সোমবার, ১৯ জানুয়ারি ২০২৬

সর্বশেষ

শরিকদের জন্য ২৮ আসন রেখেছে বিএনপি, অপেক্ষায় এলডিপি-নাগরিক ঐক্য-গণঅধিকার

নিজস্ব প্রতিবেদক

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে যুগপৎ আন্দোলনের শরিক ও সমমনা দলগুলোর সঙ্গে আসন সমঝোতা চূড়ান্ত করতে শুরু করেছে বিএনপি। এরই অংশ হিসেবে প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিকভাবে শরিক দল জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের জন্য চারটি আসন ছেড়ে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে দলটি। মঙ্গলবার দুপুরে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ ঘোষণা দেন।

সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানান, শরিকদের সঙ্গে বিএনপির সম্পর্ক আরও গভীর হয়েছে। যেসব আসনে শরিকদের সঙ্গে সমঝোতা হবে, সেখানে বিএনপির কোনো প্রার্থী থাকবে না। এমনকি দলের কেউ বিদ্রোহী প্রার্থী হতে চাইলে তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে শর্ত অনুযায়ী, শরিক দলগুলো কেবল সমঝোতার মাধ্যমে পাওয়া আসনগুলোতেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে, অন্য কোথাও প্রার্থী দিতে পারবে না।

জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের জন্য ছেড়ে দেওয়া চারটি আসন হলো সিলেট–৫, ব্রাহ্মণবাড়িয়া–২, নীলফামারী–১ এবং নারায়ণগঞ্জ–৪। এসব আসনে জমিয়তের প্রার্থীরা হলেন দলের সভাপতি মাওলানা মোহাম্মদ উবায়দুল্লাহ ফারুক (সিলেট-৫), সহসভাপতি মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব (ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২), মহাসচিব মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী (নীলফামারী-১) এবং কেন্দ্রীয় নেতা মুফতি মনির হোসেন কাসেমী (নারায়ণগঞ্জ-৪)। তারা নিজ দলীয় প্রতীক ‘খেজুরগাছ’ নিয়ে নির্বাচনে অংশ নেবেন।

দলীয় প্রার্থীদের নাম ঘোষণার আগে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সভাপতি মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক বলেন, ইসলামী মূল্যবোধে বিশ্বাসী দল হওয়ায় দেশের রাজনৈতিক নেতৃত্বে স্থিতিশীলতা ও নৈতিকতার প্রশ্নে বিএনপির প্রতি তাঁরা আস্থা রেখেছেন।

বিএনপি এখন পর্যন্ত দুই দফায় ২৭২টি আসনে দলীয় প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেছে। বাকি ২৮টি আসন শরিকদের সঙ্গে সমঝোতার মাধ্যমে বণ্টন করা হবে। এর মধ্যে জমিয়তকে চারটি আসন দেওয়ার পর নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি এবং জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলকে (জেএসডি) একটি করে আসন দেওয়ার বিষয়টি প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

এদিকে আসন সমঝোতার প্রক্রিয়ার মধ্যেই নিজের দল বিলুপ্ত করে বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন বাংলাদেশ লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান শাহাদাত হোসেন সেলিম এবং বাংলাদেশ জাতীয় দলের চেয়ারম্যান সৈয়দ এহসানুল হুদা। শাহাদাত হোসেন সেলিমকে লক্ষ্মীপুর–১ (রামগঞ্জ) আসনে বিএনপির প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে। অন্যদিকে সৈয়দ এহসানুল হুদা কিশোরগঞ্জ–৫ আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করতে আগ্রহী এবং এ বিষয়ে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব ইতিবাচক বলে জানা গেছে।

এছাড়া লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ ও মহাসচিব রেদোয়ান আহমেদ, জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর) চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দার এবং ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (এনপিপি) চেয়ারম্যান ফরিদুজ্জামান ফরহাদকে আসন ছেড়ে দেওয়ার বিষয়টিও বিএনপির সক্রিয় বিবেচনায় রয়েছে। ঢাকা-১৭ আসনে বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান আন্দালিভ রহমান পার্থ এবং ঢাকা-১৩ আসনে এনডিএমের চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজের বিষয়েও আলোচনা চলছে। তবে ববি হাজ্জাজের দল নিবন্ধিত না হওয়ায় তিনি বিএনপিতে যোগ দেবেন নাকি অন্য প্রক্রিয়ায় অংশ নেবেন, তা এখনো নিশ্চিত নয়।

যুগপৎ আন্দোলনের আরেক শরিক গণঅধিকার পরিষদ শুরু থেকেই সম্মানজনক আসনের দাবি জানিয়ে আসছিল। দলটির সঙ্গে এখনো সমঝোতা চূড়ান্ত হয়নি। দাবি পূরণ না হলে তারা নিজস্ব প্রতীকে সব আসনে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গেছে। তবে বিএনপি নেতারা আশা করছেন, শিগগিরই সব শরিক দলের সঙ্গে আসন বন্টনের বিষয়টি সুরাহা হবে।

পাঠকপ্রিয়