প্রভাবমুক্ত ও জবাবদিহিমূলক পুলিশ বাহিনী গঠনের লক্ষ্যে ‘পুলিশ কমিশন’ এবং ফৌজদারি তদন্তের জন্য একটি ‘স্বতন্ত্র সার্ভিস’ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এই দুটি বিষয় বাস্তবায়নের পথরেখা তৈরির জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ সাত সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করেছে।
গত ১৯ জুন গঠিত এই কমিটির সভাপতি করা হয়েছে জননিরাপত্তা বিভাগের অতিরিক্ত সচিবকে (পুলিশ ও এনটিএমসি অনুবিভাগ) এবং সদস্য সচিব করা হয়েছে একই বিভাগের পুলিশ-১ অধিশাখার যুগ্ম সচিবকে। কমিটিতে অন্যান্যের মধ্যে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগ, সুরক্ষা সেবা বিভাগ এবং জননিরাপত্তা বিভাগের পুলিশ-২ অধিশাখার একজন করে যুগ্ম সচিব পদমর্যাদার প্রতিনিধি এবং পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি মো. আবুল কালাম আযাদকে সদস্য হিসেবে রাখা হয়েছে।
এই বিশেষজ্ঞ কমিটিকে পুলিশ ব্যবস্থার সংস্কারে বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে— ‘স্বতন্ত্র ফৌজদারি তদন্ত সার্ভিস’ প্রতিষ্ঠার জন্য নতুন অধ্যাদেশ ও বিধি প্রণয়নের সুপারিশ করা, ফৌজদারি কার্যবিধি ও পুলিশ প্রবিধানমালা-১৯৪৩ এর প্রয়োজনীয় সংশোধনের প্রস্তাব দেওয়া এবং নতুন এই সার্ভিসটির জন্য অবকাঠামো, জনবল ও বাজেট সংক্রান্ত সুপারিশ করা।
এছাড়াও, পুলিশকে জনবান্ধব ও জবাবদিহিমূলক করতে পুলিশ আইন-১৮৬১ এর পরিবর্তন বা নতুন আইন প্রণয়নের সুপারিশ এবং বলপ্রয়োগ ও মানবাধিকার সুরক্ষার বিষয়ে ফৌজদারি কার্যবিধি ও পুলিশ রেগুলেশন (পিআরবি) পর্যালোচনার দায়িত্বও এই কমিটিকে দেওয়া হয়েছে।
মূলত গত ১৫ জানুয়ারি পুলিশ সংস্কার কমিশনের দাখিল করা ১৫ দফা সুপারিশের ভিত্তিতে সরকার এই সংস্কার কার্যক্রম শুরু করে। ওই সুপারিশের আলোকেই গত ২২ জুন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পুলিশ সদর দপ্তরকে করণীয় বিষয়ে নির্দেশনা পাঠানো হয়।
পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (মিডিয়া অ্যান্ড পিআর) ইনামুল হক সাগর বলেন, “পুলিশের অভ্যন্তরীণ সংস্কারকাজ অনেক আগেই শুরু হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পুলিশ সংস্কার কমিশনের যেসব সুপারিশ বাস্তবায়নের জন্য চিঠি দিয়েছে, সে আলোকে কার্যক্রম চলমান রয়েছে।”
তবে পুলিশ সংস্কার কমিশনের প্রধান সফর রাজ হোসেন বলেন, “আমরা সরাসরি পুলিশ কমিশন গঠনের সুপারিশ করিনি, বিষয়টি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখতে বলেছিলাম। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এখন সেই পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্যই বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করেছে।”
অন্যদিকে, বিচার বিভাগ সংস্কার কমিশন একটি ‘স্বতন্ত্র ফৌজদারি তদন্ত সার্ভিস’ গঠনের সুপারিশ করেছিল, যার মূল উদ্দেশ্য ছিল তদন্ত প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনা। পুলিশ সদর দপ্তর এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করে জানিয়েছিল যে, স্বতন্ত্র সংস্থা গঠিত হলেই তদন্তের মান বাড়বে এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই। তবে সেই বিরোধিতা সত্ত্বেও সরকার এটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এই দুটি সংস্কার কাজই দীর্ঘমেয়াদী এবং আন্তঃমন্ত্রণালয় সম্পর্কিত হওয়ায় বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমেই এর বাস্তবায়নের সময়সীমা নির্ধারণ করা হবে।