ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইআর) করা প্রায় ছয় কোটি টাকার আটটি গবেষণার মান ও প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পর এর বিল আটকে দিয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (ডিপিই)।
ছয় মাসের গবেষণাকাজ দুই মাসে শেষ করা এবং প্রাথমিক শিক্ষার টাকায় মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বিষয়ে গবেষণা করাসহ নানা ‘অস্বচ্ছতার’ অভিযোগ ওঠার পর এখন বিষয়টি তদন্তে একটি উচ্চতর কমিটি গঠন করা হয়েছে। এর পাশাপাশি দুর্নীতি দমন কমিশনও (দুদক) এ বিষয়ে অনুসন্ধানে নেমেছে।
জানা গেছে, চতুর্থ প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচির (পিইডিপি-৪) আওতায় বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে আইইআরকে প্রায় ছয় কোটি টাকার আটটি গবেষণার কাজ দেওয়া হয়। কাজ শেষে প্রতিবেদন জমা হওয়ার পর এর মান ও প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠলে ডিপিই একটি যাচাই কমিটি গঠন করে।
ডিপিই’র ওই কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়, গবেষণার কাজটি যথাযথ প্রশাসনিক অনুমোদন ছাড়াই আইইআরকে দেওয়া হয়েছিল। ছয় মাসের গবেষণা অস্বাভাবিক দ্রুততায় মাত্র দুই মাসে শেষ করা হয়েছে, যা গবেষণার মানকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, গবেষণার জন্য মাত্রাতিরিক্ত বাজেট ধরা হয়েছে এবং একই ধরনের দুটি গবেষণার জন্য অসামঞ্জস্যপূর্ণ মূল্য অনুমোদন করা হয়েছে। এছাড়া, প্রাথমিক শিক্ষার জন্য বরাদ্দকৃত অর্থে মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অনুমোদন ছাড়াই তাদের বিষয়ে গবেষণা করা হয়েছে।
এই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ডিপিই ইতোমধ্যে পরিশোধ করা ৮৭ লাখ টাকা বাদে বাকি ৫ কোটি ১৩ লাখ টাকার বিল আটকে দিয়েছে এবং পরিচালক (প্রশাসন) এ কে মোহাম্মদ সামছুল আহসানকে প্রধান করে ছয় সদস্যের একটি নতুন উচ্চতর তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।
এ বিষয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানা বলেন, “বিষয়টি নজরে আসার পর আমি পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রুলস (পিপিআর) অনুসারে ব্যবস্থা নিতে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরকে নির্দেশ দিয়েছি।”
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবু নূর মো. শামসুজ্জামান জানান, গবেষণায় নানা প্রক্রিয়াগত ত্রুটি ধরা পড়েছে। তিনি বলেন, “গবেষণা মানসম্মত না হলে আমরা চুক্তি বাতিলও করতে পারি।”
এদিকে, অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইইআরের পরিচালক অধ্যাপক হোসনে আরা বেগম কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
দুদক সূত্রে জানা গেছে, এই অভিযোগের অনুসন্ধানে গত ২ জুন দুদকের একটি এনফোর্সমেন্ট টিম প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মিরপুর কার্যালয়ে অভিযান পরিচালনা করে এবং বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে।