চট্টগ্রামের কক্সবাজার জেলার মহেশখালী ও কুতুবদিয়াকে কেন্দ্র করে দেশের বৃহত্তম বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও লজিস্টিক হাব গড়ে তোলার কার্যক্রম গতিশীল করতে ‘মহেশখালী সমন্বিত উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (মিডা)’ গঠন করা হয়েছে। এই সমন্বিত উন্নয়ন কর্মকাণ্ড সরেজমিনে দেখতে আগামী ২৫ আগস্ট মহেশখালী সফরে যাচ্ছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
এই উন্নয়নযজ্ঞের সূচনা হয়েছিল মূলত মাতারবাড়িতে জাপানের জাইকার সহায়তায় ১২শ মেগাওয়াট ক্ষমতার কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের মধ্য দিয়ে। কোল পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের (সিপিজিসিবিএল) এই বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য প্রতি মাসে প্রায় তিন লাখ টন কয়লা আমদানির প্রয়োজন।
এই বিপুল পরিমাণ কয়লাবাহী জাহাজ ভেড়ানোর জন্য ১৪.৩ কিলোমিটার দীর্ঘ, ২৫০ মিটার প্রশস্ত ও ১৬ মিটার গভীর একটি চ্যানেল খনন করা হয়। পরবর্তীতে জাপানি বিশেষজ্ঞদের পরামর্শে সেই চ্যানেলকেই ১০০ মিটার প্রশস্ত এবং ২ মিটার গভীর করে দেশের প্রথম গভীর সমুদ্রবন্দরে রূপ দেওয়া হয়, যা পুরো অঞ্চলের অর্থনৈতিক দৃশ্যপট পাল্টে দেওয়ার সম্ভাবনা তৈরি করেছে।
এই অঞ্চলে বিদ্যুৎ, জ্বালানি, বন্দর ও শিল্পখাতে বিচ্ছিন্নভাবে চলতে থাকা বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পকে এক ছাতার নিচে এনে সমন্বিতভাবে পরিচালনা করতে গত ২৩ জুন সরকার ‘মহেশখালী–মাতারবাড়ী ইন্টিগ্রেটেড ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভ’ প্রকল্পের আওতায় ‘মিডা’ গঠন করে। বাংলাদেশ বিনিয়োগ বোর্ডের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরীকে এর চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
মিডার অধীনে এই অঞ্চলকে কয়েকটি হাবে ভাগ করে উন্নয়ন পরিকল্পনা সাজানো হয়েছে। এর মধ্যে প্রাথমিক হাব হিসেবে থাকছে বন্দর ও লজিস্টিক হাব, শিল্প ও ম্যানুফ্যাকচারিং হাব, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি হাব এবং মৎস্য প্রক্রিয়াকরণ হাব। সহায়ক হাব হিসেবে গড়ে তোলা হবে একটি আধুনিক টাউনশিপ।
আগামী ২৫ আগস্টের সফরে প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস এই ‘মহাযজ্ঞ’ সরেজমিনে ঘুরে দেখবেন। তার সফরসঙ্গী হিসেবে নৌ পরিবহন উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার (অব.) ড. সাখাওয়াত হোসেন এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খানসহ কয়েকজন উপদেষ্টার থাকার কথা রয়েছে। মিডা চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী এ সময় ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাগুলো তুলে ধরবেন।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, প্রধান উপদেষ্টার এই সফর পুরো এলাকার উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের কর্মপরিকল্পনায় নতুন মাত্রা যোগ করবে।