সোমবার, ১৯ জানুয়ারি ২০২৬

সর্বশেষ

প্রবাসীদের মধ্যে ৮৬ জন সিআইপি নির্বাচিত, সর্বোচ্চ চট্টগ্রামের ৩৪ জন

নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় ৮৬ জন প্রবাসী বাংলাদেশিকে ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরের জন্য বাণিজ্যিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি বা সিআইপি (এনআরবি) নির্বাচিত করেছে। গতকাল রবিবার এক প্রজ্ঞাপনে এই তালিকা প্রকাশ করা হয়। প্রতিবারের মতো এবারও সর্বোচ্চ সংখ্যক সিআইপি নির্বাচিত হয়েছেন চট্টগ্রাম জেলা থেকে।

আগামী ১৭ ডিসেম্বর ঢাকায় আন্তর্জাতিক অভিবাসী দিবসের অনুষ্ঠানে নির্বাচিত সিআইপিদের হাতে সনদ তুলে দেওয়ার কথা রয়েছে। প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স, সরাসরি শিল্পে বিনিয়োগ এবং বিদেশে বাংলাদেশি পণ্যের আমদানির ভিত্তিতে তিনটি ক্যাটাগরিতে এই সম্মাননা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ‘বৈধ চ্যানেলে সর্বাধিক বৈদেশিক মুদ্রা প্রেরণকারী অনিবাসী বাংলাদেশি’ ক্যাটাগরিতে ৭৫ জন, ‘বিদেশে বাংলাদেশি পণ্যের আমদানিকারক’ হিসেবে ১০ জন এবং ‘বাংলাদেশে শিল্পক্ষেত্রে সরাসরি বিনিয়োগকারী’ ক্যাটাগরিতে একজন নির্বাচিত হয়েছেন।

প্রবাসীদের অবস্থান ও দেশ

সিআইপি তালিকায় সবচেয়ে বেশি সংখ্যক প্রবাসী রয়েছেন সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে, যার সংখ্যা ৪১ জন। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ওমান, যেখান থেকে ৭ জন নির্বাচিত হয়েছেন। এছাড়া যুক্তরাজ্য থেকে ৬ জন, যুক্তরাষ্ট্র ও কাতার থেকে ৫ জন করে, সৌদি আরব থেকে ৪ জন এবং হংকং ও অস্ট্রেলিয়া থেকে ৩ জন করে সিআইপি হয়েছেন। এর বাইরে কুয়েত, জাপান, সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়া থেকে ২ জন করে এবং থাইল্যান্ড, কানাডা, সুইডেন ও সুইজারল্যান্ড থেকে ১ জন করে প্রবাসী বাংলাদেশি এই মর্যাদা লাভ করেছেন।

চট্টগ্রামের আধিপত্য

নির্বাচিত ৮৬ জনের মধ্যে ৩৪ জনই চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলার বাসিন্দা। এর মধ্যে হাটহাজারী উপজেলা থেকে সর্বোচ্চ ৯ জন নির্বাচিত হয়েছেন। রাউজান থেকে ৮ জন, সাতকানিয়া ও চট্টগ্রাম নগরী থেকে ৫ জন করে এবং ফটিকছড়ি ও পটিয়া থেকে ২ জন করে সিআইপি হয়েছেন। এছাড়া বোয়ালখালী, সীতাকুণ্ড ও চন্দনাইশ উপজেলা থেকে ১ জন করে এই তালিকায় স্থান পেয়েছেন।

চট্টগ্রাম থেকে নির্বাচিতদের মধ্যে রয়েছেন সংযুক্ত আরব আমিরাত প্রবাসী হাটহাজারীর মোহাম্মদ রুবেল, মোহাম্মদ মহিউদ্দিন, মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, মোহাম্মদ খালেদ, মো. আবুল হাসেম, নিজাম উদ্দীন এবং ফটিকছড়ির মোহাম্মদ ওসমান। এছাড়াও যুক্তরাজ্য থেকে সিআইপি হয়েছেন চট্টগ্রাম নগরীর পাথরঘাটার তাহসিন উদ্দিন খান এবং সীতাকুণ্ডের মো. মহিউদ্দীন বহদ্দা চৌধুরী।

সিআইপিদের সুযোগ-সুবিধা

সরকার ঘোষিত সিআইপিরা প্রজ্ঞাপন জারির তারিখ থেকে পরবর্তী দুই বছর পর্যন্ত নানা ধরনের রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা ভোগ করবেন। এর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রবেশের জন্য বিশেষ পাস, সরকারের নীতিনির্ধারণী কমিটিতে সদস্য হওয়ার সুযোগ এবং দেশ-বিদেশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে অগ্রাধিকার।

এছাড়া তাঁরা বিমানবন্দরে ভিআইপি লাউঞ্জ ব্যবহারের সুবিধা, ব্যবসা সংক্রান্ত ভ্রমণে বিমান, রেল ও নৌপথে আসন সংরক্ষণে অগ্রাধিকার পাবেন। তাঁদের পরিবারসহ সরকারি হাসপাতালে কেবিন সুবিধা এবং বাংলাদেশে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মতো সুরক্ষা দেওয়া হবে। জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ দিবসগুলোতে বিদেশের বাংলাদেশ মিশন এবং দেশে আয়োজিত রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানেও তাঁরা আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার সুযোগ পাবেন।

পাঠকপ্রিয়