দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ ও সংরক্ষিত নারী আসন ৫০ থেকে বাড়িয়ে ১০০ করার প্রস্তাবে অধিকাংশ রাজনৈতিক দল একমত হলেও নির্বাচন পদ্ধতি নিয়ে দেখা দিয়েছে তীব্র মতভেদ।
জামায়াতে ইসলামীসহ বেশিরভাগ দল সংসদের উচ্চকক্ষ ও সংরক্ষিত নারী আসনে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) পদ্ধতির পক্ষে অবস্থান নিলেও বিএনপি বিদ্যমান পদ্ধতিতেই ভোটের পক্ষে।
এই মতপার্থক্যের কারণে সোমবার রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে অনুষ্ঠিত জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের বৈঠক কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ছাড়াই শেষ হয়েছে। কমিশন জানিয়েছে, এ বিষয়ে আলোচনা অব্যাহত থাকবে।
আলোচনায় অগ্রগতির অভাবে পূর্বনির্ধারিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের বিষয়েও এদিন কোনো আলোচনা হয়নি।
দিনভর আলোচনা শেষে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ জানান, দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদের প্রয়োজনীয়তার বিষয়ে দলগুলো একমত। কিন্তু উচ্চকক্ষ গঠন পদ্ধতি নিয়ে মতপার্থক্য রয়েছে।
তিনি বলেন, নারী আসন ১০০টিতে উন্নীত করার ব্যাপারেও সব দল একমত। তবে আসন বণ্টনের পদ্ধতি নিয়ে বিভিন্ন প্রস্তাব আসায় কমিশন আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ ক্ষেত্রে দলগুলোকে মোট প্রার্থীর ন্যূনতম এক-তৃতীয়াংশ নারী মনোনয়ন দেওয়ার একটি বিকল্প প্রস্তাবও কমিশন দিয়েছে বলে তিনি জানান।
বিদ্যমান পদ্ধতিতেই জাতীয় সংসদ ও নারী আসনে নির্বাচন চেয়েছে বিএনপি। দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, তারা সংরক্ষিত নারী আসন ১০০টিতে উন্নীত করার পক্ষে, তবে তা বিদ্যমান পদ্ধতিতেই বণ্টন করতে হবে। তিনি বলেন, “বাস্তবতা হলো, আমাদের সমাজে অধিকাংশ নারী ধর্মীয় ও সামাজিক কারণে সরাসরি রাজনীতিতে আসতে দ্বিধা বোধ করেন। তাই আমরা ধাপে ধাপে নারীর অংশগ্রহণ বাড়াতে চাই, রাতারাতি কোনো বিপ্লবী পরিবর্তন নয়।”
জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেন, উচ্চকক্ষে প্রকৃত ‘চেক অ্যান্ড ব্যালেন্স’ প্রতিষ্ঠা করতে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) পদ্ধতির বিকল্প নেই। তিনি বলেন, “কমিশন জানিয়েছে, দুই-তৃতীয়াংশের বেশি দল পিআর পদ্ধতির পক্ষে মত দিয়েছে।” নারী আসন বণ্টনের ক্ষেত্রেও পিআর পদ্ধতির পক্ষে মত দিয়ে তিনি বলেন, “একজন নারীকে যদি তিনটি আসনের সমন্বয়ে সরাসরি ভোটে দাঁড় করানো হয়, তাহলে তা আমাদের সামাজিক বাস্তবতায় প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।”
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেনও উচ্চকক্ষে পিআর পদ্ধতির পক্ষে মত দেন। তিনি অভিযোগ করেন, কিছু রাজনৈতিক দল উচ্চকক্ষের ধারণাকে দুর্বল করার চেষ্টা করছে।
তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে জামায়াতের নতুন প্রস্তাব
বৈঠকে জামায়াতের পক্ষ থেকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন নিয়ে একটি নতুন প্রস্তাব দেওয়া হয়। ডা. তাহের জানান, তাদের প্রস্তাবে প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদলীয় নেতা এবং প্রধান বিচারপতির সমন্বয়ে একটি বাছাই কমিটি গঠনের কথা বলা হয়েছে, যারা ঐকমত্যের ভিত্তিতে একজনকে প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে মনোনীত করবেন।
অধ্যাপক আলী রীয়াজের সভাপতিত্বে কমিশনের বৈঠকে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, এনসিপি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসহ ৩০টি রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।