সোমবার, ১৯ জানুয়ারি ২০২৬

সর্বশেষ

ডায়াবেটিসের লক্ষণ, ঝুঁকি ও প্রতিরোধে করণীয়: সহজ পরামর্শ

নিজস্ব প্রতিবেদক

সালমা বেগম দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ বোধ করছিলেন। শরীর শুকিয়ে যাচ্ছিল, ক্লান্তি আর অবসাদ ছিল নিত্যসঙ্গী। কিন্তু সমস্যার আসল কারণ তার অজানা ছিল। শেষমেশ একজন চিকিৎসকের পরামর্শে বিভিন্ন পরীক্ষা করান। তখনই ধরা পড়ে, তিনি ডায়াবেটিসে আক্রান্ত।

সালমা বলছিলেন, “অনেক দিন ধরেই ডায়াবেটিস হয়েছে, কিন্তু আমি টেরই পাইনি।”

বাংলাদেশে ডায়াবেটিস রোগীদের প্রায় ৫০ শতাংশই জানেন না যে তারা এই রোগে আক্রান্ত। বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক এ. কে. আজাদ খান বলেন, “ডায়াবেটিস সম্পর্কে সচেতনতার অভাব আমাদের জন্য বড় সমস্যা।”

জাতীয় জরিপ অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে এক কোটি ১০ লাখ মানুষ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত। এর মধ্যে ১৮ থেকে ৩৪ বছর বয়সীদের সংখ্যা ২৬ লাখ। ৩৫ বছরের বেশি বয়সীদের মধ্যে এই সংখ্যা ৮৪ লাখ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ডায়াবেটিস ধরা না পড়লে বা চিকিৎসা না হলে এটি কিডনি, লিভার, চোখ, এমনকি ত্বকেও ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে। এছাড়া শরীরের চুল পড়া এবং অন্যান্য অঙ্গপ্রত্যঙ্গের ক্ষতি হওয়ার ঝুঁকিও থাকে।

ডায়াবেটিক সমিতির মহাসচিব মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন বলেন, “ডায়াবেটিস একটি ধীরগতির ঘাতক। প্রথমদিকে এটি তেমন সমস্যা তৈরি না করলেও ধীরে ধীরে শরীরের ভেতরে ক্ষয় করে।”

তিনি আরও যোগ করেন, “যদি প্রতিদিন অন্তত ১০ হাজার কদম হাঁটা যায় এবং জীবনযাপনে পরিবর্তন আনা যায়, তাহলে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।”

লক্ষণগুলো খেয়াল করুন

ডায়াবেটিসের কিছু প্রাথমিক লক্ষণ রয়েছে। যেমন:

– ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়া
– পিপাসা বেশি লাগা
– ওজন হ্রাস
– চোখে কম দেখা
– ক্ষুধা বেড়ে যাওয়া
– শরীরের ক্ষত শুকাতে দেরি হওয়া

যে কেউ এই লক্ষণগুলো দেখলে দ্রুত ডায়াবেটিস পরীক্ষা করানো উচিত।

ডায়াবেটিসের ঝুঁকিতে কারা?

বিশেষজ্ঞরা বলেন, যাদের পরিবারের সদস্যদের মধ্যে ডায়াবেটিস রয়েছে, তাদের ঝুঁকি বেশি। এছাড়া যারা অলস জীবনযাপন করেন, শারীরিক পরিশ্রম কম করেন, তাদেরও ডায়াবেটিস হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

গর্ভাবস্থায় নারীদের মধ্যে ডায়াবেটিস হওয়ার ঝুঁকি থাকে। এছাড়া যারা উচ্চ রক্তচাপ বা হৃদরোগে ভুগছেন, তাদেরও সতর্ক থাকা প্রয়োজন।

প্রতিরোধে করণীয়

বিশেষজ্ঞদের মতে, টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ৭৫ শতাংশ ক্ষেত্রেই আগাম সতর্কতা নিয়ে রোগটি প্রতিরোধ করা সম্ভব। এজন্য:

– শারীরিক পরিশ্রম করা
– রিফাইন্ড চিনি পরিহার করা
– স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখা
– নিয়মিত হাঁটাহাঁটি করা

চিকিৎসার গুরুত্ব

ডায়াবেটিসের চিকিৎসা যত দ্রুত শুরু করা যায়, ততই ভালো। ডায়াবেটিক সমিতির মহাসচিব বলেন, “রোগ শনাক্তের পর জীবনযাপনে পরিবর্তন আনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”

বছরে অন্তত একবার ডায়াবেটিস পরীক্ষা করার পরামর্শ দেন তিনি। বর্তমানে ফার্মেসিতেও স্বল্পমূল্যে এই পরীক্ষা করা যায়।

বিশ্বজুড়ে ডায়াবেটিস একটি বড় স্বাস্থ্য সমস্যা। তাই সবাইকে সচেতন হতে হবে। প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্ত হলে এটি নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হয়।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে বাংলাদেশে ডায়াবেটিসের প্রকোপ অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব।

পাঠকপ্রিয়