সোমবার, ১৯ জানুয়ারি ২০২৬

সর্বশেষ

মেটাভার্স: ইন্টারনেটের ভবিষ্যৎ নাকি কল্পনার দুনিয়া?

শরীফুল রুকন

বদলে যাচ্ছে আগামীর বিশ্ব। প্রযুক্তির হাত ধরে এমন এক ভবিষ্যৎ আসছে, যেখানে বাস্তব আর কল্পনার সীমারেখা মুছে যাচ্ছে। প্রযুক্তির এই অসীম শক্তির বদৌলতে মানুষ এখন ভার্চুয়াল জগতের সঙ্গে এমনভাবে যুক্ত হচ্ছে, যেন সেই কল্পনার দুনিয়া বাস্তবের চেয়ে কম কিছু নয়। ভার্চুয়াল রিয়্যালিটি (ভিআর) সেই প্রযুক্তি, যা মানুষের সামনে তৈরি করেছে এক কৃত্রিম, ত্রিমাত্রিক বাস্তবতার জগৎ। এই ভার্চুয়াল দুনিয়ায় আমরা যেমন দেখতে পারি, তেমনই স্পর্শ করতে পারি, এমনকি অনুভবও করতে পারি। কর্মক্ষেত্র থেকে শুরু করে খেলাধুলা, শিক্ষাদীক্ষা থেকে কেনাকাটা—সবকিছুই এখন এই অন্য দুনিয়ায় চলতে পারে।

ভার্চুয়াল রিয়্যালিটি মূলত কম্পিউটার দ্বারা সৃষ্ট এক কৃত্রিম পরিবেশ, যেখানে মানুষ কৃত্রিমভাবে তৈরি ত্রিমাত্রিক জগৎ অনুভব করতে পারে। এটি এমন একটি প্রযুক্তি, যা আমাদের বাস্তব জীবনের সঙ্গে মিল রেখে এক কল্পনাপ্রসূত অভিজ্ঞতা প্রদান করে। প্রথম যখন এই ধারণাটি উঠে আসে, তখন অনেকেই ভাবেনি যে এটি একদিন বাস্তবতার এতটা কাছাকাছি পৌঁছে যাবে। কিন্তু গত কয়েক বছরে ভিআর প্রযুক্তির এমন উন্নতি হয়েছে যে, এখন মনে হয় আপনি ভার্চুয়াল জগতে ঘুরে বেড়ানোর সময় সবকিছুই বাস্তব।

ভার্চুয়াল রিয়্যালিটির শুরুর দিন

ভার্চুয়াল রিয়্যালিটির ধারণা কিন্তু নতুন কিছু নয়। ১৯৬২ সালে চলচ্চিত্র নির্মাতা মর্টন হেলিগ ‘সেনসোরামা’ নামের একটি যন্ত্র তৈরি করেন, যা মূলত ভার্চুয়াল রিয়্যালিটির প্রথম ধাপ হিসেবে বিবেচিত হয়। এই যন্ত্রটির মাধ্যমে মানুষ ত্রিমাত্রিক ছবি দেখতে পারত, এমনকি অনুভূতি এবং গন্ধও পাওয়া যেত। যদিও এটি বড় আকারের হওয়ায় ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য তেমন সুবিধাজনক ছিল না। তবে ১৯৬৮ সালে মার্কিন বিজ্ঞানী আইভান সাদারল্যান্ড ভার্চুয়াল রিয়্যালিটি প্রযুক্তিতে এক নতুন মাইলফলক স্থাপন করেন। তিনি একটি মাথায় পরার মতো ছোট ভিআর যন্ত্র তৈরি করেন, যা ব্যক্তিগতভাবে ব্যবহার করা সম্ভব ছিল। এরপর বেশ কয়েকটি সামরিক ও সরকারি প্রতিষ্ঠানে প্রশিক্ষণমূলক কাজে এই প্রযুক্তির ব্যবহার দেখা যায়। লড়াইয়ের কৌশল শেখা কিংবা বিমান চালনার মতো জটিল বিষয়গুলো শিখতে ভিআর বেশ কার্যকর প্রমাণিত হয়।

তবে ‘ভার্চুয়াল রিয়্যালিটি’ নামটি চালু হয় আরও পরে, আশির দশকে। মার্কিন কম্পিউটার বিজ্ঞানী জ্যারন ল্যানিয়ার প্রথমবারের মতো এই শব্দযুগল ব্যবহার করেন। নব্বইয়ের দশকে কিছু ভিআর যন্ত্র তৈরি হলেও তা তখন সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছাতে পারেনি। প্রযুক্তির সীমাবদ্ধতার কারণে সেসময় ভিআর এর ব্যাপক ব্যবহার সম্ভব হয়ে ওঠেনি।

