সোমবার, ১৯ জানুয়ারি ২০২৬

সর্বশেষ

১০২টি ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের তালিকা তৈরি, অপসারণের তাগিদ সিডিএর

নিজস্ব প্রতিবেদক

চট্টগ্রাম মহানগরে জননিরাপত্তার জন্য হুমকি হতে পারে এমন ১০২টি ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনার একটি হালনাগাদ তালিকা তৈরি করেছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)। এসব ভবন অপসারণ বা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনকে (চসিক) চিঠি দেওয়া হয়েছে।

সিডিএর প্রস্তুত করা এই তালিকায় দেখা গেছে, চিহ্নিত ১০২টি স্থাপনার মধ্যে ৬৮টি আবাসিক ভবন। বাণিজ্যিক ভবন রয়েছে ১২টি এবং আবাসিক ও বাণিজ্যিক—উভয় কাজেই ব্যবহৃত হচ্ছে এমন ভবনের সংখ্যা ১৩টি। এছাড়াও তালিকার মধ্যে ৩টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ১টি মার্কেট এবং ১টি প্রশাসনিক ভবন রয়েছে। বাকলিয়া, শুলকবহর এবং মোমিন রোড এলাকার কয়েকটি ভবনের নাম তালিকায় থাকলেও সেগুলোর ধরন নির্দিষ্ট করে উল্লেখ করা হয়নি।

সিডিএ সূত্র জানিয়েছে, এলাকাবাসীর অভিযোগ, গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ এবং সরেজমিনে ভবনগুলোর বাহ্যিক অবস্থা পর্যালোচনার ভিত্তিতে এই তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত অনেক ভবনের বয়স ৫০ থেকে ১০৫ বছর। এর মধ্যে বেশ কিছু ভবনের মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে গেছে এবং কাঠামো জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। কোনো কোনো ভবনের দেয়ালে বড় ফাটল দেখা দিয়েছে, ছাদ থেকে পলেস্তারা খসে রড বেরিয়ে এসেছে। এমনকি কয়েক বছর আগে নির্মিত কিছু ভবনও একপাশে হেলে পড়ার মতো ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

ঝুঁকিপূর্ণ এসব স্থাপনা অপসারণে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সচিব মো. আশরাফুল আমিনকে চিঠি দিয়েছেন সিডিএর সচিব রবীন্দ্র চাকমা। চিঠিতে বলা হয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ ও রক্ষণাবেক্ষণহীন এসব ভবন নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছেন। বড় ধরনের বিপর্যয় এড়াতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. নুরুল করিম জানিয়েছেন, ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের তালিকাটি সিটি কর্পোরেশনের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং ভবনগুলো অপসারণের অনুরোধ জানানো হয়েছে। এ কাজে সিটি কর্পোরেশনকে সিডিএ সর্বোচ্চ সহযোগিতা করবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

আইন অনুযায়ী ঝুঁকিপূর্ণ ভবন অপসারণের মূল দায়িত্ব সিটি কর্পোরেশনের। স্থানীয় সরকার (সিটি কর্পোরেশন) আইন, ২০০৯-এর তৃতীয় তফসিলের ১৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো ইমারত জননিরাপত্তার জন্য বিপজ্জনক মনে হলে সিটি কর্পোরেশন নোটিশের মাধ্যমে ভবনের মালিক বা দখলকারকে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিতে পারে। নির্দেশ অমান্য করা হলে কর্পোরেশন নিজ উদ্যোগে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে এবং এর ব্যয় মালিকের কাছ থেকে কর হিসেবে আদায়ের বিধান রয়েছে। এছাড়া ভবনটি বসবাসের অনুপযুক্ত হলে মেরামত না হওয়া পর্যন্ত সেখানে বসবাস নিষিদ্ধ করার ক্ষমতাও সিটি কর্পোরেশনের রয়েছে।

সিডিএ সূত্র বলছে, তালিকায় থাকা ভবনগুলোর বিষয়ে বিস্তারিত কারিগরি পরীক্ষা-নিরীক্ষা প্রয়োজন। প্রকৌশলীদের মাধ্যমে কাঠামোগত নিরাপত্তা যাচাই করে নির্ধারণ করতে হবে কোন ভবনটি মেরামতযোগ্য আর কোনটি পুরোপুরি পরিত্যাজ্য। সংশ্লিষ্টরা সতর্ক করে বলছেন, এসব ভবন নিয়ে কালক্ষেপণ করলে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা থেকে যায়, অতীতেও সময়মতো ব্যবস্থা না নেওয়ায় প্রাণহানি ও সম্পদের ক্ষয়ক্ষতির নজির রয়েছে।

পাঠকপ্রিয়