চট্টগ্রামের চাক্তাই-খাতুনগঞ্জে গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে পেঁয়াজের দামে বড় ধরনের পতন হয়েছে। পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি পেঁয়াজের দাম ৫০ থেকে ৬০ টাকা পর্যন্ত কমেছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, ভারত থেকে আমদানিকৃত পেঁয়াজ এবং দেশি নতুন পেঁয়াজের সরবরাহ একযোগে বাড়ার ফলেই এই দরপতন হয়েছে।
চাক্তাই ও খাতুনগঞ্জের পাইকারি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বর্তমানে মানভেদে ভারতীয় পেঁয়াজ প্রতি কেজি ৭৫ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৪৫ থেকে ৫০ টাকার মধ্যে। আড়তদাররা জানিয়েছেন, গত কয়েকদিনে বাজারে পেঁয়াজের সরবরাহ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে এবং ট্রাকে ট্রাকে দেশি ও ভারতীয় পেঁয়াজ বাজারে প্রবেশ করছে।
তবে পাইকারি বাজারে দাম কমলেও খুচরা বাজারে এর প্রভাব এখনো পুরোপুরি পড়েনি। খুচরা বিক্রেতারা এখনো বাড়তি দামেই পেঁয়াজ বিক্রি করছেন। তাঁদের দাবি, বর্তমানে দোকানে থাকা পেঁয়াজ আগের বেশি দামে কেনা। ফলে এখনই দাম কমিয়ে বিক্রি করলে তাঁদের লোকসানের মুখে পড়তে হবে।
বাজারের আড়তদাররা বলছেন, তাঁরা মূলত কমিশনের ভিত্তিতে পণ্য বিক্রি করেন। আমদানিকারকরা যে দর নির্ধারণ করে দেন, তাঁরা সেই দরেই বিক্রি করতে বাধ্য থাকেন। কৃত্রিম সংকট তৈরির অভিযোগ অস্বীকার করে তাঁরা বলেন, দাম বাড়লেই প্রশাসনের পক্ষ থেকে আড়তে অভিযান চালানো হয়, যা ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করে। অথচ তাঁরা সরাসরি আমদানির সঙ্গে যুক্ত নন।
বাজার সংশ্লিষ্টরা জানান, দেশে পেঁয়াজের উৎপাদন আগের তুলনায় বেড়েছে। আগে দেশি পেঁয়াজে সাত মাসের চাহিদা মিটলেও এ বছর প্রায় পুরো সময়টাই দেশি পেঁয়াজের ওপর নির্ভর করা সম্ভব হয়েছে। এর মধ্যে কৃষকরা আগাম জাতের বা ‘মুড়িকাটা’ পেঁয়াজ তুলতে শুরু করেছেন, যা বাজারে আসতে শুরু করেছে। ফলে আগামী দিনগুলোতে দাম আরও কমার সম্ভাবনা দেখছেন তাঁরা।
চাক্তাই আড়তদার ও ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মো. আবুল কাশেম জানিয়েছেন, বাজারে পেঁয়াজের সরবরাহ এখন দ্বিগুণ হয়েছে। ভারতীয় পেঁয়াজের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে নতুন পেঁয়াজ আসায় দাম বাড়ার আর কোনো আশঙ্কা নেই।
অন্যদিকে সাধারণ ভোক্তারা মনে করছেন, ব্যবসায়ীদের কারসাজি নতুন কোনো ঘটনা নয়। তাঁদের অভিযোগ, দেশে উচ্চ ফলন হওয়ার পরেও দাম সেভাবে কমেনি। কিন্তু এখন ভারতীয় পেঁয়াজ আমদানির খবর ও সরবরাহ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ব্যবসায়ীরা তড়িঘড়ি করে দাম কমিয়ে দিচ্ছেন।