সোমবার, ১৯ জানুয়ারি ২০২৬

সর্বশেষ

নির্বাচনী ষড়যন্ত্রের আশঙ্কা বিএনপির, এপ্রিলে মাঠে নামার ঘোষণা

নিজস্ব প্রতিবেদক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে বিএনপি নির্বাচন নিয়ে ষড়যন্ত্রের আশঙ্কা করছে। দলটি মনে করছে, সরকার নির্বাচন নিয়ে গড়িমসি করছে এবং অন্তর্বর্তী সরকার নিয়ে স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে না। এমতাবস্থায়, বিএনপি এপ্রিল থেকে সভা-সমাবেশের মাধ্যমে মাঠ পর্যায়ে সক্রিয় থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পাশাপাশি, জাতীয় ঐকমত্য কমিশন স্বল্প সময়ের মধ্যে জাতীয় সনদ তৈরির জন্য ৩৪টি রাজনৈতিক দলের কাছে মতামত চেয়েছে, যার মধ্যে বিএনপিও রয়েছে। তবে বিএনপি এই কমিশনের কর্তৃত্ব ও প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

বিএনপি মনে করে, প্রধান উপদেষ্টা, নির্বাচন কমিশন ও সেনাপ্রধানের বক্তব্যে আশাবাদী হওয়ার মতো উপাদান থাকলেও সরকারের অন্যান্যদের বক্তব্যে এবং দেশি-বিদেশি মহলের কার্যকলাপে ষড়যন্ত্রের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। তাই, দলটি এপ্রিল মাস থেকে সভা-সমাবেশের মতো কর্মসূচি নিয়ে মাঠে থেকে ‘নির্বাচনী ষড়যন্ত্র’ প্রতিহত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে নির্বাচন নিয়ে গত সাত মাসের কর্মকাণ্ড পর্যালোচনা করা হয়। এতে উঠে আসে, কিছু ইসলামী দল ও নতুন দল আওয়ামী লীগ সমর্থিত ব্যবসায়ীদের আশ্রয় দিচ্ছে। ফলে দেশে দুর্নীতি ও আইনশৃঙ্খলার অবনতি হচ্ছে বলে বিএনপি মনে করে।

বৈঠকে নেতারা আরও মনে করেন, সরকার জাতীয় নির্বাচন নিয়ে গড়িমসি করছে এবং অন্তর্বর্তী সরকার বিএনপিকে নয়, বৈষম্যবিরোধী ছাত্রদেরকেই শক্তি মনে করে। তাই, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠান ও ষড়যন্ত্রকারীদের প্রতিহত করতে মাঠে থাকার পক্ষে মত দেন নেতারা। এর অংশ হিসেবে এপ্রিলের মাঝামাঝি সময় থেকে জেলা-মহানগরে সভা-সমাবেশ করার পরিকল্পনা রয়েছে। একই সাথে মিত্র রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে বৈঠক করে তাদের মতামতও নেওয়া হবে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে আরও বলা হয়, বাংলাদেশ নিয়ে নতুন করে ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। বিদেশি কূটনীতিকদের সাথে আলোচনার ভিত্তিতে তাদের মনে হয়েছে, দেশের জন্য ভালো কোনো বার্তা নেই। জামায়াতে ইসলামী ও ছাত্রদের নতুন দল আওয়ামী লীগ সমর্থিত ব্যবসায়ীদের আশ্রয় দিচ্ছে এবং তারা একযোগে বিএনপির বিরুদ্ধে কাজ করছে। এতে করে দেশে ঘুষ, দুর্নীতি ও আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটছে।

অন্যদিকে, জাতীয় ঐকমত্য কমিশন স্বল্প সময়ের মধ্যে জাতীয় সনদ তৈরি করতে চায়। এজন্য বিএনপিসহ ৩৪টি রাজনৈতিক দলের কাছে চিঠি দিয়ে ১৩ মার্চের মধ্যে মতামত চাওয়া হয়েছে। তবে, বিএনপি এই কমিশনের কর্তৃত্ব ও সংলাপের প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। তাদের মতে, সংলাপ হতে হবে অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে রাজনৈতিক দলের। সংস্কার ইস্যুতে অনিবন্ধিত দলের সঙ্গে সংলাপ হলে বহু সংগঠনকে আমন্ত্রণ জানাতে হবে।

বিএনপি মনে করে, জাতীয় ঐকমত্য কমিশন রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে মতামতের জন্য ২৫০ বা তারও বেশি পৃষ্ঠার বই সরবরাহ করেছে। যেখানে বাংলাদেশের সংবিধান ও নির্বাচন কমিশনের বিধি অনেক কম পৃষ্ঠার। দলটি জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের চিঠির জবাব দেওয়ার জন্য কিছুটা সময় নিচ্ছে।

জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহ-সভাপতি আলী রিয়াজ জানান, সংস্কারের জন্য বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ১৬টি সুপারিশের বিষয়ে ৩৪টি রাজনৈতিক দল ও জোটের কাছে মতামত চাওয়া হয়েছে। দলগুলোর মতামত পাওয়ার পর আলোচনা শুরু হবে।

বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, রাষ্ট্রসংস্কারের ৩১ দফার আলোকে ঐকমত্য কমিশনের চিঠির জবাব প্রস্তুত করতে কাজ করছেন দলের স্থায়ী কমিটির কয়েকজন সদস্য। তারা জানিয়েছেন, দু-একদিনের মধ্যে চিঠির জবাব দেওয়া হবে।

পাঠকপ্রিয়