সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সর্বশেষ

গ্যাস সংকটে বাড়ছে বৈদ্যুতিক চুলার কদর, কিনবেন কোনটি?

👤
নিজস্ব প্রতিবেদক
0 Shares
f

দেশে চলমান গ্যাস সংকট, সিলিন্ডারের চড়া দাম এবং নিরাপত্তার ঝুঁকিতে শহুরে পরিবারগুলোতে বৈদ্যুতিক চুলার ব্যবহার বহুগুণ বেড়েছে। বিশেষ করে ইন্ডাকশন ও ইনফ্রারেড চুলা এখন আধুনিক রান্নাঘরের অপরিহার্য অনুষঙ্গ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে দেখতে অনেকটা একই রকম মনে হলেও এই দুই ধরনের চুলার কাজের পদ্ধতি, পাত্র নির্বাচন এবং ব্যবহারের নিয়ম সম্পূর্ণ আলাদা।

‘এক্সপার্ট কেয়ার’-এর স্বত্বাধিকারী ও টেকনিশিয়ান রুবেল বেপারী জানান, দুই ধরনের চুলার মূল পার্থক্য এর তাপদানের পদ্ধতিতে। ইন্ডাকশন চুলা ইলেকট্রোম্যাগনেটিক ফিল্ডের মাধ্যমে সরাসরি পাত্রের তলা গরম করে। ফলে চুলার উপরিভাগ তুলনামূলক ঠান্ডা থাকে। অন্যদিকে ইনফ্রারেড চুলা ‘হিটিং এলিমেন্ট’-এর সাহায্যে প্রথমে নিজের কাচের প্লেটটি গরম করে এবং সেই তাপ পরে পাত্রে স্থানান্তরিত হয়।

এই পার্থক্যের কারণেই দুই চুলার জন্য পাত্রের ধরনও ভিন্ন হয়ে থাকে। রুবেল বেপারী জানান, ইন্ডাকশন চুলায় রান্না করতে হলে পাত্র নির্বাচনে বিশেষ সতর্ক হতে হবে। এখানে কেবল ফেরোম্যাগনেটিক বা লোহা ও স্টিলভিত্তিক পাত্র ব্যবহার করা যায়। সহজ কথায়, যে পাত্রের তলায় চুম্বক আটকে থাকে, সেটিই এ চুলার জন্য উপযোগী। অ্যালুমিনিয়াম, কাচ, সিরামিক বা তামার পাত্রে এই চুলা কাজ করে না। এছাড়া পাত্রের তলা অবশ্যই সমতল ও পরিষ্কার হতে হবে। পাত্র ছাড়া চুলা চালু করার চেষ্টা করলে যন্ত্রটি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

অন্যদিকে ইনফ্রারেড চুলার সুবিধা হলো, এতে স্টিল, অ্যালুমিনিয়াম, কাচ কিংবা সিরামিক—প্রায় সব ধরনের পাত্রই ব্যবহার করা সম্ভব। তবে এ ক্ষেত্রেও পাত্রের তলা সমতল হওয়া জরুরি। তলা বাঁকা হলে তাপ সমানভাবে ছড়ায় না। তবে ইনফ্রারেড চুলার কাচের প্লেট রান্নার পরও বেশ কিছুক্ষণ গরম থাকে, তাই হাত দেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার এবং অতিরিক্ত ভারী পাত্র জোরে না রাখার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। কারণ এতে কাচের প্লেট ফেটে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।

নিরাপদ রান্নার জন্য রান্নাঘর শুষ্ক ও পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি চুলার আশপাশে দাহ্য বস্তু না রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। রান্না শেষে অবশ্যই প্লাগ খুলে রাখতে হবে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখতে হবে। কাচের প্লেট পরিষ্কার করতে নরম কাপড় ব্যবহার করার কথা বলা হয়েছে।

যারা দ্রুত রান্না, বিদ্যুৎ সাশ্রয় এবং নিরাপত্তার বিষয়টিকে প্রাধান্য দিচ্ছেন, তাদের জন্য ইন্ডাকশন চুলা ভালো। আর যারা ঘরে থাকা সব ধরনের পাত্র ব্যবহার করতে চান, তাদের জন্য ইনফ্রারেড চুলাই সুবিধাজনক। সঠিক নিয়ম মেনে ব্যবহার করলে এসব চুলা দীর্ঘস্থায়ী হয় এবং দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব বলে মত দেন এই প্রযুক্তিবিদ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

পাঠকপ্রিয়

যোগাযোগ: সুপ্রিম মার্কেট, ৩য় তলা , ৩২, এন এ চৌধুরী রোড,  আন্দরকিল্লা , চট্টগ্রাম।
ইমেইল : news@banglarpatrika.com
মোবাইল: ০১৭১১-৮৩০৮৭৩

গ্যাস সংকটে বাড়ছে বৈদ্যুতিক চুলার কদর, কিনবেন কোনটি?

