সোমবার, ১৯ জানুয়ারি ২০২৬

সর্বশেষ

জাতীয় কবির সমাধির পাশে চিরনিদ্রায় শরিফ ওসমান হাদি

নিজস্ব প্রতিবেদক

লাখো মানুষের অংশগ্রহণে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় জানাজা শেষে ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদিকে দাফন করা হয়েছে। শনিবার বিকেল চারটার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদ সংলগ্ন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধির পাশে তাকে সমাহিত করা হয়। স্লোগানে স্লোগানে তাকে শেষবিদায় জানান হাজারো সমর্থক ও সাধারণ মানুষ।

এর আগে দুপুর দুইটায় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশ নেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা ও সাধারণ মানুষ। রাষ্ট্রীয় শোকের আবহে সকাল থেকেই হাজারো মানুষ মিছিল নিয়ে সংসদ ভবন এলাকায় জড়ো হতে থাকেন। জানাজার নির্ধারিত সময়ের আগেই মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ, সংসদ ভবনের দক্ষিণাংশের মাঠ ও আশপাশের এলাকা জনসমুদ্রে পরিণত হয়। স্থান সংকুলান না হওয়ায় প্রধান সড়কজুড়েই কাতারবদ্ধ হয়ে জানাজায় অংশ নেন লাখো মানুষ। মিছিলে ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ স্লোগান দেওয়া হয়।

জানাজাপূর্ব বক্তব্যে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, “বীর ওসমান হাদি, তোমাকে আমরা বিদায় দিতে আসিনি এখানে। তুমি আমাদের বুকের ভেতরে আছ এবং চিরদিন বাংলাদেশ যত দিন আছে, তুমি সকল বাংলাদেশির বুকের মধ্যে থাকবে। এটা কেউ সরাতে পারবে না।”

জানাজায় ইমামতি করেন হাদির বড় ভাই আবু বকর সিদ্দিক। জানাজার আগে দেওয়া বক্তব্যে তিনি ভাই হত্যার বিচার দাবি করেন। এ সময় ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের হাদি হত্যার বিচার দাবিতে আন্দোলনে কোনো ধরনের সহিংসতা না চালানোর আহ্বান জানান। জানাজায় আরও উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ, এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও ধর্ম উপদেষ্টা আ ফ ম খালিদ হোসেন।

জানাজা শেষে হাদির কফিন নিয়ে বিশাল মিছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্দেশে রওনা হয়। বিকেল তিনটার দিকে কফিন বিশ্ববিদ্যালয় মসজিদ এলাকায় পৌঁছায় এবং সব আনুষ্ঠানিকতা শেষে বিকেল চারটার দিকে জাতীয় কবির সমাধির পাশে তাকে দাফন করা হয়।

শনিবার সকালে সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে হাদির মরদেহ জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে গোসল করানো হয়। সেখান থেকেই মরদেহ জানাজার জন্য সংসদ ভবন এলাকায় নেওয়া হয়েছিল।

ঝালকাঠির নলছিটির সন্তান ওসমান হাদি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ থেকে পড়াশোনা শেষ করে একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করতেন। গত বছর জুলাই অভ্যুত্থানে সক্রিয় ভূমিকার পর তিনি ইনকিলাব মঞ্চ গঠন করেন। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে তিনি প্রচারণায় ছিলেন।

গত ১২ ডিসেম্বর দুপুরে রাজধানীর বিজয়নগরে নির্বাচনী প্রচারণার সময় দুর্বৃত্তদের গুলিতে মাথায় আঘাত পান শরিফ ওসমান হাদি। প্রথমে দেশে ও পরে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১৮ ডিসেম্বর রাতে তার মৃত্যু হয়। পুলিশ জানিয়েছে, হাদি হত্যাকাণ্ডে জড়িত ফয়সাল করিম মাসুদ নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতা। এ ঘটনায় পুলিশ ১৪ জনকে আটক করলেও মূল অভিযুক্ত ফয়সাল করিম এখনো পলাতক রয়েছেন।

পাঠকপ্রিয়