সোমবার, ১৯ জানুয়ারি ২০২৬

সর্বশেষ

নির্বাচনকে সামনে রেখে চট্টগ্রামে সক্রিয় বিএনপি-জামায়াত-এনসিপি

নিজস্ব প্রতিবেদক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চট্টগ্রামের ১৬টি আসনে সক্রিয় হয়ে উঠেছেন বিভিন্ন দলের সম্ভাব্য প্রার্থীরা। বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী এবং নতুন দল জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মনোনয়ন প্রত্যাশীরা নির্বাচনী এলাকায় নিজেদের অবস্থান জানান দিতে নানা কর্মসূচি ও গণসংযোগ শুরু করেছেন। দলীয় মনোনয়ন চূড়ান্ত না হলেও প্রায় প্রতিটি আসনেই জামায়াতের একক প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হয়েছে। অন্যদিকে, বিএনপির হেভিওয়েট নেতা আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও মো. আসলাম চৌধুরীর মতো কয়েকজন একক প্রার্থী হিসেবে সুবিধাজনক অবস্থানে থাকলেও, বেশিরভাগ আসনেই দলটির একাধিক মনোনয়ন প্রত্যাশী মাঠে সক্রিয় রয়েছেন।

চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলাম আকবর খোন্দকার বলেন, “এখন সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড চলছে। দলীয় হাইকমান্ড যাচাই-বাছাই করে নির্দিষ্ট সময়ে প্রত্যেকটি আসনে প্রার্থী ঘোষণা করবেন। দল থেকে যাকেই প্রার্থী দেবে, তার জন্য নেতাকর্মীদের একযোগে কাজ করতে হবে।” একইভাবে দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ইদ্রিস মিয়া জানান, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং মনোনয়ন বোর্ড প্রার্থী চূড়ান্ত করবে। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, “এবার ত্যাগী ও ক্লিন ইমেজের যোগ্য প্রার্থীরাই মনোনয়ন পাবেন।”

চট্টগ্রাম নগর জামায়াতের সেক্রেটারি অধ্যক্ষ নুরুল আমিন বলেন, “বৃহত্তর চট্টগ্রামের আসনগুলোতে জামায়াতের প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। তবে কেন্দ্র থেকে কোনো দলের সঙ্গে সমঝোতার নির্দেশনা এলে সেই আসনে আমাদের প্রার্থী প্রত্যাহার করে নেওয়া হবে।” এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব মীর আরশাদুল হক জানান, তাদের দল চট্টগ্রামের ৮ থেকে ১০টি আসনে প্রার্থী দেবে এবং সম্ভাব্য প্রার্থীরা নিজ নিজ এলাকায় জনগণের সঙ্গে কথা বলছেন।

চট্টগ্রামের আসনগুলোর মধ্যে উত্তর চট্টগ্রামের চট্টগ্রাম-১ (মিরসরাই) আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে রয়েছেন উত্তর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল আমিন চেয়ারম্যান ও নুরুল আমিন, মিরসরাই উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক শাহীদুল ইসলাম চৌধুরী, বিএনপি নেতা মহিউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী এবং মনিরুল ইসলাম ইউসুফ। এই আসনে জামায়াতের একক প্রার্থী হিসেবে সাইফুর রহমান এবং এনসিপি থেকে সাগুফতা বুশরা মিশমার নাম শোনা যাচ্ছে।

পাশের চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে আছেন প্রয়াত সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ছেলে হুম্মাম কাদের চৌধুরী, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কর্নেল (অব.) মো. আজিম উল্লাহ বাহার, ডা. খুরশিদ জামিল চৌধুরী, সাংবাদিক কাদের গণি চৌধুরী, সাবেক বিচারপতি ফয়সল মাহমুদ ফয়জী এবং উত্তর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ছালাউদ্দিন ও সরোয়ার আলমগীর। এখানে জামায়াতের একক প্রার্থী অধ্যক্ষ নুরুল আমিন এবং এনসিপি থেকে মো. একরামুল হকের নাম আলোচনায় রয়েছে।

