বাংলাদেশে কিডনি রোগীর সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। প্রতিবছর প্রায় ৩০ হাজার মানুষ কিডনি রোগের শেষ পর্যায়ে উপনীত হচ্ছেন, যাদের জন্য ডায়ালাইসিস বা কিডনি প্রতিস্থাপন ছাড়া উপায় থাকে না। কিন্তু চিকিৎসা ব্যয়বহুল হওয়ায় অধিকাংশ দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত রোগী অর্থাভাবে সঠিক চিকিৎসা পান না।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের নেফ্রোলজি বিভাগের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, দেশে প্রায় তিন কোটি মানুষ কিডনি রোগে ভুগছেন। চমেক হাসপাতালে প্রায় ৩০০ জন এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ৭০০ জনসহ মোট ১ হাজার রোগী নিয়মিত ডায়ালাইসিস নিচ্ছেন। এছাড়া, প্রতিদিন ১৫ থেকে ২০ জন সাময়িক কিডনি বিকল (একেআই) রোগী চমেক হাসপাতালে ডায়ালাইসিস করান।
হাসপাতালের গবেষণায় দেখা গেছে, ভর্তি হওয়া রোগীদের মধ্যে ৫৭ শতাংশ দীর্ঘস্থায়ী কিডনি রোগ (সিকেডি) এবং ২৩ শতাংশ সাময়িক কিডনি বিকল (একেআই) রোগে আক্রান্ত। সিকেডি’র প্রধান কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে নেফ্রাইটিস (৩৪%), ডায়াবেটিস (২৮%), এবং উচ্চ রক্তচাপ (১৭%)। অন্যদিকে, একেআই’র প্রধান কারণগুলো হলো সেপসিস বা ইনফেকশন (৬০%) এবং ডায়রিয়া (১৪%)।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কিডনি রোগের লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে পিঠের নিচের অংশে ব্যথা, মূত্রত্যাগে সমস্যা, প্রস্রাবের সাথে রক্ত যাওয়া বা অতিরিক্ত ফেনা হওয়া, ক্লান্তি ও দুর্বলতা অনুভব করা, দ্রুত ওজন কমে যাওয়া, ত্বকে চুলকানি ও র্যাশ হওয়া, গরম আবহাওয়ার মধ্যেও শীত অনুভব করা, মুখ, চোখের চারপাশ ও পায়ের গোড়ালি ফুলে যাওয়া, এবং শ্বাসকষ্ট হওয়া।
চমেক হাসপাতালের নেফ্রোলজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. নুরুল হুদা বলেন, “কিডনি রোগের চিকিৎসা অত্যন্ত ব্যয়বহুল হওয়ায় প্রতিরোধের ওপর জোর দিতে হবে।”
প্রতিরোধে করণীয়:
* নেফ্রাইটিস, ইনফেকশন এবং ডায়রিয়ার দ্রুত ও সঠিক চিকিৎসা করা।
* ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা।
* অযথা ব্যথানাশক ওষুধ এবং চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক সেবন না করা।
আজ বিশ্ব কিডনি দিবস উপলক্ষ্যে চমেক হাসপাতালের নিউ কনফারেন্স হলে একটি সায়েন্টিফিক সেমিনার ও র্যালি অনুষ্ঠিত হবে। এতে প্রধান অতিথি থাকবেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। কিডনি রোগী কল্যাণ সংস্থা দিবসটি উপলক্ষ্যে র্যালি এবং দরিদ্র রোগীদের অর্থ সহায়তা প্রদান করবে। সংস্থার সিনিয়র সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট জিয়া হাবীব আহসান জানিয়েছেন, দরিদ্র কিডনি রোগীদের সহায়তা করাই তাদের অন্যতম লক্ষ্য।
এবারের বিশ্ব কিডনি দিবসের প্রতিপাদ্য হলো – ‘আপনার কিডনি কি সুস্থ? দ্রুত শনাক্ত করুন, কিডনি স্বাস্থ্য সুরক্ষা করুন’।