চট্টগ্রাম বন্দরে ভয়াবহ জাহাজজট নিরসনের লক্ষ্যে কন্টেইনার জাহাজের সংখ্যা কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষ, যা নিয়ে শিপিং ব্যবসার সাথে জড়িতদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
বন্দর কর্তৃপক্ষ অন্তত ১৫টি জাহাজ সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দিলেও শিপিং এজেন্টরা এই সিদ্ধান্তকে দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের জন্য ক্ষতিকর বলে আখ্যায়িত করে তা মানতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
বন্দর কর্তৃপক্ষ সূত্র জানায়, বছরের শুরুতে যেখানে অনুমোদিত কন্টেইনার জাহাজের সংখ্যা ছিল ৯৬টি, তা বেড়ে বর্তমানে ১১৮টিতে দাঁড়িয়েছে। বন্দরের ধারণক্ষমতা মাত্র ১০টি কন্টেইনার জাহাজের বার্থিং দেওয়ার, কিন্তু জাহাজের সংখ্যা অতিরিক্ত হওয়ায় বহির্নোঙরে অপেক্ষমাণ জাহাজের সংখ্যা ও অবস্থানকাল দুটোই বাড়ছে, যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বন্দরের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করছে।
এই সংকট নিরসনে গত ২০ জুলাই বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে শিপিং এজেন্টদের ২৭ জুলাইয়ের মধ্যে কমপক্ষে ১৫টি জাহাজের তালিকা প্রদানের নির্দেশ দেওয়া হয়।
কিন্তু শিপিং এজেন্টরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো তালিকা জমা দেয়নি। পরবর্তীতে বন্দর কর্তৃপক্ষ ২৯ জুলাই ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিলেও তা উপেক্ষা করা হয়।
বাংলাদেশ শিপিং এজেন্টস এসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান সৈয়দ মোহাম্মদ আরিফ জানান, তারা জাহাজ কমানোর বদলে বন্দরে জটের প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানের অনুরোধ জানিয়ে একটি চিঠি দিয়েছেন।
তিনি বলেন, “ঈদের দীর্ঘ ছুটি, বার্থ অপারেটরদের কাজে ধীরগতি এবং কাস্টমসের কর্মবিরতির মতো কারণেই মূলত জট তৈরি হয়েছে। জাহাজ কমালে বন্দরের ইমেজ আরও ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং আমদানি-রপ্তানির খরচ বাড়বে, যা বাণিজ্যে মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।”
তিনি আরও বলেন, বিশ্বের উন্নত বন্দরগুলো জাহাজ আকৃষ্ট করে, সংখ্যা কমায় না।
তবে বন্দর কর্তৃপক্ষের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের স্বার্থেই জট পরিস্থিতি সামাল দিতে জাহাজ কমানোর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য বন্দর কর্তৃপক্ষ ডেপুটি কনজারভেটরকে আহ্বায়ক করে ছয় সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে, যেখানে শিপিং এজেন্টদের একজন প্রতিনিধিও রয়েছেন।