বর্তমান সময়ে ভিআর প্রযুক্তির অগ্রগতি

গত কয়েক বছরে ভিআর প্রযুক্তির অভূতপূর্ব উন্নতি হয়েছে। আজকের দুনিয়ায় আমরা এমন সব ভিআর হেডসেট পেয়েছি, যা আমাদের চোখকে এমনভাবে ধোঁকা দিতে পারে যে আমরা যা দেখছি তা একদম ত্রিমাত্রিক বলে মনে হয়। এই প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে মানুষ ভার্চুয়াল পৃথিবীতে নিজেকে সম্পূর্ণভাবে নিমগ্ন করতে পারে। এটি আজ আর কল্পনা নয়—প্রযুক্তির সাহায্যে এক নতুন বাস্তবতায় পরিণত হয়েছে।

এখন ভিআর হেডসেটগুলো এমনভাবে তৈরি হচ্ছে যে, কম্পিউটার বা অন্যান্য বাহ্যিক ডিভাইস ছাড়াই সহজেই ভার্চুয়াল অভিজ্ঞতা পাওয়া যায়। বিশেষ করে মেটা (পূর্বে ফেসবুক) কোম্পানির ‘মেটাভার্স’ প্রকল্পের মাধ্যমে এই প্রযুক্তি জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। মেটা তাদের প্রথম ভিআর ডিভাইস Oculus বাজারে আনে ২০১৪ সালে, এবং এরপর থেকে তারা ভিআর প্রযুক্তিকে আরো উন্নত করার পথে অগ্রসর হয়। ২০১৬ সালে তাদের Oculus Rift ছিল হাই-অ্যান্ড পিসিভিত্তিক হেডসেট, যা ভিআর দুনিয়ার প্রতি মানুষের আগ্রহ বাড়িয়ে দেয়।

২০১৯ সালে মেটা তাদের Quest সিরিজের প্রথম হেডসেট বাজারে আনে, যা ছিল সম্পূর্ণভাবে স্বাধীনভাবে কাজ করার মতো ভিআর ডিভাইস। এটি কোনো কম্পিউটার বা বাহ্যিক ডিভাইস ছাড়াই ভার্চুয়াল অভিজ্ঞতা প্রদান করে। ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে ভিআর প্রযুক্তির ব্যবহার ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পায়। সম্প্রতি, মেটার কোয়েস্ট সিরিজের সর্বশেষ সংযোজন, Meta Quest 3, বাজারে এসেছে, যা প্রযুক্তির ক্ষেত্রে এক যুগান্তকারী পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়।

কেনাকাটার নতুন দিগন্ত: ভার্চুয়াল শপিং

ভিআর প্রযুক্তির মাধ্যমে ভার্চুয়াল দুনিয়ায় কেনাকাটার ক্ষেত্রেও পরিবর্তন আসছে। আগেকার সময়ের মতো আর দোকানে গিয়ে পণ্য কেনার দরকার নেই। এখন ঘরে বসেই, ভার্চুয়াল দুনিয়ায় প্রবেশ করে কেনাকাটা করা সম্ভব। শুধু তাই নয়, পণ্যের মূল্যও পরিশোধ করা যায় ক্রিপ্টোকারেন্সি বা ডিজিটাল মুদ্রার মাধ্যমে। করোনাকালে এই অনলাইন ব্যবসার প্রবণতা আরো বাড়তে থাকে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে ভার্চুয়াল শপিং স্পেসে গিয়ে পণ্য কেনাকাটা করে। যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে প্রায় ৮ কোটি মানুষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে কেনাকাটা করে, এবং বিশেষজ্ঞদের ধারণা, এই সংখ্যা আগামীতে ১০ কোটিরও বেশি ছাড়িয়ে যাবে।

ইনফ্লুয়েন্সার মার্কেটিং: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নতুন শক্তি