নিজস্ব প্রতিবেদক
১৫ জানুয়ারি ২০২৬, ১৪:১১

দেশে চলমান গ্যাস সংকট, সিলিন্ডারের চড়া দাম এবং নিরাপত্তার ঝুঁকিতে শহুরে পরিবারগুলোতে বৈদ্যুতিক চুলার ব্যবহার বহুগুণ বেড়েছে। বিশেষ করে ইন্ডাকশন ও ইনফ্রারেড চুলা এখন আধুনিক রান্নাঘরের অপরিহার্য অনুষঙ্গ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে দেখতে অনেকটা একই রকম মনে হলেও এই দুই ধরনের চুলার কাজের পদ্ধতি, পাত্র নির্বাচন এবং ব্যবহারের নিয়ম সম্পূর্ণ আলাদা।

‘এক্সপার্ট কেয়ার’-এর স্বত্বাধিকারী ও টেকনিশিয়ান রুবেল বেপারী জানান, দুই ধরনের চুলার মূল পার্থক্য এর তাপদানের পদ্ধতিতে। ইন্ডাকশন চুলা ইলেকট্রোম্যাগনেটিক ফিল্ডের মাধ্যমে সরাসরি পাত্রের তলা গরম করে। ফলে চুলার উপরিভাগ তুলনামূলক ঠান্ডা থাকে। অন্যদিকে ইনফ্রারেড চুলা ‘হিটিং এলিমেন্ট’-এর সাহায্যে প্রথমে নিজের কাচের প্লেটটি গরম করে এবং সেই তাপ পরে পাত্রে স্থানান্তরিত হয়।

এই পার্থক্যের কারণেই দুই চুলার জন্য পাত্রের ধরনও ভিন্ন হয়ে থাকে। রুবেল বেপারী জানান, ইন্ডাকশন চুলায় রান্না করতে হলে পাত্র নির্বাচনে বিশেষ সতর্ক হতে হবে। এখানে কেবল ফেরোম্যাগনেটিক বা লোহা ও স্টিলভিত্তিক পাত্র ব্যবহার করা যায়। সহজ কথায়, যে পাত্রের তলায় চুম্বক আটকে থাকে, সেটিই এ চুলার জন্য উপযোগী। অ্যালুমিনিয়াম, কাচ, সিরামিক বা তামার পাত্রে এই চুলা কাজ করে না। এছাড়া পাত্রের তলা অবশ্যই সমতল ও পরিষ্কার হতে হবে। পাত্র ছাড়া চুলা চালু করার চেষ্টা করলে যন্ত্রটি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

অন্যদিকে ইনফ্রারেড চুলার সুবিধা হলো, এতে স্টিল, অ্যালুমিনিয়াম, কাচ কিংবা সিরামিক—প্রায় সব ধরনের পাত্রই ব্যবহার করা সম্ভব। তবে এ ক্ষেত্রেও পাত্রের তলা সমতল হওয়া জরুরি। তলা বাঁকা হলে তাপ সমানভাবে ছড়ায় না। তবে ইনফ্রারেড চুলার কাচের প্লেট রান্নার পরও বেশ কিছুক্ষণ গরম থাকে, তাই হাত দেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার এবং অতিরিক্ত ভারী পাত্র জোরে না রাখার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। কারণ এতে কাচের প্লেট ফেটে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।

নিরাপদ রান্নার জন্য রান্নাঘর শুষ্ক ও পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি চুলার আশপাশে দাহ্য বস্তু না রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। রান্না শেষে অবশ্যই প্লাগ খুলে রাখতে হবে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখতে হবে। কাচের প্লেট পরিষ্কার করতে নরম কাপড় ব্যবহার করার কথা বলা হয়েছে।

যারা দ্রুত রান্না, বিদ্যুৎ সাশ্রয় এবং নিরাপত্তার বিষয়টিকে প্রাধান্য দিচ্ছেন, তাদের জন্য ইন্ডাকশন চুলা ভালো। আর যারা ঘরে থাকা সব ধরনের পাত্র ব্যবহার করতে চান, তাদের জন্য ইনফ্রারেড চুলাই সুবিধাজনক। সঠিক নিয়ম মেনে ব্যবহার করলে এসব চুলা দীর্ঘস্থায়ী হয় এবং দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব বলে মত দেন এই প্রযুক্তিবিদ।