সোমবার, ১৯ জানুয়ারি ২০২৬

সর্বশেষ

সাগর উত্তাল, ঘাটে বাঁধা হাজারো ট্রলার

ইলিশ ধরতে সাগরে যেতে পারছেন না জেলেরা, উপকূলে হাহাকার

নিজস্ব প্রতিবেদক

বৈরী পরিবেশের কারণে বঙ্গোপসাগর উত্তাল থাকায় ইলিশ ধরতে সাগরে নামতে পারছে না কক্সবাজার উপকূলের কয়েক হাজার মাছ ধরার ট্রলার। এতে জেলার লক্ষাধিক জেলে বেকার হয়ে পড়েছেন এবং তাদের পরিবারে দেখা দিয়েছে খাদ্যসংকট।

মঙ্গলবার (১ জুলাই) সকালে কক্সবাজার শহরের নুনিয়াছটা ফিশারিঘাটে গিয়ে দেখা যায়, হাজারো ট্রলার বাঁকখালী নদীর তীরে নিরাপদ আশ্রয়ে নোঙর করে আছে এবং জেলেরা অলস সময় কাটাচ্ছেন।

সাগরদ্বীপ কুতুবদিয়ার জেলে জসিম বলেন, “সাত দিন ধরে সাগরে ইলিশ ধরতে যেতে পারছি না। সাগর খুব উত্তাল। ট্রলারে বসে বসে শুধু চিন্তা করছি—সংসার কীভাবে চালাব। ঘরে মা-বাবা, বউ আছে। তারা ঠিকমতো একবেলা খেতেও পারছে না।”

তিনি জানান, সর্বশেষ গত ১৭ জুন ১৫ জন জেলে নিয়ে সাগরে গিয়ে সাত দিনে মাত্র ১৪ মণ লইট্টা মাছ পান তারা, যা বিক্রি করে আয় হয় ৫৬ হাজার টাকা। অথচ এই সমুদ্রযাত্রায় তাদের খরচ হয়েছিল প্রায় দুই লাখ টাকা।

আরেক ট্রলারের জেলে কামরুল হাসান বলেন, “গভীর সাগরে এখন প্রচুর মাছ, কিন্তু উত্তাল থাকায় সেখানে যাওয়া যাচ্ছে না। অর্থাভাবে সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছি। তিন সন্তানের লেখাপড়া বন্ধ হয়ে গেছে। আমার ১৩ বছরের জেলে জীবনে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হইনি।”

কক্সবাজার ফিশিং বোট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন জানান, গত ১২ জুন ৫৮ দিনের সরকারি নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার পর থেকেই সাগর উত্তাল রয়েছে। গত ১৮ দিনে সাগরে তিনটি লঘু ও নিম্নচাপ সৃষ্টি হয়েছে এবং এখনও ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত চলছে।

তিনি বলেন, “এমন পরিস্থিতিতে সাগরে মাছ ধরতে যাওয়া অনিরাপদ। ফলে কক্সবাজার ও মহেশখালীসহ উপকূলের অন্তত ৬ হাজার ট্রলার ঘাটে বাঁধা আছে। কিছু ট্রলার ঝুঁকি নিয়ে উপকূলের কাছাকাছি মাছ ধরলেও তাতে ইলিশ মিলছে না।”

সাগরে মাছ ধরা বন্ধ থাকায় এর প্রভাব পড়েছে স্থানীয় বাজারগুলোতেও। ফিশারিঘাটের পাইকারি বাজারে ইলিশের দেখা নেই, শুধু সামান্য পরিমাণে অন্যান্য সামুদ্রিক মাছ আসছে। শহরের খুচরা বাজারগুলোতেও মূলত চাষের মাছই বিক্রি হচ্ছে।

এই অচলাবস্থার কারণে চলতি বছর জেলায় ইলিশ আহরণের ৩৬ হাজার মেট্রিক টনের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না হওয়ার আশঙ্কা করছে জেলা মৎস্য বিভাগ।

পাঠকপ্রিয়