সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সর্বশেষ

ভোটের নিরাপত্তায় প্রস্তুত ৭ লাখ সদস্য, ওসি-এসপি রদবদল সম্পন্ন

👤
নিজস্ব প্রতিবেদক
0 Shares
f

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রস্তুতি এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে। নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে এরই মধ্যে ৬৪ জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) ও ৫২৭ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) বদলি করা হয়েছে। পাশাপাশি খুলনা, গাজীপুর ও রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার এবং পুলিশ সদর দপ্তরের ডিআইজি (প্রশাসন) পদেও পরিবর্তন আনা হয়েছে।

পুলিশ সদর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এবারের নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের ১ লাখ ৪৫ হাজার সদস্য মাঠে থাকবেন। নির্বাচনী দায়িত্ব পালনের জন্য বাহিনীর ৮৭ হাজার সদস্যের বিশেষ প্রশিক্ষণ ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে প্রশিক্ষণে সাড়ে চার হাজার বডি ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহার করা হচ্ছে এবং আরও কয়েক হাজার ক্যামেরা কেনার প্রক্রিয়া চলছে। এছাড়া অস্ত্র, হেলমেটসহ আনুষঙ্গিক সরঞ্জাম কেনাকাটাও সম্পন্ন হয়েছে।

তবে বর্তমান সরকারের সময়ে নিয়োগ পাওয়া ৫৯৯ জন উপ-পরিদর্শক (এসআই) ও ৩ হাজার ৬০০ কনস্টেবল নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করতে পারছেন না। তারা বর্তমানে সারদা পুলিশ একাডেমিতে প্রশিক্ষণে রয়েছেন।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, এবার সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে গণভোটও অনুষ্ঠিত হবে। দেশের প্রায় পৌনে ১৩ কোটি ভোটার দুটি করে ভোট দেবেন। প্রায় ৪৩ হাজার ভোটকেন্দ্রে পৌনে তিন লাখের মতো ভোটকক্ষ স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। ভোটের আগে ও পরে মিলিয়ে মোট আট দিন মাঠে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েনের প্রস্তাব করা হয়েছে।

সব মিলিয়ে নির্বাচনের নিরাপত্তায় সাত লাখের বেশি সদস্য নিয়োজিত থাকবেন। এর মধ্যে আনসার-ভিডিপি সদস্য থাকবেন প্রায় সাড়ে ৫ লাখ এবং সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য সংখ্যা ৯০ হাজারের বেশি। এছাড়া র‍্যাব, বিজিবি ও কোস্টগার্ড সদস্যরাও নির্বাচনী দায়িত্ব পালনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ১৩ থেকে ১৮ জন সদস্য মোতায়েন রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।

এদিকে নির্বাচনের আগে পুলিশের লুট হওয়া ও অবৈধ অস্ত্র পুরোপুরি উদ্ধার না হওয়ায় নিরাপত্তা ঝুঁকি দেখছেন অপরাধ বিশেষজ্ঞরা। তাদের আশঙ্কা, উদ্ধার না হওয়া এসব অস্ত্র নির্বাচনে সহিংসতার কাজে ব্যবহার হতে পারে। তাই নির্বাচনের আগেই অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে চলমান অভিযান আরও জোরদার করার তাগিদ দিয়েছেন তারা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

পাঠকপ্রিয়

যোগাযোগ: সুপ্রিম মার্কেট, ৩য় তলা , ৩২, এন এ চৌধুরী রোড,  আন্দরকিল্লা , চট্টগ্রাম।
ইমেইল : news@banglarpatrika.com
মোবাইল: ০১৭১১-৮৩০৮৭৩

ভোটের নিরাপত্তায় প্রস্তুত ৭ লাখ সদস্য, ওসি-এসপি রদবদল সম্পন্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক
১২ ডিসেম্বর ২০২৫, ২৩:৪৪

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রস্তুতি এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে। নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে এরই মধ্যে ৬৪ জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) ও ৫২৭ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) বদলি করা হয়েছে। পাশাপাশি খুলনা, গাজীপুর ও রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার এবং পুলিশ সদর দপ্তরের ডিআইজি (প্রশাসন) পদেও পরিবর্তন আনা হয়েছে।

পুলিশ সদর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এবারের নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের ১ লাখ ৪৫ হাজার সদস্য মাঠে থাকবেন। নির্বাচনী দায়িত্ব পালনের জন্য বাহিনীর ৮৭ হাজার সদস্যের বিশেষ প্রশিক্ষণ ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে প্রশিক্ষণে সাড়ে চার হাজার বডি ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহার করা হচ্ছে এবং আরও কয়েক হাজার ক্যামেরা কেনার প্রক্রিয়া চলছে। এছাড়া অস্ত্র, হেলমেটসহ আনুষঙ্গিক সরঞ্জাম কেনাকাটাও সম্পন্ন হয়েছে।

তবে বর্তমান সরকারের সময়ে নিয়োগ পাওয়া ৫৯৯ জন উপ-পরিদর্শক (এসআই) ও ৩ হাজার ৬০০ কনস্টেবল নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করতে পারছেন না। তারা বর্তমানে সারদা পুলিশ একাডেমিতে প্রশিক্ষণে রয়েছেন।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, এবার সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে গণভোটও অনুষ্ঠিত হবে। দেশের প্রায় পৌনে ১৩ কোটি ভোটার দুটি করে ভোট দেবেন। প্রায় ৪৩ হাজার ভোটকেন্দ্রে পৌনে তিন লাখের মতো ভোটকক্ষ স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। ভোটের আগে ও পরে মিলিয়ে মোট আট দিন মাঠে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েনের প্রস্তাব করা হয়েছে।

সব মিলিয়ে নির্বাচনের নিরাপত্তায় সাত লাখের বেশি সদস্য নিয়োজিত থাকবেন। এর মধ্যে আনসার-ভিডিপি সদস্য থাকবেন প্রায় সাড়ে ৫ লাখ এবং সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য সংখ্যা ৯০ হাজারের বেশি। এছাড়া র‍্যাব, বিজিবি ও কোস্টগার্ড সদস্যরাও নির্বাচনী দায়িত্ব পালনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ১৩ থেকে ১৮ জন সদস্য মোতায়েন রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।

এদিকে নির্বাচনের আগে পুলিশের লুট হওয়া ও অবৈধ অস্ত্র পুরোপুরি উদ্ধার না হওয়ায় নিরাপত্তা ঝুঁকি দেখছেন অপরাধ বিশেষজ্ঞরা। তাদের আশঙ্কা, উদ্ধার না হওয়া এসব অস্ত্র নির্বাচনে সহিংসতার কাজে ব্যবহার হতে পারে। তাই নির্বাচনের আগেই অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে চলমান অভিযান আরও জোরদার করার তাগিদ দিয়েছেন তারা।