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইনফ্লুয়েন্সারদের প্রভাব এখন আগের চেয়ে বহুগুণ বেশি বেড়েছে। ইনফ্লুয়েন্সার মার্কেটিং হচ্ছে এমন এক প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জনপ্রিয় ব্যক্তিরা বিভিন্ন ব্র্যান্ডের পণ্য প্রচার করেন। এই মার্কেটিং কৌশল এতটাই কার্যকর যে, বিভিন্ন কোম্পানি এখন তাদের পণ্যের প্রচারের জন্য ইনফ্লুয়েন্সারদের ওপর বেশি নির্ভর করছে। ভবিষ্যতে এই প্রবণতা আরও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ইনফ্লুয়েন্সার মার্কেটিং খাতে আগামীতে ১ হাজার ৬০০ কোটি ডলারের ব্যয় হবে। ইতোমধ্যে ফেসবুক, ইনস্টাগ্রামের মতো প্ল্যাটফরমগুলো তাদের অ্যালগরিদমকে বিজ্ঞাপনবান্ধব করার জন্য কাজ করে যাচ্ছে, যার ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্পন্সর করা পোস্টের সংখ্যা বেড়েছে।

ডিজিটাল মুদ্রার আগমনী বার্তা

অর্থনৈতিক লেনদেনে নতুন যুগের সূচনা করতে যাচ্ছে ক্রিপ্টোকারেন্সি। এই ডিজিটাল মুদ্রা, যা ব্লকচেইন প্রযুক্তির মাধ্যমে পরিচালিত হয়, বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন দিগন্তের সূচনা করছে। ক্রিপ্টোগ্রাফির মাধ্যমে পরিচালিত এই মুদ্রা ধরা বা স্পর্শ করা যায় না, তবে এটি দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আগামীতে এই ধরনের ডিজিটাল মুদ্রার ব্যবহার বহুগুণে বাড়বে এবং এর প্রভাব সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়বে। ক্রিপ্টোকারেন্সির বিভিন্ন সুবিধার পাশাপাশি এর কিছু ঝুঁকিও রয়েছে। তবে, বিশ্বজুড়ে প্রায় ৫০০০ ধরনের ডিজিটাল মুদ্রার লেনদেন এখন চলছে, এবং আগামীতে এর বিস্তার আরও বাড়বে।

মেটার মেটাভার্স: ইন্টারনেটের ভবিষ্যৎ

মেটা তাদের মেটাভার্স প্রকল্পের মাধ্যমে ইন্টারনেটের ভবিষ্যৎ তৈরি করতে কাজ করছে। মেটাভার্স এমন এক ভার্চুয়াল জগত, যেখানে মানুষ শুধু কিছু দেখতে পাবে না, বরং তাতে নিজেকে সম্পূর্ণরূপে নিমজ্জিত করতে পারবে। মেটাভার্সের ধারণা ইন্টারনেটের আগামী ধাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যেখানে মানুষের যোগাযোগের ধরনও বদলে যাবে। মেটাভার্সের সাহায্যে মানুষ ভার্চুয়াল জগতকে বাস্তবের মতো অনুভব করতে পারবে এবং ভার্চুয়াল ইন্টারেকশনের মাধ্যমে নতুন অভিজ্ঞতা অর্জন করবে। বলা যায়, ভার্চুয়াল রিয়্যালিটি এবং মেটাভার্স প্রযুক্তি আগামী পৃথিবীর চেহারাকে বদলে দেবে।

প্রযুক্তির এই পরিবর্তনের ধারা শুধু বিনোদন বা খেলার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে না। ভার্চুয়াল রিয়্যালিটি (ভিআর) এবং মেটাভার্স আমাদের কর্মক্ষেত্র, শিক্ষাব্যবস্থা, এবং এমনকি চিকিৎসা ক্ষেত্রেও বিপ্লব ঘটাতে যাচ্ছে। এ প্রযুক্তির মাধ্যমে মানুষ নতুন নতুন অভিজ্ঞতা অর্জন করছে এবং নতুনভাবে কাজ করার সুযোগ পাচ্ছে।

