সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সর্বশেষ

চট্টগ্রামে ড্রোন কারখানা: আকাশে উড়বে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ ড্রোন!

👤
নিজস্ব প্রতিবেদক
0 Shares
f

স্কাই বিজ লিমিটেড নামের একটি বাংলাদেশী কোম্পানি চট্টগ্রামে ড্রোন কারখানা স্থাপন করবে। মিরসরাইয়ের বেপজা অর্থনৈতিক অঞ্চলে দুই একর জমির উপর এই উদ্যোগে প্রায় ৫৫০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হবে।

ড্রোন হলো পাইলটবিহীন বিমান, যা ইউএভি নামেও পরিচিত।

ড্রোনের ব্যবহার আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থায় ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রথমে মূলত সামরিক ও মহাকাশ গবেষণায় ব্যবহৃত হলেও বর্তমানে এর ব্যবহার আরও ব্যাপক হয়েছে।

প্যাকেজ বিতরণ, মানুষ, রক্ত ও পণ্য পরিবহন, কৃষিকাজে সাহায্য, পাহাড়ধসের পূর্বাভাস, সেতু ও ভবনের ত্রুটি শনাক্তকরণ, যানবাহন গণনা, সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন, জমি পরিমাপ, ছবি তোলা, যন্ত্রপাতি ত্রুটি নির্ণয়, নদীর পানির গুণাগুণ পরীক্ষা ইত্যাদি নানা কাজে এখন ড্রোন ব্যবহার করা হচ্ছে। এই ক্ষেত্রে উদ্ভাবনী গবেষণা অব্যাহত থাকায় ড্রোন শিল্পের বাজারমূল্যও ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে।

ড্রোন কারখানা : বাংলাদেশের অগ্রগতি

বাংলাদেশে ড্রোন তৈরির ইতিহাস ২০১৪ সালে শুরু হয়, যখন সিলেট শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গবেষণা দল প্রথম ড্রোন তৈরি করে। এরপর থেকে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ড্রোন তৈরির চেষ্টা করে আসছে এবং কিছুটা সাফল্যও অর্জন করেছে।

সম্প্রতি, কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা ‘ওয়াটার ড্রোন’ নামে একটি ড্রোন তৈরি করেছে, যা দুই কিলোমিটার দূরত্বে ৭ কেজি ওজনের ত্রাণ সরবরাহ করতে পারে। তবে, পর্যাপ্ত বিনিয়োগ এবং প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশের অভাব ড্রোন তৈরির প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করছে।

স্কাই বিজ লিমিটেড বেপজা অর্থনৈতিক অঞ্চলে একটি ড্রোন কারখানা স্থাপন করতে ৪ কোটি ৫৯ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করছে। গত বৃহস্পতিবার ঢাকায় বেপজা কর্তৃপক্ষের সাথে স্কাই বিজ লিমিটেডের এই বিষয়ে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।

বেপজার বিনিয়োগ-উন্নয়ন বিভাগের সদস্য মো. আশরাফুল কবীর এবং স্কাই বিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জসীম উদ্দিন আহমেদ চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর করেন।

স্কাই বিজের ড্রোন কারখানাটি বছরে ১০টি ভিন্ন মডেলের ৭,৩১৪টি ড্রোন তৈরি করতে সক্ষম হবে। এই ড্রোনগুলো কৃষিকাজে কীটনাশক প্রয়োগ, অগ্নিনির্বাপণ, জরুরি উদ্ধার, পণ্য সরবরাহ, সিনেমা চিত্রগ্রহণ, ম্যাপিং ইত্যাদি কাজে ব্যবহার করা যাবে।

বাংলাদেশে বাণিজ্যিক এবং রফতানির উদ্দেশ্যে ড্রোন তৈরির এটিই প্রথম উদ্যোগ। মিরসরাইয়ের বেপজা অর্থনৈতিক অঞ্চলে এই ড্রোন কারখানা স্থাপিত হলে স্থানীয় জনগণের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।

চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বেপজার নির্বাহী চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল আবুল কালাম মোহাম্মদ জিয়াউর রহমান বলেন, স্কাই বিজ লিমিটেডের এই উদ্যোগ বাংলাদেশে ড্রোন তৈরির ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে এবং দেশের রফতানি বাজারকে সমৃদ্ধ করবে।

স্কাই বিজ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাস থেকে তারা দুটি মডেলের ড্রোন বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন শুরু করবে। প্রথমে অগ্নিনির্বাপণের জন্য রোটারি উইং ড্রোন এবং সিনেমা, ম্যাপিং ও নিরাপত্তার জন্য ফিক্সড উইং ড্রোন তৈরি করা হবে।

কারখানাটি চালু হলে প্রতি বছর ৭,৩১৪টি বিভিন্ন মডেলের ড্রোন তৈরি করে রফতানি করা সম্ভব হবে, যা থেকে প্রায় ২,৩০০ কোটি টাকা আয় হবে।

মিরসরাই শিল্পনগরে বেপজা কর্তৃপক্ষ ১,১৩৮ একর জমির উপর ৫৩৯টি শিল্প প্লট নিয়ে একটি অর্থনৈতিক অঞ্চল তৈরি করছে। এই অঞ্চলে ইতোমধ্যে জুতার কাঁচামাল, পোশাক এবং ফোম তৈরির তিনটি কারখানা উৎপাদন শুরু করেছে। এছাড়াও, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান শিল্পকারখানা স্থাপনের জন্য ১৫০টি প্লট বরাদ্দ নিয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

পাঠকপ্রিয়

যোগাযোগ: সুপ্রিম মার্কেট, ৩য় তলা , ৩২, এন এ চৌধুরী রোড,  আন্দরকিল্লা , চট্টগ্রাম।
ইমেইল : news@banglarpatrika.com
মোবাইল: ০১৭১১-৮৩০৮৭৩

চট্টগ্রামে ড্রোন কারখানা: আকাশে উড়বে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ ড্রোন!