চট্টগ্রাম-৩ (সন্দ্বীপ) আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে আছেন সাবেক সংসদ সদস্য মোস্তফা কামাল পাশা, মিজানুল রহমান ভূঁইয়া মিল্টন, তরিকুল আলম তেনজিন, তবিউল আলম, ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন এবং অ্যাডভোকেট আবু তাহের। আসনটিতে জামায়াতের একক প্রার্থী আলাউদ্দিন সিকদার। চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড) আসনে বিএনপির একক প্রার্থী হিসেবে সাবেক যুগ্ম মহাসচিব মো. আসলাম চৌধুরীর নামই শোনা যাচ্ছে, আর জামায়াতের প্রার্থী আনোয়ারুল সিদ্দিকী।

চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী) আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, এস এম ফজলুল হক ও ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানা। এখানে জামায়াতের প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার সিরাজুল ইসলাম। চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান) আসনে বিএনপির দুই হেভিওয়েট প্রার্থী হলেন দলের ভাইস চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী এবং উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলাম আকবর খোন্দকার। এই আসনে জামায়াতের প্রার্থী শাহজাহান মঞ্জুর। চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ছেলে হুম্মাম কাদের চৌধুরীর নাম সবার আগে থাকলেও অধ্যাপক ইউনুছ চৌধুরীও আলোচনায় আছেন। এখানে জামায়াতের প্রার্থী অধ্যক্ষ আমিরুজ্জামান।

চট্টগ্রাম মহানগরের আসনগুলোর মধ্যে চট্টগ্রাম-৮ (চান্দগাঁও-বোয়ালখালী) আসনে বিএনপির মনোনয়ন চান আবু সুফিয়ান, এরশাদ উল্লাহ এবং মোস্তাক আহমেদ খান। জামায়াতের প্রার্থী ডা. আবু নাসের এবং এনসিপির সম্ভাব্য প্রার্থী জোবায়রুল হাসান আরিফ। চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালি-বাকলিয়া) আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, আবুল হাশেম বক্কর এবং শামসুল আলম। এই আসনে জামায়াতের প্রার্থী ডা. ফজলুল হক এবং এনসিপি থেকে আরিফ মঈন উদ্দিন ও ইমন সৈয়দের নাম শোনা যাচ্ছে।

চট্টগ্রাম-১০ (ডবলমুরিং-পাহাড়তলী) আসনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও তরুণ রাজনীতিক সাঈদ আল নোমানের নাম আলোচনায় আছে। এখানে জামায়াতের প্রার্থী অধ্যক্ষ শামসুজ্জামান হেলালী। চট্টগ্রাম-১১ (বন্দর-পতেঙ্গা) আসনে বিএনপির একক প্রার্থী হিসেবে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর অবস্থান শক্ত। এই আসনে জামায়াতের প্রার্থী শফিউল আলম।

দক্ষিণ চট্টগ্রামের চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী সাবেক এমপি গাজী মো. শাহজাহান জুয়েল ও দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ইদ্রিস মিয়াসহ আরও কয়েকজন। এখানে জামায়াতের প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার লোকমান। চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা-কর্ণফুলী) আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে আছেন সাবেক এমপি সরওয়ার জামাল নিজাম ও দক্ষিণ জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আলী আব্বাস। জামায়াতের প্রার্থী অধ্যাপক মাহমুদুল হাসান এবং এনসিপির প্রার্থী জোবায়ের আলম মানিক। চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ) আসনে বিএনপির মনোনয়ন চান ডা. শাহাদাত হোসেন ও ডা. মহসিন জিল্লুর করিমসহ আরও অনেকে। এখানে জামায়াতের প্রার্থী ডা. শাহাদৎ হোসাইন। তবে এই আসনে এলডিপির প্রতিষ্ঠাতা কর্নেল (অব.) অলি আহমেদের ছেলে অধ্যাপক ওমর ফারুকেরও শক্ত অবস্থান রয়েছে।

চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) আসনে জামায়াতের একক প্রার্থী হিসেবে আছেন সাবেক এমপি শাহজাহান চৌধুরী। তার সঙ্গে লড়তে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী অধ্যাপক শেখ মো. মহিউদ্দিন ও আসহাব উদ্দিনসহ আরও অনেকে। সবশেষ চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী প্রয়াত মন্ত্রী জাফরুল ইসলাম চৌধুরীর দুই ছেলে মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পাপ্পা ও জহিরুল ইসলাম চৌধুরী আলমগীর। এই আসনে জামায়াতের প্রার্থী সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান জহিরুল ইসলাম এবং এনসিপির প্রার্থী মীর আরশাদুল হক।

পাঠকপ্রিয়