সোমবার, ১৯ জানুয়ারি ২০২৬

সর্বশেষ

আইসিইউ সেবা বন্ধ গত ২ মাস, মুমূর্ষু রোগীরা অসহায়

চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের আইসিইউ নিজেই ‘আইসিইউ’তে, ২২টি ভেন্টিলেটরই অচল

নিজস্ব প্রতিবেদক

একসময় করোনাভাইরাস মহামারিকালে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) সেবা দিয়ে চট্টগ্রামবাসীর আলোচনার কেন্দ্রে ছিল ২৫০ শয্যার চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতাল। কিন্তু সেই হাসপাতালের আইসিইউ বিভাগই এখন নিজেই ‘আইসিইউ’তে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও অত্যাবশ্যকীয় জনবলের তীব্র সংকটের পাশাপাশি বেশিরভাগ জীবনরক্ষাকারী যন্ত্রপাতি অচল হয়ে পড়ায় হাসপাতালটির আইসিইউ সেবা ভেঙে পড়েছে। বিশেষ করে, ১৮টি শয্যার বিপরীতে থাকা ২২টি কৃত্রিম শ্বাস-প্রশ্বাসের যন্ত্রের (ভেন্টিলেটর) সবগুলোই নষ্ট হয়ে যাওয়ায় গত দুই মাস ধরে মুমূর্ষু রোগীদের পূর্ণাঙ্গ আইসিইউ সেবা দেওয়া সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘ সময় ধরে মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ভেন্টিলেটরগুলো অকেজো হয়ে পড়েছে। ফলে, যেসব রোগীর ভেন্টিলেশনসহ পূর্ণাঙ্গ আইসিইউ সাপোর্ট প্রয়োজন, তাদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে রেফার করে দিতে বাধ্য হচ্ছেন চিকিৎসকরা। বর্তমানে জেনারেল হাসপাতালের আইসিইউ ইউনিটে মূলত হাই ডিফিসিয়েন্সি ইউনিটের (এইচডিইউ) সেবা দেওয়া হচ্ছে। এছাড়াও, ৩৩টি বাইপ্যাপ মেশিনের মধ্যে মাত্র ৫টি এবং ৩৯টি হাই ফ্লো ন্যাসাল ক্যানুলার মধ্যে মাত্র ৩টি সচল রয়েছে, যা সংকটের গভীরতা আরও বাড়িয়েছে।

চিকিৎসকরা বলছেন, চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে কখনোই পূর্ণাঙ্গ আইসিইউ সেবা দেওয়ার মতো সমন্বিত বিশেষজ্ঞ দল ও পরিপূর্ণ যন্ত্রপাতি ছিল না। একটি পূর্ণাঙ্গ আইসিইউ সেবার জন্য হৃদরোগ, নেফ্রোলজি ও নিউরোলজি বিভাগের মতো বিশেষায়িত বিভাগ এবং সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের উপস্থিতি অপরিহার্য। উদাহরণস্বরূপ, হৃদরোগে আক্রান্ত কোনো রোগীকে আইসিইউতে ভর্তি করা হলে তার জন্য হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ, ব্রেন স্ট্রোকে আক্রান্ত রোগীর জন্য নিউরোলজিস্ট বা নিউরোসার্জন এবং কিডনি রোগীর জন্য আইসিইউর অভ্যন্তরে ডায়ালাইসিস মেশিনের প্রয়োজন। এসবের ঘাটতি শুরু থেকেই ছিল।

হাসপাতালটিতে ২০২০ সালে ১৮ শয্যার আইসিইউ বিভাগ চালু করা হয়। বর্তমানে এখানে মাত্র ৬ জন অ্যানেস্থেশিয়া কনসালটেন্ট कार्यरत আছেন, যাদের মধ্যে ৪ জন আবার সংযুক্তিতে। এই কনসালটেন্টদের আইসিইউ সেবার পাশাপাশি অপারেশনের রোগীদের অ্যানেস্থেশিয়া দেওয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজও করতে হয়। কয়েক মাস আগে ২২ জন চিকিৎসকের সংযুক্তি বাতিল করায় চিকিৎসক সংকট আরও প্রকট হয়েছে।

চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের অ্যানেস্থেশিয়া ও আইসিইউ ইউনিটের কনসালটেন্ট ডা. রাজদ্বীপ বিশ্বাস বলেন, “আমাদের আইসিইউ সেবা পুরোপুরি বন্ধ, এটি বলা যাবে না। তবে আমরা রোগীদের আইসিইউর পরিপূর্ণ সাপোর্ট দিতে পারছি না, এটিই মূল বিষয়। ভেন্টিলেটর নষ্ট থাকার কারণে মুমূর্ষু রোগীদের চিকিৎসা দিতে পারছি না। এছাড়া চিকিৎসক সংকট তো রয়েছেই।”

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আবদুল মান্নান বলেন, “আমরা ১০টি আইসিইউ শয্যা পুরোপুরি সচল করতে কাজ শুরু করেছি। আশা করি, বিষয়টি দ্রুত সমাধান হয়ে যাবে।”

তবে কবে নাগাদ এই ‘দ্রুত সমাধান’ হবে এবং মুমূর্ষু রোগীরা আবার পূর্ণাঙ্গ সেবা পাবেন, সে বিষয়ে সুস্পষ্ট কোনো ধারণা পাওয়া যায়নি, যা সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ আরও বাড়াচ্ছে।

পাঠকপ্রিয়