিক স্তরের বই ছাপানোর ক্ষেত্রেও সম্ভাব্য ব্যয়ের চেয়ে কম দরে কাজ পেয়েছে মুদ্রণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো।

এসব বিষয়ে এনসিটিবির চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত) অধ্যাপক রবিউল কবীর চৌধুরী বলেন, “আশা করছি, যথাসময়েই শিক্ষার্থীদের হাতে সব বই তুলে দিতে পারব। আর মানের বিষয়ে এবারও এনসিটিবি কোনো আপস করবে না।”