নিজস্ব প্রতিবেদক
৫ অক্টোবর ২০২৪, ০৮:২০

স্কাই বিজ লিমিটেড নামের একটি বাংলাদেশী কোম্পানি চট্টগ্রামে ড্রোন কারখানা স্থাপন করবে। মিরসরাইয়ের বেপজা অর্থনৈতিক অঞ্চলে দুই একর জমির উপর এই উদ্যোগে প্রায় ৫৫০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হবে।

ড্রোন হলো পাইলটবিহীন বিমান, যা ইউএভি নামেও পরিচিত।

ড্রোনের ব্যবহার আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থায় ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রথমে মূলত সামরিক ও মহাকাশ গবেষণায় ব্যবহৃত হলেও বর্তমানে এর ব্যবহার আরও ব্যাপক হয়েছে।

প্যাকেজ বিতরণ, মানুষ, রক্ত ও পণ্য পরিবহন, কৃষিকাজে সাহায্য, পাহাড়ধসের পূর্বাভাস, সেতু ও ভবনের ত্রুটি শনাক্তকরণ, যানবাহন গণনা, সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন, জমি পরিমাপ, ছবি তোলা, যন্ত্রপাতি ত্রুটি নির্ণয়, নদীর পানির গুণাগুণ পরীক্ষা ইত্যাদি নানা কাজে এখন ড্রোন ব্যবহার করা হচ্ছে। এই ক্ষেত্রে উদ্ভাবনী গবেষণা অব্যাহত থাকায় ড্রোন শিল্পের বাজারমূল্যও ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে।

ড্রোন কারখানা : বাংলাদেশের অগ্রগতি

বাংলাদেশে ড্রোন তৈরির ইতিহাস ২০১৪ সালে শুরু হয়, যখন সিলেট শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গবেষণা দল প্রথম ড্রোন তৈরি করে। এরপর থেকে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ড্রোন তৈরির চেষ্টা করে আসছে এবং কিছুটা সাফল্যও অর্জন করেছে।

সম্প্রতি, কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা ‘ওয়াটার ড্রোন’ নামে একটি ড্রোন তৈরি করেছে, যা দুই কিলোমিটার দূরত্বে ৭ কেজি ওজনের ত্রাণ সরবরাহ করতে পারে। তবে, পর্যাপ্ত বিনিয়োগ এবং প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশের অভাব ড্রোন তৈরির প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করছে।

স্কাই বিজ লিমিটেড বেপজা অর্থনৈতিক অঞ্চলে একটি ড্রোন কারখানা স্থাপন করতে ৪ কোটি ৫৯ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করছে। গত বৃহস্পতিবার ঢাকায় বেপজা কর্তৃপক্ষের সাথে স্কাই বিজ লিমিটেডের এই বিষয়ে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।

বেপজার বিনিয়োগ-উন্নয়ন বিভাগের সদস্য মো. আশরাফুল কবীর এবং স্কাই বিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জসীম উদ্দিন আহমেদ চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর করেন।

স্কাই বিজের ড্রোন কারখানাটি বছরে ১০টি ভিন্ন মডেলের ৭,৩১৪টি ড্রোন তৈরি করতে সক্ষম হবে। এই ড্রোনগুলো কৃষিকাজে কীটনাশক প্রয়োগ, অগ্নিনির্বাপণ, জরুরি উদ্ধার, পণ্য সরবরাহ, সিনেমা চিত্রগ্রহণ, ম্যাপিং ইত্যাদি কাজে ব্যবহার করা যাবে।

বাংলাদেশে বাণিজ্যিক এবং রফতানির উদ্দেশ্যে ড্রোন তৈরির এটিই প্রথম উদ্যোগ। মিরসরাইয়ের বেপজা অর্থনৈতিক অঞ্চলে এই ড্রোন কারখানা স্থাপিত হলে স্থানীয় জনগণের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।

চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বেপজার নির্বাহী চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল আবুল কালাম মোহাম্মদ জিয়াউর রহমান বলেন, স্কাই বিজ লিমিটেডের এই উদ্যোগ বাংলাদেশে ড্রোন তৈরির ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে এবং দেশের রফতানি বাজারকে সমৃদ্ধ করবে।

স্কাই বিজ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাস থেকে তারা দুটি মডেলের ড্রোন বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন শুরু করবে। প্রথমে অগ্নিনির্বাপণের জন্য রোটারি উইং ড্রোন এবং সিনেমা, ম্যাপিং ও নিরাপত্তার জন্য ফিক্সড উইং ড্রোন তৈরি করা হবে।

কারখানাটি চালু হলে প্রতি বছর ৭,৩১৪টি বিভিন্ন মডেলের ড্রোন তৈরি করে রফতানি করা সম্ভব হবে, যা থেকে প্রায় ২,৩০০ কোটি টাকা আয় হবে।

মিরসরাই শিল্পনগরে বেপজা কর্তৃপক্ষ ১,১৩৮ একর জমির উপর ৫৩৯টি শিল্প প্লট নিয়ে একটি অর্থনৈতিক অঞ্চল তৈরি করছে। এই অঞ্চলে ইতোমধ্যে জুতার কাঁচামাল, পোশাক এবং ফোম তৈরির তিনটি কারখানা উৎপাদন শুরু করেছে। এছাড়াও, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান শিল্পকারখানা স্থাপনের জন্য ১৫০টি প্লট বরাদ্দ নিয়েছে।