সোমবার, ১৯ জানুয়ারি ২০২৬

সর্বশেষ

চবি ছাত্র ফরহাদ হোসেনের রক্তে লেখা হলো নতুন ইতিহাস

নিজস্ব প্রতিবেদক

“আমার এখনো বিশ্বাস হয় না ফরহাদ নেই। মনে হয়, সে ছাত্রাবাসে বা বিশ্ববিদ্যালয়ে আছে। যেকোনো সময় বাড়ি ফিরে আমাকে বাবা বলে ডাক দেবে।” চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) ইতিহাস বিভাগের মেধাবী ছাত্র ফরহাদ হোসেনের পিতা গোলাম মোস্তফা এভাবেই সন্তান হারানোর কষ্ট ব্যক্ত করেন। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, “প্রতি ক্ষণে ক্ষণে তার স্মৃতি মনে পড়ছে।”

ফরহাদ হোসেন চবির ২০২১-২২ সেশনের ইতিহাস বিভাগের ছাত্র ছিলেন। নগরীর একটি মেসে থেকে লেখাপড়া করতেন। কোটা সংস্কার দাবিতে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছিলেন তিনি। গত ৪ আগস্ট চট্টগ্রামে ছাত্র-জনতার মিছিলে পুলিশ ও সরকার সমর্থকদের হামলায় মাথায় গুলি লেগে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান ফরহাদ।

ফরহাদের সহপাঠী, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের ছাত্র তৈফিক বলেন, “ফরহাদ ছিল অসাধারণ মেধাবী, শান্ত ও চুপচাপ স্বভাবের। পরীক্ষায় সবসময় ভালো ফল করত।”

ফরহাদের বাড়ি মাগুরা জেলার শ্রীপুর উপজেলায়। বাবা গোলাম মোস্তফা বলেন, “দুই ছেলে ও দুই মেয়ের মধ্যে ফরহাদ ছিল তৃতীয়। তার স্বপ্ন ছিল বড় হয়ে একজন মানবিক মানুষ হওয়ার। পরিবারের হাল ধরার স্বপ্ন ছিল তার। কিন্তু পুলিশের বুলেটে তার সেই স্বপ্ন নিমিষেই শেষ হয়ে গেল।”

তিনি আরও বলেন, “আমি একজন কাভার্ডভ্যান ড্রাইভার। সংসার চালাতে কষ্ট হলেও ছেলেমেয়েদের লেখাপড়ার ব্যাপারে আমি আন্তরিক ছিলাম। বড় ছেলেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টার্সে পড়ছে।”

ফরহাদের বড় ভাই আনোয়ার হোসেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাউন্টিং বিভাগের মাস্টার্সের ছাত্র। তিনি বলেন, “ফরহাদের ইচ্ছা ছিল বড় অফিসার হয়ে সংসারের দুঃখ-দুর্দশা দূর করবে। কিন্তু পুলিশের একটি বুলেট সব স্বপ্ন ধূলিসাৎ করে দিল।”

ফরহাদের বাবা ও ভাই তার আত্মত্যাগ ও সাহসিকতার জন্য গর্ববোধ করেন। তারা ফরহাদের মৃত্যুর জন্য ‘স্বৈরাচারী সরকারের স্বেচ্ছাচারিতা এবং ছাত্রদের ওপর টার্গেট কিলিং’কে দায়ী করেন।

তাদের প্রত্যাশা, অন্তর্বর্তী সরকার নিহতদের পরিবারের প্রতি সদয় দৃষ্টি রাখবে এবং বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে ভূমিকা নেবে। একইসঙ্গে, তারা গণহত্যার জন্য দায়ীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানান।

উল্লেখ্য, ৪ আগস্ট চট্টগ্রামে নিহত হওয়ার পর ওই রাতেই ফরহাদের মরদেহ মাগুরায় নিয়ে যাওয়া হয়। ৫ আগস্ট সকালে তার দাফন সম্পন্ন হয়। এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ছাত্র-জনতার আন্দোলনে সরকারের পতন হয়।

পাঠকপ্রিয়