সোমবার, ১৯ জানুয়ারি ২০২৬

সর্বশেষ

১৫ বছরে ঢাবি শিক্ষকদের একাংশ ফ্যাসিবাদের দালালি করেছে: নাহিদ ইসলাম

নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রে (টিএসসি) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে অন্তর্বর্তী সরকারের তথ্য উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম বলেছেন, বিগত ১৫ বছরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের একটি অংশ নিজেদের ফ্যাসিবাদের দালাল হিসেবে প্রমাণে ব্যস্ত ছিলেন, আবার কিছু শিক্ষক মেরুদন্ড নিয়ে পাশে দাঁড়িয়েছেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্যাতনের ইতিহাস সঠিকভাবে লিপিবদ্ধ করার এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ভূমিকার বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

সোমবার ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’-এর উদ্যোগে ‘দ্য হিরোজ অব ঢাকা ইউনিভার্সিটি’ শীর্ষক সম্মাননা অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। জুলাই আন্দোলনে আহত ঢাবি শিক্ষার্থীদের এই সম্মাননা দেওয়া হয়।

নাহিদ ইসলাম বলেন, আওয়ামী লীগকে আইনের ভিত্তিতে কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হবে এবং এই নামে বাংলাদেশে আর রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না। তিনি আরও বলেন, স্বৈরশাসনামলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হল ও ক্যাম্পাসে নির্যাতন, নিপীড়ন ও ভয়ের সংস্কৃতি চালু করে কণ্ঠরোধ করা হয়েছিল। কারণ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দাঁড়ালে সমগ্র জাতি দাঁড়িয়ে যাবে এবং পরিবর্তন আসন্ন হবে।

তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অফিসে শিক্ষার্থীদের ওপর নিপীড়নের অসংখ্য অভিযোগপত্রের বিচার না হওয়ার বিষয়টি তুলে ধরেন। এছাড়াও, ২০১৯ সালে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে নিজের ওপর হামলার ঘটনার বিচার চাইতে গিয়ে কীভাবে পুনরায় আক্রমণের শিকার হয়েছিলেন, সে কথাও উল্লেখ করেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান প্রশাসনের প্রতি তিনি আহ্বান জানান, যারা নির্যাতনকে প্রশ্রয় দিয়েছে তাদের সঠিক তদন্ত ও বিচার করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে এমন অন্যায়ের পুনরাবৃত্তি না ঘটে।

তথ্য উপদেষ্টা আরও বলেন, জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে শুধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নয়, সারাদেশের পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও লড়াইয়ে শামিল হয়েছিলেন। তিনি স্বাধীনতা ও গণঅভ্যুত্থানের চেতনা রক্ষা করার ওপর জোর দেন এবং ফ্যাসিবাদের দোসরদের আস্ফালনের বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।

অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, উপ-উপাচার্যগণ, কোষাধ্যক্ষ, বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃবৃন্দসহ আরও অনেকে বক্তব্য রাখেন। বক্তারা জুলাই আন্দোলনের গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং শিক্ষার্থীদের আত্মত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।

পাঠকপ্রিয়