Metaverse digital life

কর্মক্ষেত্রে ভিআর প্রযুক্তির ব্যবহার

কর্মক্ষেত্রে ভার্চুয়াল রিয়্যালিটি প্রযুক্তি বিশেষ ভূমিকা পালন করতে শুরু করেছে। একসময় শুধুমাত্র সামরিক প্রশিক্ষণে বা বিমান চালনার মতো জটিল কাজে ভিআর ব্যবহার হতো। কিন্তু আজকের দিনে এসে অফিসের কাজ, প্রকল্প ব্যবস্থাপনা, এমনকি কর্মচারীদের প্রশিক্ষণেও ভিআর ব্যবহৃত হচ্ছে। বিশেষ করে করোনা মহামারীর পর থেকে ঘরে বসে কাজ করার প্রবণতা বেড়ে গেছে। এখন কর্মীরা আর অফিসে না গিয়েও ভিআর প্রযুক্তির মাধ্যমে ভার্চুয়াল অফিসে যোগ দিতে পারে। মেটাভার্সের ভিআর প্ল্যাটফর্মগুলো এমনভাবে ডিজাইন করা হয়েছে যে কর্মীরা একসঙ্গে ভার্চুয়াল মিটিং, প্রেজেন্টেশন, এমনকি টিমওয়ার্কও করতে পারে, যেন তারা একই জায়গায় বসে কাজ করছে।

বৃহৎ প্রতিষ্ঠানগুলো ভিআর ব্যবহার করে কর্মীদের প্রশিক্ষণ দিতে শুরু করেছে, বিশেষ করে এমন ক্ষেত্রগুলোতে যেখানে বাস্তব জীবনে কোনো ঝুঁকি নিয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া সম্ভব নয়। উদাহরণস্বরূপ, ডাক্তারদের অস্ত্রোপচার শেখানো বা ইঞ্জিনিয়ারদের জটিল যন্ত্রপাতি পরিচালনা করা শেখানোর সময় ভার্চুয়াল রিয়্যালিটি ব্যবহার করা হয়। এতে করে বাস্তব জীবনের মতো অভিজ্ঞতা অর্জন করা যায়, কিন্তু কোনো প্রকার ক্ষতির ঝুঁকি থাকে না। ভবিষ্যতে এই প্রযুক্তি কর্মক্ষেত্রে আরো বিস্তৃতভাবে ব্যবহার হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

শিক্ষাক্ষেত্রে ভিআর প্রযুক্তির প্রভাব

শিক্ষাক্ষেত্রে ভিআর একটি বিপ্লব ঘটানোর সম্ভাবনা তৈরি করেছে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন দেশের স্কুল এবং কলেজগুলোতে ভিআর ব্যবহার করে শিক্ষার্থীদের শেখানো শুরু হয়েছে। ভার্চুয়াল ক্লাসরুমের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা বাস্তবের মতো অভিজ্ঞতা অর্জন করছে। উদাহরণস্বরূপ, একটি ইতিহাসের ক্লাসে শিক্ষার্থীরা প্রাচীন সভ্যতার স্থানগুলোতে ভার্চুয়াল ভ্রমণ করতে পারে, যেন তারা সেখানে নিজে গিয়ে অভিজ্ঞতা অর্জন করছে। একইভাবে বিজ্ঞান ও প্রকৌশল শিক্ষা দেওয়ার ক্ষেত্রে ভিআর প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা জটিল প্রক্রিয়া বা যন্ত্রপাতির কার্যকলাপ সরাসরি দেখতে এবং বুঝতে পারছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভবিষ্যতে ভিআর প্রযুক্তি শিক্ষাক্ষেত্রে এমনভাবে ব্যবহৃত হবে যে, ক্লাসরুমের চার দেয়ালের মধ্যে শিক্ষার সীমাবদ্ধতা আর থাকবে না। শিক্ষার্থীরা ঘরে বসে বিশ্বের যেকোনো প্রান্তের ক্লাসে অংশগ্রহণ করতে পারবে এবং সরাসরি অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারবে। এমনকি যেসব শিক্ষার্থী বাস্তব জীবনে কোথাও যেতে পারে না, তারা ভিআরের মাধ্যমে নতুন অভিজ্ঞতা পেতে পারবে।

চিকিৎসাক্ষেত্রে ভিআরের ভবিষ্যৎ

চিকিৎসাক্ষেত্রেও ভিআর প্রযুক্তি ব্যবহার একটি যুগান্তকারী পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে। বর্তমানে চিকিৎসকেরা ভিআর প্রযুক্তির মাধ্যমে অস্ত্রোপচারের প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন, যেখানে জটিল এবং ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে কীভাবে কাজ করতে হবে, সেটি তারা বাস্তবের মতো অভিজ্ঞতা অর্জন করে শিখছেন। ভিআর এর মাধ্যমে এমন পরিবেশ তৈরি করা সম্ভব, যেখানে বাস্তব পরিস্থিতি থেকে শিক্ষা নেয়া যায়, কিন্তু কোনোরকম ক্ষতির সম্ভাবনা থাকে না।

