চট্টগ্রামের বহদ্দারহাট এলাকার বাসিন্দা তামিম ইসলাম সম্প্রতি তার পোষা বিড়ালের কামড়ে আহত হন। জলাতঙ্কের টিকা নিতে চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে গেলে তাকে জানানো হয়, হাসপাতালে টিকার সরবরাহ নেই। বাধ্য হয়ে তাকে বাইরের ফার্মেসি থেকে বেশি দামে টিকা কিনতে হয়। তনিমার মতো প্রতিদিন গড়ে ৬০-৭০ জন রোগী একই সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন।
জেনারেল হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, প্রায় এক মাস ধরে র্যাবিস ভ্যাকসিনের (জলাতঙ্কের টিকা) সংকট চলছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ৫ হাজার টিকা এবং ২ হাজার ইমিউনোগ্লোবুলিনের চাহিদা পাঠিয়েছে, কিন্তু সরবরাহ পাওয়া যায়নি।
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আব্দুল মান্নান বলেন, “প্রতিদিন প্রচুর রোগী টিকা নিতে আসছেন। সরবরাহ না থাকায় রোগীদের বাইরে থেকে টিকা কিনতে হচ্ছে। আমরা টিকার জন্য চাহিদা পাঠিয়েছি, আশা করছি এই সপ্তাহে কিছু পাব।”
অন্যদিকে, ফৌজদারহাট বিআইটিআইডি হাসপাতালের অধ্যাপক ডা. মো. মামুনুর রশীদ জানান, তাদের হাসপাতালে টিকার কোনো ঘাটতি নেই এবং রোগীদের বিনামূল্যে টিকা দেওয়া হচ্ছে।
জেনারেল হাসপাতালে আসা রোগীদের মধ্যে আর্থিক ভাবে স্বচ্ছল ব্যাক্তিরা বাইরে থেকে টিকা কিনতে পারলেও, দরিদ্র রোগীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। রাউজানের দিনমজুর ইসমাইল হোসেন জানান, তার ছেলেকে কুকুরে কামড়ানোর পর অর্থাভাবে তিনি বিপাকে পড়েন। পরে আত্মীয়ের কাছ থেকে ধার করে তিনি টিকার ব্যবস্থা করেন।
উল্লেখ্য, সরকারিভাবে চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতাল এবং বিআইটিআইডি হাসপাতালে বিনামূল্যে জলাতঙ্কের টিকা দেওয়া হয়। প্রাণী কামড়ালে সাধারণত তিনটি টিকা নিতে হয়। এছাড়া, গুরুতর ক্ষেত্রে ইমিউনোগ্লোবুলিন নেওয়ার পরামর্শও দেন চিকিৎসকরা। বর্তমানে প্রতিটি টিকার দাম ৪৫০-৫০০ টাকা এবং ইমিউনোগ্লোবুলিনের দাম ৭০০ টাকা।