সোমবার, ১৯ জানুয়ারি ২০২৬

সর্বশেষ

মাদক কারবার ও টাকা লুটে জড়াচ্ছেন ডিএনসি কর্মকর্তারাই

নিজস্ব প্রতিবেদক

যাদের কাজ মাদক নির্মূল করা, সেই মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) কর্মকর্তারাই জড়িয়ে পড়ছেন মাদক কারবার, ঘুষ গ্রহণ, অভিযানের নামে টাকা লুট এবং নিরীহ মানুষকে ফাঁসানোর মতো গুরুতর অপরাধে। চলতি বছরে শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকাণ্ডের দায়ে সংস্থাটির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে ৫৭টি বিভাগীয় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

ডিএনসি সূত্র জানায়, ৫৭টি মামলার মধ্যে একটিতে গুরুদণ্ড এবং আরেকটিতে লঘুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বাকি ৫৫টি মামলার কার্যক্রম এখনো চলমান।

সম্প্রতি চট্টগ্রামের পটিয়ায় ৬০ হাজার ইয়াবাসহ র‍্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হন ডিএনসির সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আবদুল্লাহ আল মামুন। সরকারি জ্যাকেট, ক্যাপ ও ওয়াকিটকি ব্যবহার করে তিনি নিরাপদে মাদক পাচার করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় ডিএনসি তাকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে। পটিয়া থানা পুলিশ জানিয়েছে, রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের পর তদন্তে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা মিলেছে।

মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ায় গত অক্টোবরে মাদকসহ আটক দুই ব্যক্তিকে টাকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগে তোপের মুখে পড়েন ডিএনসির এসআই রফিকুল ইসলামসহ ১০ সদস্যের একটি দল। ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী তাদের ৯ ঘণ্টা আটকে রাখে। পরে এসআই রফিকুলকে স্ট্যান্ড রিলিজ করা হয়।

এছাড়া গত জুলাইয়ে টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে এক সাবেক কাউন্সিলরের বাড়িতে অভিযানের সময় সাড়ে আট লাখ টাকা লুটের অভিযোগে পরিদর্শক সিরাজুল ইসলামসহ তিন কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে কুড়িগ্রামেও। সেখানে চাকরি থেকে স্বেচ্ছায় অব্যাহতির চার মাস পর নথিপত্র ও স্মারক নম্বর জালিয়াতির মাধ্যমে সিপাহি হাসিবুল ইসলামকে চাকরিতে পুনর্বহালের অভিযোগ উঠেছে। ঠাকুরগাঁও জেলা কার্যালয়ে জেলা প্রশাসন অভিযান চালিয়ে অস্ত্র ও মাদক উদ্ধার করার পর পরিদর্শক ফরহাদ আকন্দকে ওএসডি করা হয়।

এছাড়া কক্সবাজারে সাংবাদিককে মাদক দিয়ে ফাঁসানোর চেষ্টা এবং পিরোজপুরে মাদক সেবনের ছবি ভাইরাল হওয়ার ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে ডিএনসির সহকারী পরিচালক (জনসংযোগ) মোস্তাক আহমেদ বলেন, কোনো অনিয়মের অভিযোগ পেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। সাময়িক বরখাস্তের পাশাপাশি তদন্ত ও বিভাগীয় মামলাও করা হচ্ছে।

পাঠকপ্রিয়