বর্ষা মৌসুম শেষ হতে না হতেই উদ্বেগ বাড়াচ্ছে ডেঙ্গু। এডিস মশার উৎপাত বাড়তে শুরু করায়, চট্টগ্রামের হাসপাতালগুলোতে ক্রমেই বাড়ছে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ২ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন। তাদের মধ্যে একজন পুরুষ ও একজন নারী এবং বর্তমানে তারা চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। চলতি বছর এখনও পর্যন্ত ১১২ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন, যার মধ্যে ৪৭ জন নগরীর এবং ৬৫ জন উপজেলার বাসিন্দা। এদের মধ্যে ১ জনের মৃত্যু হয়েছে।
চিকিৎসকদের মতে, ডেঙ্গু হলেই হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার প্রয়োজন নেই। কারণ, অনেক রোগী পরীক্ষার (এনএসওয়ান) রিপোর্ট পজিটিভ আসার সঙ্গে সঙ্গেই হাসপাতালে ভর্তি হন, যার কোনো প্রয়োজন নেই। প্লাটিলেট কাউন্ট ১০ হাজারের নিচে নেমে গেলেই শুধুমাত্র রোগীর অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বাড়ে, যার জন্য জরুরি চিকিৎসা বা নিবিড় পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন। জ্বর কমে যাওয়ার পর প্লাটিলেট কমতে শুরু করে এবং কিছু শারীরিক অসুবিধা দেখা দিলে রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করা যেতে পারে। চিকিৎসকরা আরও জানান, প্লাটিলেট যখন বাড়তে শুরু করে, তখন খুব দ্রুত বাড়ে, তাই ডেঙ্গু জ্বর হলে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। গত বছর ডেন-২ এর সাব-ভ্যারিয়েন্ট কসমোপলিটনে আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে মৃত্যুর হার বেশি ছিল।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এডিস মশার বংশবিস্তার রোধ করতে পারলে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা কমানো সম্ভব। এজন্য এডিস মশা জন্মাতে পারে এমন স্থানগুলো চিহ্নিত করে, সেগুলোতে মশার বংশবিস্তার রোধ করতে হবে। পরিষ্কার ও বদ্ধ পানি এডিস মশার প্রজনন ক্ষেত্র, তাই ডাবের খোসা, ফুলের টব, ছাদবাগান এবং ফ্রিজের নিচের ট্রেতে তিন দিনের বেশি পানি জমতে দেওয়া যাবে না। সেইসঙ্গে, বাসাবাড়ি, ছাদ ও আঙিনা পরিষ্কার রাখতে হবে।
চট্টগ্রাম জেলার সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, ডেঙ্গু নিয়ে আতঙ্কের কোনো কারণ নেই, তবে গরমের সঙ্গে থেমে থেমে বৃষ্টি হলে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে পারে। তাই, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনসহ সবাইকে বিশেষভাবে নজর রাখতে হবে। তবে, সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
উল্লেখ্য, গত বছর চট্টগ্রামে ৪ হাজার ৩২৩ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হন এবং ৪৫ জনের মৃত্যু হয়। ২০২৩ সালে ১৪ হাজার ৮৭ জন আক্রান্ত এবং ১০৭ জনের মৃত্যু হয়। ২০২২ সালে ৫ হাজার ৪৪৫ জন আক্রান্ত এবং ৪১ জনের মৃত্যু হয়। ২০২১ সালে ২২১ জন আক্রান্ত এবং ৫ জনের মৃত্যু হয়।