একইভাবে রোগীর মানসিক স্বাস্থ্য উন্নত করার ক্ষেত্রেও ভিআর ব্যবহৃত হচ্ছে। কিছু রোগীর ক্ষেত্রে মানসিক চাপ এবং উদ্বেগ কমানোর জন্য ভিআর প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে, যেখানে রোগীকে শান্তিপূর্ণ এবং আরামদায়ক পরিবেশে নিয়ে যাওয়া হয়, যেন তারা সেই পরিবেশে থাকতে পারে এবং তাদের মানসিক চাপ কমে আসে। এমনকি কিছু চিকিৎসা প্রক্রিয়ায়, যেমন- ফিজিওথেরাপি এবং পুনর্বাসন, ভিআর প্রযুক্তি ব্যবহৃত হচ্ছে, যেখানে রোগীরা বিভিন্ন ভার্চুয়াল বাস্তবতা অনুভব করে ধীরে ধীরে তাদের পুনরুদ্ধারের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারে।

ডিজিটাল সুস্থতার দিকে পদক্ষেপ

ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলো আমাদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে। তবে এর পাশাপাশি ডিজিটাল সুস্থতা বজায় রাখাও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। টিকটকের মতো প্ল্যাটফর্মগুলো কেবল বিনোদন দেওয়ার জায়গা নয়, বরং মানসিক স্বাস্থ্য রক্ষায়ও ভূমিকা রাখছে। টিকটকের ডিজিটাল ওয়েল-বিয়িং ফিচারের মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা তাদের স্ক্রিন টাইম নিয়ন্ত্রণ করতে পারে এবং নিরাপদে প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করতে পারে। মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, টিকটক এবং অন্যান্য প্ল্যাটফর্মগুলো ব্যবহারকারীদের মানসিক সুস্থতা বজায় রাখার জন্য বিভিন্ন গাইডলাইন প্রদান করে। বিশেষ করে কম বয়সী ব্যবহারকারীদের জন্য তারা প্রতিদিনের স্ক্রিন টাইম সীমিত রাখার ব্যবস্থা রেখেছে, যাতে অতিরিক্ত ব্যবহারজনিত সমস্যা এড়ানো যায়।

ভবিষ্যতের অর্থনীতি: ক্রিপ্টোকারেন্সি এবং ব্লকচেইন প্রযুক্তি

অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে এক নতুন বিপ্লব তৈরি করেছে ক্রিপ্টোকারেন্সি। ডিজিটাল মুদ্রা, যা ব্লকচেইন প্রযুক্তির মাধ্যমে পরিচালিত হয়, একদিকে যেমন নিরাপদ এবং দ্রুত লেনদেনের সুযোগ করে দিচ্ছে, তেমনি এটি ভবিষ্যতের অর্থনৈতিক কাঠামোকেও পরিবর্তন করতে যাচ্ছে। বর্তমানে প্রায় ৫০০০ ধরনের ডিজিটাল মুদ্রার লেনদেন সারা বিশ্বে হচ্ছে এবং এর ব্যবহার ধীরে ধীরে বাড়ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আগামীতে এই ধরনের মুদ্রার ব্যবহার আরও বহুগুণে বাড়বে এবং এটি বিশ্ব অর্থনীতিতে একটি বড় প্রভাব ফেলবে।

ভার্চুয়াল রিয়্যালিটির ভবিষ্যৎ এবং আমাদের জীবন

ভিআর প্রযুক্তি, মেটাভার্স, এবং ক্রিপ্টোকারেন্সির যৌথ প্রয়োগ আমাদের দৈনন্দিন জীবনে একটি বিপ্লব ঘটাতে যাচ্ছে। ইন্টারনেট, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, কর্মক্ষেত্র, শিক্ষা, চিকিৎসা এবং এমনকি অর্থনৈতিক লেনদেন—সব ক্ষেত্রেই ভার্চুয়াল রিয়্যালিটি তার প্রভাব বিস্তার করছে। প্রযুক্তির অগ্রগতির ফলে আমরা এমন এক দুনিয়ার দিকে এগিয়ে যাচ্ছি, যেখানে বাস্তব এবং কল্পনার মধ্যে কোনো পার্থক্য থাকবে না।

বিশ্ব এখন দ্রুত বদলাচ্ছে এবং সেই পরিবর্তনের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ভার্চুয়াল রিয়্যালিটি।

পাঠকপ্রিয়