মৃত ব্যবসায়ী, অস্তিত্বহীন প্রতিষ্ঠান এবং বছরের পর বছর নিষ্ক্রিয় থাকা পরিবেশকের নামে প্রায় সাড়ে ৪ কোটি টাকা মূল্যের ৬৯ হাজার এলপিজি সিলিন্ডার খালাসের মাধ্যমে ভয়াবহ দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) অঙ্গপ্রতিষ্ঠান স্ট্যান্ডার্ড এশিয়াটিক অয়েল কোম্পানিতে (এসএওসিএল)। এসব অনিয়মের জেরে বিপিসি গত ৬ আগস্ট থেকে এসএওসিএলে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছে।
অভিযোগ উঠেছে, এসএওসিএলের কিছু অসাধু কর্মকর্তা টাকার বিনিময়ে পছন্দের পরিবেশকদের হাতে বাড়তি সিলিন্ডার তুলে দিতেই এই জালিয়াতির আশ্রয় নিয়েছেন। একজন পরিবেশকের মাসিক কোটা নির্দিষ্ট থাকায় তারা ভূতুড়ে ও নিষ্ক্রিয় প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স ব্যবহার করে অতিরিক্ত সিলিন্ডার তুলে বাজারে ৪০০-৫০০ টাকা বেশি দামে বিক্রি করে বিপুল মুনাফা করেছে।
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে যখন চকরিয়ার মৃত ব্যবসায়ী ফরিদুল আলমের ছেলে এ এম আরিফুল আলম এবং মিরসরাইয়ের নিষ্ক্রিয় ব্যবসায়ী বশির আহমদ ও ঢাকার মতিউল ইসলামের মতো পরিবেশকরা তাদের প্রতিষ্ঠানের নামে সিলিন্ডার খালাসের বিষয়টি জানতে পেরে এসএওসিএলে লিখিত অভিযোগ দেন। এসএওসিএলের নিজস্ব তদন্তেও ২১টি অস্তিত্বহীন, ৫টি নিষ্ক্রিয় এবং ৫৪টি মেয়াদোত্তীর্ণ লাইসেন্সধারী প্রতিষ্ঠানের নামে সিলিন্ডার খালাসের প্রমাণ মিলেছে।
এসএওসিএলের একটি তদন্ত প্রতিবেদনে এ অনিয়মের সঙ্গে কোম্পানির সাবেক সহকারী ব্যবস্থাপক মো. আবদুস সালাম মীর এবং কনিষ্ঠ কর্মকর্তা সুদীপ কুমার দেব, অসীম পারিয়াল, কায়ছার হামিদ ও সুপারভাইজার হযরত আলীর সম্পৃক্ততার কথা বলা হয়েছে, যদিও তারা ‘ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে’ কাজ করেছেন বলে দাবি করেছেন।
কোম্পানির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ফেরদৌসী মাসুম অনিয়মের বিষয়টি স্বীকার করে তদন্ত কমিটি গঠনের কথা জানিয়েছেন। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খানও জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।
কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্বালানি উপদেষ্টা এম শামসুল আলম বলেন, “অস্তিত্বহীন প্রতিষ্ঠানের নামে কীভাবে সিলিন্ডার খালাস হলো এবং এই সিলিন্ডারগুলো কোথায় গেল, তা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখে দায়ীদের শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।”