থাইল্যান্ডকে ৭৮ রানের বড় ব্যবধানে হারিয়ে ২০২৫ সালের নারী বিশ্বকাপে নিজেদের জায়গা নিশ্চিত করেছে পাকিস্তান নারী ক্রিকেট দল। ফাতিমা সানার নেতৃত্বে দলটি সবার আগে বাছাইপর্ব পেরিয়ে মূল টুর্নামেন্টের টিকিট কাটে। তবে পাকিস্তানের এই সাফল্য আয়োজক ভারতের জন্য তৈরি করেছে এক জটিল পরিস্থিতি।
পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) এবং ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ডের (বিসিসিআই) মধ্যেকার এক পূর্ব চুক্তি অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ভারতে অনুষ্ঠেয় এই বিশ্বকাপে খেলতে যাবে না পাকিস্তান দল। তাদের ম্যাচগুলো আয়োজন করতে হবে নিরপেক্ষ কোনো ভেন্যুতে।
এই পরিস্থিতির মূল কারণ ২০২৫ সালের পুরুষদের চ্যাম্পিয়নস ট্রফি। নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে ভারত সেবার পাকিস্তানে দল পাঠাতে রাজি না হওয়ায় পিসিবির শর্তে ‘হাইব্রিড মডেলে’ টুর্নামেন্ট আয়োজন করতে হয়। পাকিস্তান মূল আয়োজক হলেও ভারতের সব ম্যাচ দুবাইতে অনুষ্ঠিত হয়েছিল, এমনকি ফাইনালসহ।
গত ডিসেম্বরে এই বিতর্কের জের ধরে পিসিবি ও বিসিসিআই এক চুক্তিতে উপনীত হয়। চুক্তি অনুযায়ী, যেহেতু ভারত চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি খেলতে পাকিস্তানে যায়নি, তাই ২০২৭ সাল পর্যন্ত ভারতে অনুষ্ঠিতব্য কোনো আইসিসি ইভেন্টে পাকিস্তানের কোনো দলও (নারী বা পুরুষ) খেলতে যাবে না।
এর আওতায় পড়ছে ভারতে এককভাবে আয়োজিত হতে চলা দুটি টুর্নামেন্ট – ২০২৫ নারী বিশ্বকাপ এবং ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ (যেখানে শ্রীলঙ্কা সহ-আয়োজক)। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তান নিজেদের ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় খেলবে। কিন্তু ২০২৫ নারী বিশ্বকাপের একক আয়োজক ভারত হওয়ায় এবার পাকিস্তানের ম্যাচগুলো সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ভেন্যুতে আয়োজন করতে বাধ্য বিসিসিআই।
এর ফলে বিসিসিআই বড় ধরনের লজিস্টিক্যাল এবং আর্থিক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। পাকিস্তানের দলটির জন্য নিরপেক্ষ ভেন্যুতে যাতায়াত, আবাসন, নিরাপত্তা এবং সম্প্রচারের ব্যবস্থা করতে হবে, যা ভারতের জন্য বাড়তি মাথাব্যথার কারণ। শুধু গ্রুপ পর্বের ম্যাচই নয়, পাকিস্তান সেমিফাইনাল বা ফাইনালে উঠলেও সেই ম্যাচগুলো ভারতের বাইরে নিরপেক্ষ ভেন্যুতে আয়োজন করতে হবে। এমনকি রাউন্ড রবিন লিগে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচটিও হারমানপ্রীতদের খেলতে হবে ভারতের বাইরে গিয়ে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, বিসিসিআইকে এখন থেকেই এই অতিরিক্ত আয়োজনের জন্য প্রস্তুতি শুরু করতে হবে, যাতে পিসিবি কোনো অভিযোগ তোলার সুযোগ না পায়। যদি বিসিসিআই এই চুক্তি মানতে ব্যর্থ হয়, তবে পিসিবি আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আদালতে (CAS) চুক্তিভঙ্গের অভিযোগ আনতে পারবে।
যদিও বিশ্বকাপের জন্য ভারতের মুল্লানপুর, রায়পুর, ইন্দোর, তিরুবনন্তপুরম ও বিশাখাপট্টনম – এই পাঁচটি ভেন্যু প্রাথমিকভাবে ভাবা হয়েছে এবং ফাইনাল মুল্লানপুরে হওয়ার কথা, কিন্তু পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্তি এই পরিকল্পনায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনছে।