জুলাই অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্র প্রস্তুত করতে চট্টগ্রামের রাউজান ও রাঙ্গুনিয়ায় সংখ্যালঘুদের বসতঘরে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটানো হয়েছিল। বিস্ময়কর তথ্য হলো, এই নাশকতার জন্য খোদ ক্ষতিগ্রস্ত পাঁচটি পরিবারের কর্তাদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল ১৩ লাখ টাকা। খাগড়াছড়ির মানিকছড়ির গহীন পাহাড়ে এক গোপন বৈঠকে এই পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়।
সোমবার (১৩ জানুয়ারি) চট্টগ্রামের জ্যেষ্ঠ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নুরুল হারুনের আদালতে ১৬৪ ধারায় দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে এসব চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন মামলার অন্যতম আসামি মনির হোসেন।
জবানবন্দিতে মনির হোসেন জানান, গত ডিসেম্বরে ঘটা এসব অগ্নিসংযোগের নেপথ্যে ছিলেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা মোহাম্মদ লোকমান। মায়ের হত্যার বিচার চাইতে গিয়ে মনির এই চক্রের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। লোকমান তাকে আশ্বাস দেন, শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরাতে পারলে তার মায়ের হত্যার বিচার নিশ্চিত করা হবে। তবে এর জন্য শর্ত হিসেবে সংখ্যালঘুদের বসতঘরে আগুন দিয়ে দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে বলা হয়। বিনিময়ে তাকে ১ লাখ টাকা দেওয়া হয় এবং ভবিষ্যতে রাঙামাটি পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর বানানোর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়।
মনির আদালতকে জানান, রাউজানে প্রথম আগুনের ঘটনার কয়েক দিন আগে খাগড়াছড়ির মানিকছড়িতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের এক নেতার বাড়িতে গোপন বৈঠক হয়। ওই বৈঠকে অগ্নিসংযোগের লক্ষ্যবস্তু হিসেবে নির্ধারিত পাঁচটি ঘরের মালিকপক্ষের পাঁচজন উপস্থিত ছিলেন। সেখানেই রাঙামাটির এক সাবেক কাউন্সিলর ওই পাঁচ পরিবারের কর্তাদের হাতে ক্ষতিপূরণ বাবদ অগ্রিম ১৩ লাখ টাকা তুলে দেন।
পরিকল্পনা ছিল, সংখ্যালঘুদের ঘরে আগুন দিলে সারা দেশে তারা রাজপথে নেমে আসবে। একপর্যায়ে ভারতেও এর প্রতিবাদ শুরু হবে, যা আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টি করবে। এই সুযোগে দুই দিনের মধ্যে শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরানো সম্ভব হবে বলে বৈঠকে আলোচনা হয়।
এদিকে টাকার বিনিময়ে নিজের বাড়িতে আগুন লাগানোর অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত রাউজান পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা বিমল তালুকদার।
এ বিষয়ে চট্টগ্রাম রেঞ্জ পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) আহসান হাবিব পলাশ বলেন, অগ্নিসংযোগের ঘটনাগুলো ছিল পুরোপুরি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। এ ঘটনায় গত ২ জানুয়ারি রাঙামাটি কলেজগেট এলাকা থেকে মনির হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আরও ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার অন্যরা হলেন—মোহাম্মদ ওমর ফারুক, মোহাম্মদ কবির হোসেন, কার্তিক দে, বিপ্লব বড়ুয়া, মোহাম্মদ লোকমান ও মো. পারভেজ।