সোমবার, ১৯ জানুয়ারি ২০২৬

সর্বশেষ

দৈনিক বিক্রি ১০ হাজার, কক্সবাজার সৈকত মাতাচ্ছে ‘আনারকলি’

নিজস্ব প্রতিবেদক

সুদূর দক্ষিণ আমেরিকার ফল ‘আনারকলি’ (প্যাশন ফল) এখন কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের পর্যটকদের কাছে অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হয়ে উঠেছে। হলদে সবুজ রঙের টেনিস বলের চেয়ে ছোট এই ফলের মাথায় বিটলবণ ও মরিচের গুঁড়া ছিটিয়ে পরিবেশন করা হয়। টক-ঝাল-মিষ্টি স্বাদের বিচিত্র এই ফলটি কিনতে সৈকতের লাবণী পয়েন্টসহ বিভিন্ন স্থানে পর্যটকদের ভিড় জমছে। পর্যটন মৌসুমে সৈকতের বিভিন্ন পয়েন্টে দৈনিক অন্তত ৭ থেকে ১০ হাজার আনারকলি বিক্রি হয় এবং এই ফলের ব্যবসায় অন্তত ৩০ জন বিক্রেতার জীবিকা নির্বাহ হচ্ছে।

গতকাল বুধবার সৈকতের বিভিন্ন পয়েন্টে দেখা যায়, দেশি আমড়া কিংবা ক্ষীরার পাশাপাশি বিক্রেতারা আনারকলি নিয়েও বসেছেন। পর্যটকেরা ফল খেয়ে ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করায় এটি এখন সৈকতের অন্যতম আকর্ষণে পরিণত হয়েছে।

সৈকতের লাবণী পয়েন্টে কথা হয় বিক্রেতা জহুরা বেগমের সঙ্গে। তিনি জানান, সাত বছর আগে স্বামী-সন্তান নিয়ে কক্সবাজারে এসে জীবিকার কোনো উপায় না পেয়ে আনারকলি বিক্রি শুরু করেন। এখন এই ফলই তার সংসারের ভরসা। জহুরা বেগম বলেন, প্রতিদিন ৯০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকা আয় হয় তার, যা দিয়ে মোটামুটি খেয়েপরে বাঁচতে পারছেন।

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, আনারকলি মূলত ব্রাজিল ও প্যারাগুয়ের ফল, যার বৈজ্ঞানিক নাম *প্যাসিফ্লোরা এডুলিস*। ইদানীং বাংলাদেশেও এর চাষ হচ্ছে।

পুষ্টিগুণে ভরা এই ফল সম্পর্কে রাজধানী ঢাকার গভর্নমেন্ট কলেজ অব অ্যাপ্লাইড হিউম্যান সাইন্সের খাদ্য ও পুষ্টিবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক ফাতেমা আকতার জানান, আনারকলি বা প্যাশন ফলে আছে ভিটামিন সি, ভিটামিন এ আর ভিটামিন বি কমপ্লেক্স (নায়াসিন, রিবোফ্লাভিন ও ফোলেট)। এতে আরও আছে পটাশিয়াম, ফসফরাস, ম্যাগনেশিয়াম এবং খানিকটা আয়রন। ফাতেমা আকতার বলেন, আনারকলি ফলে অনেকটা আঁশ থাকায় তা ওজন কমাতে সহায়ক। এতে থাকা অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট উপাদানগুলো রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়াতে, প্রদাহ কমাতে, দেহকে সতেজ রাখতে এবং রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখতে উপকারী।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কক্সবাজার কার্যালয় সূত্র জানায়, কক্সবাজারের টেকনাফ, উখিয়া ও রামু উপজেলার পাহাড়ি অঞ্চলে এ ফলের চাষ হচ্ছে। ওই কার্যালয়ের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আশীষ কুমার জানান, লতাজাতীয় এই গাছে ১০০ থেকে ২০০টি পর্যন্ত ফল ধরে এবং একটি গাছ টানা চার থেকে পাঁচ বছর ফল দেয়। সেপ্টেম্বর থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত এ ফল বেশি ফললেও চাহিদা বাড়ায় এখন রামুর ঈদগড় ও বান্দরবানের কয়েকটি উপজেলায় বাণিজ্যিকভাবে এর চাষ হচ্ছে।

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি, লামা ও আলীকদমের পাহাড়ি এলাকার বাগানগুলো থেকে আনারকলি কক্সবাজারে আসছে। পাইকারি বিক্রেতা আজমল হুদা বলেন, রামুর ঈদগড়ে আনারকলির ভালো উৎপাদন হচ্ছে, যেখানে স্থানীয় চাকমা ও মুসলিম পরিবারগুলো বাণিজ্যিকভাবে এর চাষ করছেন।

আজমল হুদা জানান, তিনি ছোট আকারের আনারকলি ১০ টাকা, মাঝারি ১৫ ও বড় ২০ টাকা দরে সরবরাহ করেন এবং খুচরা ব্যবসায়ীর কাছে গড় হিসাবে ১৫ টাকায় বিক্রি করেন। ফলটি সাত থেকে আট দিন পর্যন্ত খোলা জায়গায় সংরক্ষণ করা যায়।

পাঠকপ্রিয়