চট্টগ্রামের আদালতগুলোতে যখন দেড় লাখের বেশি ফৌজদারি মামলা বছরের পর বছর ধরে ঝুলে আছে, তখন চাঞ্চল্যকর অপরাধের দ্রুত বিচার নিষ্পত্তির জন্য গঠিত বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালটি প্রায় মামলাশূন্য অবস্থায় রয়েছে।
বর্তমানে মাত্র ৭২টি মামলা বিচারাধীন থাকা এই বিশেষায়িত আদালতটিতে নতুন মামলা পাঠাতে সংশ্লিষ্ট মনিটরিং কমিটির ‘ব্যর্থতার’ কারণে বিচারপ্রার্থীরা হতাশ হচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
চাঞ্চল্যকর হত্যা, ধর্ষণ, অস্ত্র ও মাদক সংক্রান্ত অপরাধের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে ২০০২ সালের আইন অনুযায়ী এই ট্রাইব্যুনাল প্রতিষ্ঠা করা হয়। আইন অনুযায়ী, এখানে ১৩৫ কার্যদিবসের মধ্যে মামলা নিষ্পত্তি করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
চট্টগ্রাম বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) এস ইউ এম নুরুল ইসলাম জানান, মামলা কম থাকায় আদালতের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রায়ই অলস সময় পার করতে হচ্ছে।
তিনি বলেন, “জেলার চাঞ্চল্যকর মামলাগুলো ট্রাইব্যুনালে পাঠানোর জন্য আমরা মনিটরিং কমিটিকে বারবার বলেছি। গত জানুয়ারিতে এক সভায় মাত্র দুটি মামলা পাঠানোর সিদ্ধান্ত হলেও সেগুলো এখনও এসে পৌঁছায়নি।”
আইন অনুযায়ী, চাঞ্চল্যকর মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য জেলার মনিটরিং কমিটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে আইন মন্ত্রণালয়ে সুপারিশ পাঠায়, যেখান থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করে মামলা ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়। বর্তমানে ট্রাইব্যুনালে এ ধরনের ‘প্রজ্ঞাপনের’ মামলা রয়েছে মাত্র সাতটি।
অথচ ২২ বছর আগের শিপিং ব্যবসায়ী রেজাউর রহমান জাকির হত্যা, বিএনপি নেতা জামাল উদ্দিন অপহরণ, চট্টগ্রাম বন্দরে কোকেন জব্দ, বাঁশখালীতে ১১ জনকে পুড়িয়ে হত্যা এবং আনোয়ারায় র্যাবের কোটি টাকা লুটের মতো অর্ধশতাধিক চাঞ্চল্যকর মামলা চট্টগ্রামের অন্য আদালতগুলোতে বিচারাধীন রয়েছে।
চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ আদালতের পিপি এবং জেলা মনিটরিং কমিটির সদস্য মফিজুল হক ভূঁইয়া বলেন, “গত ছয় মাসে কমিটির কোনো সভা হয়েছে কি না, তা আমার জানা নেই। পরবর্তী সভায় মামলা পাঠানোর বিষয়টি তুলে ধরব।”
এ বিষয়ে জানতে মনিটরিং কমিটির সভাপতি ও চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি আবদুস সাত্তার বলেন, “বিচার প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা কমাতে ও অপরাধীদের বিচার দ্রুত করতে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে শিগগিরই আরও মামলা পাঠানো প্রয়োজন। জেলা মনিটরিং কমিটিকে এ বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।”