বেতন-ভাতার দাবিতে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের কর্মবিরতি, সহকর্মীর ওপর হামলার প্রতিবাদে সরকারি কলেজ শিক্ষকদের অবস্থান, পৃথক বিশ্ববিদ্যালয়ের দাবিতে সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ এবং নিয়োগের দাবিতে এনটিআরসিএ কার্যালয়ে তালা—একযোগে চলা এসব আন্দোলনে স্থবির হয়ে পড়েছে দেশের শিক্ষাঙ্গন।
সপ্তাহের প্রথম দিন থেকেই রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের পৃথক পৃথক কর্মসূচিতে রাজপথ উত্তাল হয়ে ওঠে, যার ফলে অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠদান বন্ধ রয়েছে।
বাড়িভাড়া ২০ শতাংশ করাসহ তিন দফা দাবিতে আন্দোলনরত এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা পুলিশের হামলার প্রতিবাদে দেশব্যাপী কর্মবিরতি পালন করছেন। সোমবারের ওই হামলার পর মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে সচিবালয় অভিমুখে লংমার্চের কর্মসূচি ঘোষণা দিয়েছেন তারা।
‘এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণপ্রত্যাশী জোট’-এর সদস্য সচিব অধ্যক্ষ দেলাওয়ার হোসেন আজিজী বলেন, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তাদের কর্মবিরতি ও অবস্থান কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।
এদিকে, ঢাকা কলেজে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে শিক্ষকদের ধস্তাধস্তি এবং হামলার প্রতিবাদে মঙ্গলবার থেকে সারা দেশের সব সরকারি কলেজে কর্মবিরতি ও অবস্থান কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিসিএস জেনারেল এডুকেশন অ্যাসোসিয়েশন।
সংগঠনের সদস্য সচিব ড. মো. মাসুদ রানা খান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ঢাকা কলেজের ইতিহাস বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. তৌহিদুর রহমানের ওপর হামলার প্রতিবাদে এবং শিক্ষক সমাজের মর্যাদা রক্ষার দাবিতে তারা এই কর্মসূচি পালন করবেন। সমিতির সভাপতি প্রফেসর ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল জানান, ১৫ অক্টোবরের পর পরবর্তী কর্মসূচি নির্ধারণ করা হবে।
অন্যদিকে, প্রস্তাবিত ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি আইন-২০২৫’ দ্রুত অধ্যাদেশ আকারে জারির দাবিতে শিক্ষা ভবন অভিমুখে পদযাত্রা করেছে সরকারি সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের একাংশ। পরে শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. সি আর আবরারের সঙ্গে বৈঠকের পর তারা আন্দোলন স্থগিতের ঘোষণা দেন।
তবে শিক্ষার্থীদের আরেকটি অংশ তাদের কলেজগুলোর স্বাতন্ত্র্য রক্ষার দাবিতে জাতীয় শহীদ মিনারে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে। তারা বিদ্যমান কলেজগুলোর কাঠামো নষ্ট না করে পৃথকভাবে বিশ্ববিদ্যালয় গঠনের দাবি জানান।
এরই মধ্যে, বিশেষ গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নিয়োগের দাবিতে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) কার্যালয়ের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছেন নিয়োগবঞ্চিতরা। পরে পুলিশ এসে তালা ভেঙে তাদের বের করে দেয়। এনটিআরসিএর অতিরিক্ত সচিব আমিনুল ইসলামের সঙ্গে বৈঠক করেও কোনো সমাধান না হওয়ায় আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তারা।